ডিমের কুসুম খাওয়া কি ক্ষতিকারক?

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যডিমের কুসুম খাওয়া কি ক্ষতিকারক?
Advertisements

‘ডিমের কুসুম (yolk) খেলে শরীর মুটিয়ে যায়, কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে’ ধারণাটি বহুদিনের পুরনো । সত্যতা কতটুকু না জানলেও এটা মেনে চলেন অনেকেই। তবে কুসুম খাওয়ার রয়েছে অনেক উপকারিতাও । ‘করাটেনোয়েডস’ নামক পুষ্টি উপাদানের জন্য শাকসবজির উপর জোর দেন অনেকেই।

 

ডিমের কুসুমের পুষ্টিগুণ

ডিম অমূল্য, উচ্চমানের প্রোটিনের একটি খুব ভাল উৎস। ডিমের হলুদ অংশের (yolk) তুলনায় সাদা অংশের রয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি প্রোটিন! সাথে আরও রয়েছে ভিটামিন বি২, অল্প মাত্রায় ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল। শুধু কি তাই! ডিমের সাদা অংশের রয়েছে সেলেনিয়াম, ভিটামিন ডি, বি৬, বি১২; এছাড়াও রয়েছে জিঙ্ক, আইরন এবং কপারের মত মিনারেলগুলো।

ডিমের কুসুম পরিপূর্ণ রয়েছে ক্যালোরি আর ফ্যাট দিয়ে। এটি কলেস্টেরল, চর্বিযুক্ত দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E এবং K এবং লেসিথিনের উৎস।

কিছু ব্র্যান্ডের ডিমের এখন ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যার উৎস আসলে মুরগিকে ফার্মে কি ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়েছে তার উপরে নির্ভর করে (ডিমের কন্টেইনারে দেখলে জানা যাবে)।

শরীর গঠনের জন্য যে অত্যাবশ্যকীয় ৯টি অ্যামাইনো এসিডের যোগান দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তার সব ক’টি ডিমের মধ্যে বিদ্যমান। তাই ডিমকে ‘প্রোটিনের আদর্শ উৎস’ হিসাবে গণ্য করা হয়। এই অত্যাবশ্যকীয় প্রোটিনগুলো অন্যান্য বাহ্যিক উৎস থেকে শরীরে আলাদাভাবে যোগান দিতে হয়, কারণ, এগুলো শরীরে খাবারের হজম প্রক্রিয়ার কোন অংশেই তৈরী হয় না। এ জন্য ডিমকে ‘গরীরের গোস্ত’ বলা হয়ে থাকে।

 

ডিমের কুসুম খাওয়ার উপকারিতা

ডিমের কুসুমে থাকে ‘লুটিন’ ও ‘জিয়ান্থিন’ নামক দুই ধরনের ক্যারাটেনোয়েডস। যা চোখকে অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রতিদিন ডিমের কুসুম খেলে বার্ধক্যজনিত চোখের সমস্যা রোধ হয়।

ডিমের কুসুমে থাকে ‘কোলিন’। এটি একটি খাদ্য উপাদান যা শরীরের সকল কোষের সাধারণ কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

কুসুমের আরেকটি উপাদানের নাম ‘বেটাইন’, যা রক্তে ‘হোমোসিস্টেইন’য়ের মাত্রা কমায়। রক্তকণিকায় হোমোসিস্টেইনের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তার মানে ডিমের কুসুম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ‘স্যাচারেইটেড ফ্যাট’ বা যে চর্বি সর্বোচ্চ পরিমাণে জল ধরে রাখে, যা আপনার শরীরের শত্রু নয়। আর কোলেস্টেরলের সমস্যা আগে থেকেই না থাকলে ডিমের কুসুমের কোলেস্টেরল ক্ষতিকর নয়।

মনে রাখবেন পরিমাণ মতো খেলে কোনও খাবারই শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। তাই ডিমে অ্যালার্জি না থাকলে নিশ্চিন্তে কুসুমসহ ডিম খেতে পারেন।

 

আপনি কি জানেন?

health benefits of eggs poached eggs

পেডিয়াট্রিকস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে পরামর্শ দিয়েছে যে, ছয় মাসের জন্য একজন অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়েকে প্রতিদিন স্বাভাবিক খাবারের সাথে একটি ডিম খাওয়ালে, তাদের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ও সুষম দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।

 

সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিম

ডিমের রয়েছে প্রচুর পরিমানে বেটাইন ও কোলাইন, যা মানব শরীরে যোগান দেয় বিভিন্ন ধরণের মিনারেল এবং হৃদপিণ্ড সতেজ রাখে। সাম্প্রতিক চীনে ৫ লক্ষ মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, যারা দিনে একটি ডিম খান, তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যান্যদের থেকে কমে যায়।

তবে, যারা মধ্য বয়স্কদের প্রতিদিন ডিম খাবার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহনের জন্য উৎসাহিত করা হয়, যাতে তারা অনাকাঙ্খিত জটিলতা এড়িয়ে দীর্ঘদিন নিরোগ থাকার সুফল পেতে পারেন।

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য