দ্রুততম সুপার কম্পিউটার এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিদ্রুততম সুপার কম্পিউটার এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে
Advertisements

দ্রুততম সুপারকম্পিউটারে এতদিন ছিল চীনের ঘরে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দ্রুততম সুপারকম্পিউটার তৈরী করার সক্ষমতা ফিরে পেল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সুপার কম্পিউটারের নাম রাখা হয়েছে “সামিট সুপারকম্পিউটার মেশিন”, Summit supercomputing machine। এত দিন দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের স্থান ধরে রেখেছিল চীনের Sunway TaihuLight

৮ জুন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ থেকে উন্মুক্ত করা হয় কম্পিউটারটি।

তাত্ত্বিকভাবে সামিট প্রতি সেকেন্ডে ২০০ পেটাফ্লপ, বা ২০০,০০০ টেরাফ্লপ হিসাব নিকাষ করতে সক্ষম। হিসাবে সামিট’র সক্ষমতা আর মানুষের সক্ষমতার তুলনার উদাহরণে বলতে হয়, আনুমানিক ৬৩০ কোটি মানুষ একই সাথে, একই গতিতে, এক বছরে যে পরিমাণ হিসাব-নিকাষ করতে পারে, সামিট তা “এক সেকেন্ড” এ করতে পারে!

সুপারকম্পিউটিং প্রযুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত উন্নতি করছে। শুধু এক দশক আগে, পৃথিবী তখন একটি মেশিনও তৈরি করেনি যা এমনকি একটি একক পেটফ্লপ (অথবা ১,০০০ টেরাফ্লপ) অতিক্রম করতে পারত। এখন, মাত্র এক বছরে, আমরা ১২৫ পেটেফ্লোপ থেকে ২০০ পর্যন্ত তৈরী করা পারছি।

সামিট সুপারকম্পিউটারের সার্কিট বোর্ড
Image credit: Oak Ridge National Laboratory

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের দ্রুততম কম্পিউটার থেকে আটগুণ শক্তিশারী সুপারকম্পিউটার সামিট দেশটির সুপারকম্পিউটিং প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। ওক রিজ টিম বলছেন যে, এই সিস্টেমটি নির্মাণের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে। এটি হচ্ছে প্রথম সুপারকম্পিউটার যা মূলত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাপ্লিকেশানগুলিতে ব্যবহারের কাজে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

এটা অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা এখন নতুন স্পেস রেস হয়ে উঠেছে; সারা বিশ্বের দেশগুলি এ ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব থেকে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইইউ এবং কানাডা, সবাই এআই গবেষণাতে গভীরভাবে বিনিয়োগ করেছে।

এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের দ্রুততম মেশিনের মালিক হওয়া সত্ত্বেও, চীন এখনও সামগ্রিকভাবে অধিক সংখ্যক সুপারকম্পিউটারের পরিচালনা করে।

সুপারকম্পিউটারগুলি অগণিত ব্যবহার করে, যা অনেকগুলি জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের সাধারণ কল্যাণে অপরিহার্য।উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জলবায়ু ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন জলবায়ু প্রবণতা এবং মডেল আবহাওয়ার অনুমানের পূর্বাভাসের জন্য সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে। এনার্জি দপ্তর তাদের পারমাণবিক সিমুলেশন চালানোর জন্য ব্যবহার করে; পাশাপাশি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে এর ব্যবহার রয়েছে।

এনক্রিপশন কোড ক্র্যাক করার জন্য ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং অনুরূপ সরকারি সংস্থাগুলি সুপার কম্পিউটারের উপরে নির্ভর করে। এই শক্তিশালী মেশিনগুলি ব্যাপক ড্যাটাসেট ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয়। উন্নত জিনোমিক গবেষণা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে আশাপ্রদ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি।

আরও শক্তিশালী মেশিন লার্নিং এবং নিউরাল-নেটওয়ার্ক সক্ষমতা, এই সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখবে এবং সম্ভাব্যভাবে, সামিট সুপার কম্পিউটার একাজে নেতৃত্ব দিবে।

ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের সুপারকম্পিউটার তৈরীতে সামিট একটি নতুন পথে পদার্পন করল। এই পথ ধরেই একদিন এক্সাফ্লপ সুপারকম্পিউটার তৈরী হবে, যা কি না প্রতি সেকেন্ডে ১,০০০ পেটাফ্লপ ক্যালকুলেশন করতে সক্ষম হবে।

মার্কিন সরকার ইতোমধ্যে একাধিক এক্সাফ্লপ সুপারকম্পিউটার তৈরী ও সরবরাহের জন্য প্রযুক্তি নির্মাতাদের সাথে কথা বলেছেন এবং জ্বালানি সচিব রিক পেরি গতকাল বলেছেন যে তারা, ২০২১ সালের মধ্যে প্রথমটি সরবরাহ করতে চান।

এই প্রচেষ্টাকে মূলত সুপারকম্পিউটিং তৈরীর প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখার জন্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার তৈরীর বছরওয়ারী ট্রেন্ড

দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার তৈরীর বছরওয়ারী ট্রেন্ড

কোন দেশের হাতে কতগুলো সুপারকম্পিউটার আছে