আপনার গতিবিধিতে গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছে ফেসবুক

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিআপনার গতিবিধিতে গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছে ফেসবুক
Advertisements

ফেসবুক আপনার উপর প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালায়, তথ্য ফাঁস কাণ্ডের পর তা নিজেই জানিয়েছিলেন ফেসবুক কর্তা মার্ক জাকারবার্গ। এবার জানালেন ঠিক কী ভাবে আপনার গতিবিধিতে নজরদারি চালানো হয়।

ফেসবুক এখানেই থেমে থাকেনি। এমন অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন যারা এটা ব্যবহার করেন না। এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে তথ্য পেতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে।

মার্কিন সেনেটের ২ হাজারটি প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর মোবাইল, কম্পিউটার ও মাউস থেকে মূলত তথ্য সংগ্রহ করে ফেসবুক। তারা জানিয়েছে, ব্যবহারকারী মাউস নিয়ে কোন কোন দিকে যাচ্ছে, তা ট্র্যাক করেই ডেটা সংগ্রহ করে ও নজরদারি চালায়।

মাউসের নড়াচড়া থেকে ডেটা নিতে সুবিধা হয় ফেসবুকের। তাহলে মানুষ ও রোবোটের সঙ্গে পার্থক্য করতে সুবিধা হয়। এই নজরদারির পেছনে ফেসবুকের যুক্তি, ব্যবহারকারীর চাহিদা বুঝে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিতে সুবিধা হয়।

পুরুষ না কি মহিলা, কোন ধরণের প্রোফাইলে বেশি ঢুকছে ব্যবহারকারী, কাকে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে তাড়াচ্ছে, কোন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করছে, সব ডেটা সংগ্রহ করে প্রতিটি ব্যবহারকারীর ডেটা প্রোফাইল তৈরি করা হয়।

পৃথিবীতে ১.৪ বিলিয়ন ব্যবহারকারী বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার করেন। প্রতিষ্ঠানটি সবার তথ্যই সংরক্ষণ করে যাচ্ছে প্রতিদিন। অর্থাৎ ব্যবহারকারী কোন ধরণের লেখায় বা তথ্যে লাইক দিলেন, কোন তথ্যে বিরক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়া দিলেন বা কার প্রোফাইল কে দেখছে, সবই থাকে ফেসবুকের ডিজিটাল আর্কাইভ সিস্টেমে।

এমনকি, ব্যবহারকারীরা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে যে আলাপ-চারিতা চালান, সেটাও আর ‘ব্যক্তিগত’ নয়। ফেসবুক প্রতিনিয়ত ব্যবহারকারীর ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আদর্শ, সামাজিক মনোভাব, ইত্যাদি তথ্যের ভার্টিকাল ডাটা তৈরী করছে।

আরও ভয়াবহ ব্যাপার ব্যবহারকারীদের এই সকল তথ্য প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, বা, তাদের তথ্য পেতে, ফেসবুকের কাছে শত শত ফাইল চেয়ে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবছর ফেসবুক থেকে Global Government Requests Report প্রকাশ করা হয়ে, যেখানে বিভিন্ন দেশের ডাটা চাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত প্রকাশ করা হয়।

ব্যবহারকারীদের উপরে ফেসবুকের গোয়েন্দাগিরি নতুন নয়। ২০১৫ সালে বেলজিয়াম প্রাইভেসি কমিশন (বিপিসি) গোয়েন্দাগিরিরি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিল ফেসবুকের দিকে। ব্যবহারকারীদের ওপর ফেসবুকের এমন গোয়েন্দাগিরির বিষয়টিকে নাসার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বিপিসির প্রতিনিধি ফ্রেডিরিক ডুবুসেরে।

তার মতে, নাসা হুইসেলব্লোয়ারের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ ওপর গোয়েন্দাগিরি করে। বিপিসির অভিযোগ, সারা ইউরোপ ও বেলজিয়ামের প্রাইভেসি আইনের বিরুদ্ধে কাজ করছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। প্রমাণ হিসেবে বিপিসি জানায়, অব্যবহারকারী হয়েও যারা বিজ্ঞাপনের কারণে ফেসবুকে যুক্ত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করেছে ফেসবুক।

এ জন্য ফেসবুককে প্রতিদিন আড়াই লাখ ডলার জরিমানা করা উচিৎ বলে হুমকি দিয়েছিলে বিপিসি।

এছাড়াও আছে: