কোন দেশের হাতে কতগুলো পরমাণু অস্ত্র আছে?

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকোন দেশের হাতে কতগুলো পরমাণু অস্ত্র আছে?
Advertisements

জুলাই ৩, ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে ১৪,৯৩৫টি পরমাণু অস্ত্র (আণবিক বোমা) আছে৷ উইকিপিডিয়ার একটি আর্টিকেল অনুসারে পৃথিবীর ৭টি উন্নত দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

Treaty on the Non-Proliferation of Nuclear Weapons (NPT) এর সংজ্ঞা অনুসারে পাঁচটি দেশকে Nuclear-Weapon States হিসাবে ধরা হয়। পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটনোর সময়ক্রম অনুসারে দেশগুলো হল, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং চীন।

১৯৭০ সালে NPT চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও, ৩টি দেশ যারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নাই কিন্তু, পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে, সে দেশগুলো হল, ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও ২০০৩ সালে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।

ইসরাইলকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক ধরা হয় কিন্তু বাস্তবে তারা কোন পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায়নি। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর স্বক্ষমতাকে প্রকাশ্যে স্বীকার করে না, বরং এ নিয়ে সবসময়ই একটা ধোঁয়াশা তৈরী করে রেখেছে।

মনে করা হয়, ইসরাইলের কাছে বর্তমানে ৭৫ থেকে ৪০০টি পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ রয়েছে।

সাউথ আফ্রিকার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও, NPT চুক্তিতে স্বাক্ষর আগে সেগুলো নির্মূল করে ফেলে। এছাড়াও, সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত দেশ বেলারুশ, কাজাখাস্তান এবং ইউক্রেনের হাতে থাকা পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলে; পরবর্তীতে এই কর্মসূচী পরিত্যাগ করে।

স্নায়ু যুদ্ধকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীতে এই অস্ত্রের বিস্তার রোধে জাতিসংঘের একটি সংস্থা কাজ শুরু করে। এ সব বোমার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, কোন দেশের কাছে কতগুলো পারমাণবিক বোমা আছে৷

সারণীতে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত দেশসমূহ

[adinserter block=”1″]

দেশের নামপরিমাণ
রাশিয়া৭,০০০
যুক্তরাষ্ট্র৬,৮০০
ফ্রান্স৩০০
যুক্তরাজ্য২১৫
চীন২৭০
ভারত৩০
পাকিস্তান১৪০
ইসরায়েল৮০
উত্তর কোরিয়া২০

রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে বেশি

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট সিপ্রি-র তথ্য অনুসারে রাশিয়ার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আনবিক বোমা রয়েছে৷ দেশটিতে এ ধরনের বোমার সংখ্যা সাত হাজার৷ ১৯৪৯ সালে সেদেশ প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা করেছিল৷

দ্বিতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক বোমা বানিয়েছে এবং একমাত্র দেশ যারা এটা যুদ্ধে ব্যবহারও করেছে৷ দেশটির এখন ৬,৮০০ টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে৷

ফ্রান্সের পারমাণবিক বোমা ছোড়া হবে সাবমেরিন থেকে

ফ্রান্সের কাছে পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে তিনশ’র মতো৷ এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে সাবমেরিনে৷ দেশটির অন্তত একটি সাবমেরিন সবসময় পারমাণবিক বোমা নিয়ে টহল দেয়৷

চীনও পিছিয়ে নেই

২৭০টি পারমাণবিক বোমা আছে চীনের৷ রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সংখ্যাটা কম হলেও দেশটি ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়াচ্ছে৷ স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে এসব বোমা ছোঁড়া সম্ভব৷

যুক্তরাজ্যেরও আছে পারমাণবিক বোমা

২১৫টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে যুক্তরাজ্যের কাছে৷ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এই দেশটি ১৯৫২ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়৷

দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে পাকিস্তান

ইতোমধ্যে তিনবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান৷ দেশটির আছে ১৩০ থেকে ১৪০টি আণবিক বোমা৷ সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক বোমার সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশটি৷ অনেকে আশঙ্কা করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেশটির লড়াই কোন এক সময় পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে৷

থেমে নেই ভারত

ভারত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে৷ দেশটির কাছে আণবিক বোমার সংখ্যা ১২০ থেকে ১৩০টি৷ ভারত অবশ্য জানিয়েছে, তারা আগে কোনো দেশকে আঘাত করবে না, আর যেসব দেশের পারমাণবিক বোমা নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তারা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করবে না কোনোদিন৷

ইসরায়েল সম্পর্কে তথ্য কম

ইসরায়েল অবশ্য নিজের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেমন কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে না৷ দেশটির আশিটির মতো পরমাণু অস্ত্র (পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’) আছে বলে ধারণা করা হয়৷

উত্তর কোরিয়া সবার নীচে

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ থেকে ২০টির মতো পরমাণু অস্ত্র (পারমাণবিক বোমা) রয়েছে৷

বাংলাদেশের পারমাণবিক বোমা

বাংলাদেশের হাতে কোন পরমাণু অস্ত্র নেই। তবে, আণবিক শক্তি কমিশন নামে একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক বিদ্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি চালিত ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তির দুয়ার খুলে যায়। খুব শীঘ্রই এই বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

আরও পড়ুন: