আদর্শ গৃহিনী যেভাবে রান্নাঘর পরিষ্কার রাখেন

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaটিপস ও ট্রিক্সআদর্শ গৃহিনী যেভাবে রান্নাঘর পরিষ্কার রাখেন
Advertisements

রান্নাঘরে শাক-সবজি, ফল-মূল, মাছ-গোস্ত, মসলা, প্রভৃতি নানা ধরনের জিনিষ-পত্র নিয়ে কাজ করা হয়। এগুলোর সিংহভাগই পচনশীল। এই পচনশীল জিনিষ হতে দূর্গন্ধ তৈরী হয়। এছাড়া, তেলাপোকা দৌরাত্ম্য রয়েছে পৃথিবীর সব স্থানেই। এ কারণে রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জরুরী। আর, এই রান্নাঘরেই তৈরী পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য।

রান্নাঘরে নোংরা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরী হলে পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই, রান্নাঘরটি থাকতে হবে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে-তকতকে। এ জন্য নিতে হয় প্রয়োজনীয় সতর্কতা।

আসুন রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার কিছু প্রয়োজনীয় টিপস জেনে নেই।

১) লেবুর টুকরা রান্নাঘরের বিভিন্ন কোনায় রেখে দিলে দুর্গন্ধ দূর হয়; পোকামাকড়ও থাকে নিরাপদ দূরত্বে।

২) ময়লা ফেলার জন্য ঢাকনা লাগানো ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করা ভাল। মাছের আঁশটে থেকে রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি দূর্গন্ধ বের হয়। মাছ কাটা হয়ে গেলে একটা পলিথিন ব্যাগে সব ময়লা ভরে গারবেজ বিনে রেখে দিন।

৩) আপনার থালা-বাসন মাজার স্পঞ্জটি প্রতি ১৫ দিনে বদলে ফেলুন। এই বস্তুও রান্নাঘরে দুর্গন্ধের উৎস। আর ব্যবহৃত স্পঞ্জ প্রত্যেকদিন গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পরিষ্কার করার এই স্পঞ্জটিই জীবানু প্রধান উৎস।

৪) পানির সাথে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করুন। চুলা থেকে শুরু করে মেঝে পর্যন্ত, মনে করে বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন। গন্ধ একদম গায়েব হয়ে যাবে।

৫) রান্নাঘরে ভ্যাপসা গন্ধ জমে গেলে লেবু বা কমলার খোসা পানিতে জ্বাল দিন, সাথে যোগ করুন কয়েক টুকরো দারুচিনি। ফুটে উঠলেই দেখবেন দারুণ গন্ধ ছড়াচ্ছে। রান্নাঘরকে তাজা রাখতে খুব কাজে আসবে এই উপায়।

৬) রান্নাঘরের কোথাও একটি বাটিতে বেকিং সোডা বা ভিনেগার ভরে খোলা রাখুন। বাজে গন্ধ শুষে নেবে।

৭) থালাবাসন এর তেল-চর্বি পরিষ্কার করতে সাবানের সাথে গরম পানি ব্যবহার করুন। এতে চর্বি ভাব দূর হবে।

৮) রান্নাঘরে ব্যবহারের জন্য পছন্দের ফ্লেভারের এয়ার ফ্রেশনার অবশ্যই কিনে নেবেন।

৯) রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। রান্নার ধোঁয়া যেন বের হয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থাও অবশ্যই রাখুন।

১০) মাসে একদিন রান্নাঘর গরম পানি ও ডিটারজেনট দিয়ে অবশ্যই পরিষ্কার করুন।

১১) থালা বাসন বেসিনে জমিয়ে রাখবেন না। নিদেন পক্ষে পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর পরে মাজার জন্য রাখুন।

১২) ভাজা পোড়ার পুরনো তেল জমিয়ে রাখবেন না। তেল চিটচিটে কিছুই জমিয়ে রাখবেন না রান্নাঘরে।

১৩) রান্না ঘরে সিঙ্ক থাকলে প্লেট-ডিস ধোয়ার পর ভিম, বা সাবান, বা, ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।

১৪) রান্নাঘরের খাবার-দাবারের লোভে পিঁপড়া আর মাছির উপদ্রপ হবেই। পোকামাকড়ের উপদ্রপ থেকে বাঁচতে চিনির কৌটায় কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে পিঁপড়া আসে না। মাছি তাড়াতে পুদিনা পাতা বা তুলশী পাতা রান্না ঘরে রাখতে পারেন।

১৫) সপ্তাহে অন্তত একদিন দেয়াল আর সিলিং এর ঝুল পরিষ্কার করুন।

দিনের অনেকটা সময় ধরে একজন গৃহিনীকে রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই, রান্নাঘরকে পরিষ্কার রাখলে গৃহিনীরা রান্নাঘরে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। রান্নাঘর পরিষ্কার থাকলে পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্যও বজায় থাকবে।

ক্যাটাগরিঃ টিপস ও ট্রিক্স