ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে হতে পারে ক্যানসার

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যট্যালকম পাউডার ব্যবহারে হতে পারে ক্যানসার

গরমের দিন শুরু হয়েছে। সুতরাং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য সব প্রচেষ্টা চলছে, চলবেই। তেমনি চলবে ট্যালকম পাউডার। কারণ, ট্যালকম পাউডার আমাদের শিখিয়েছে “শরীরে এসি লাগানোর উপায়”। এটা মাখলেই এসি লাগানোর খরচ বেঁচে যাবে। তাই গরমের দিনে নাপার ডোজের মত ট্যালকম পাউডার দুইবেলা শিখে গেছে সবাই ।

কিন্তু এর মাঝেও কিন্তু থেকে যায়। ট্যালকম পাউডারের শরীর ঠাণ্ডা করার উপাদান হলো ট্যাল্ক। এই ট্যাল্কের মধ্যে থাকে বিশেষ করে এসবেসটস , ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন। এই এসবেসটসই শরীরের ক্যান্সার তৈরির উপাদান।

বিজ্ঞাপন আমাদের শিখিয়েছে মুখ, গলা, ঘাড়, বগল, উরুতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে। এই ট্যালকমের ট্যাল্ক বাতাসে ভেসে বেড়ায়। যা প্রবেশ করে শ্বাসের সাথে। সাথে সাথে ঢুকে পড়ে এসবেসটস। লাংগ ক্যানসার (Lung cancer) (mesothelioma) এর ইম্পোরট্যান্ট রিস্ক ফ্যাক্টর হলো এসবেসটস।

মেয়েরা তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের সাথে ব্যবহার করে ট্যালকম পাউডার। একই ভাবে ট্যালক প্রবেশ করে জননাঙ্গে। ধীরে ধীরে চলে যায় জরায়ু এবং ফেলোপিয়ান টিউব দিয়ে ডিম্বক বা ওভারীতে। সুতরাং, দ্রুত সেল ডিফারেনশিয়েসন এরিয়া ওভারিতে ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়।

ট্যালকম পাউডারে এসবেসটস এর উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়ায় Johnson & Johnson কোম্পানীকে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সুতরাং শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে এমন এমন কোনো জায়গায় ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনুচিত। সাথে করে ঘ্রাণ শুকাও মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে আসে, ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের ফলে নারীর জরায়ু ও ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। পণ্যটির এ অন্ধকার দিকের কথা সবখানেই চেপে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজিজ কেস বিশেষজ্ঞ এক ব্রিটিশ আইনজীবী।

ফিলিপ গোয়ার নামে ওই আইনজীবী সম্প্রতি ব্রিটিশ এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, অনেক নারীই জানেন না, ট্যালকম পাউডারের কারণে তারা কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এদের মধ্যে অনেকেই এখন হয়তো গুরুতরভাবে অসুস্থ। এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই হয়তো এর মধ্যে মারাও গেছেন, যাদের পরিবার এর পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এ কথা জানতে পেরেছে শুধু তাদের মৃত্যুর পরই।’

আরও পড়ুন:  ডিমের কুসুম খাওয়া কি ক্ষতিকারক?

তিনি আরো বলেন, ‘এটি অনেক বড় এক স্ক্যান্ডাল এবং এ স্ক্যান্ডালের মাত্রা দিন দিন আরো বাড়ছে।

ফিলিপ গোয়ারের বক্তব্য, ‘এটি এখন অনেক বড় একটি সমস্যা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা শুধু এর সামান্য আঁচড়ই কেটে গেলাম। এ তো রীতিমতো সক্রিয় এক টাইম বোমার মতো।’

চলতি বছরের এপ্রিলেই যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের এক মামলায় জয়লাভ করে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন নিউজার্সির এক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার।


Update: অক্টোবর ১৮, ২০১৯ তারিখে অনলাইন পত্রিকা Business Insider থেকে Johnson & Johnson এর Baby power নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, Johnson & Johnson বাজার থেকে তাদের বেবি পাউডারের এক লট প্রোডাকশনের সম্পূর্ণ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঐ ব্যাচের baby powder এ এ্যাসবেসটসের (asbestos) এর মিশ্রন রয়েছে। শিশুদের ক্যান্সারের জন্য এই এ্যাসবেসটসকে দায়ী করা হয়।

শুধু তাই নয়, এই খবর অনলাইন পত্রিকাগুলোর প্রকাশিত হওয়ার পর, জনসন এন্ড জনসন এর শেয়ার মূল্যমাণ ২.৩ শতাংশ অবনতি হয়।


তাই, সময় থাকতে সচেতন হোন। নিজে বাঁচুন, অন্যকেও সচেতন হতে সাহায্য করুন।

সূত্র: “5 Minute Medical” এবং ডেইলি মিরর


আরও পড়ুন

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য