পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সবচেয়ে দুর্বল ৭টি রণতরী

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaআন্তর্জাতিকপৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সবচেয়ে দুর্বল ৭টি রণতরী
Advertisements

সারা পৃথিবীতে কমপক্ষে ১৪টি দেশের নৌবাহিনীর অন্তত ৪২টি কমিশনড বিমানবাহী রণতরী (aircraft carrier) রয়েছে। আকার ও দৈর্য্য অনুযায়ী বিমানবাহী রণতরীগুলোর বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কোন কোন রণতরীতে থাকে এক ঝাঁক ফাইটার বিমান, ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার প্লেন। কোন কোনটা শুধু হেলিকপ্টার বহন করে। আবার, কিছু রণতরী আছে, যা চালানোর পুরো শক্তিই আসে পারমাণবিক রিয়্যাকটর থেকে, কিছু জাহাজ চলে গ্যাসে।

রণতরীগুলোর কোন কোনটাতে উল্লম্বভাবে বিমান উঠা ও নামার (vertical take-off and landing) সুবিধা আছে। আবার, কোনটাতে লিভার-বেসড ক্যাটাপল্ট দিয়ে টেনে নিয়ে বিমান উড়ানো হয়। এগুলোতে ফাইটার বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় স্পীড কমানোর জন্য এর লেজের সাথে একটা শক্ত ইস্পাতের তৈরী দড়ি পড়িয়ে দেয়া হয়, যাকে বলা হচ্ছে “arrested recovery”।

স্পেসিফিকেশন যাই হোক না কেন, কাজের সময় যদি এটি ভেঙ্গে পড়ে বা যুদ্ধের সময় এর যে ফায়ার পাওয়ার, সেটা যদি পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহার না করতে পারে, তবে এই রণতরীগুলো নৌবাহিনীর তেমন কোন কাজে আসবে না। শত্রুর একবার আক্রমণেই সাগরের অর্থৈ পানিতে সলিলসমাধি ঘটবে।

এই লেখাতে পাঠকদের জন্য বিভিন্ন দেশের ৭টি রণতরীর তালিকা সংকলন করা হয়েছে, যাদের এক বা একাধিক বার মধ্যপথে নষ্ট বা অকেজো হয়ে যাওয়ার ইতিহাস আছে। এছাড়াও, মিশনে গেলে এগুলো কি কি সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের আসল কাজে ব্যর্থ হয়ে পড়বে, সে সম্পর্কেও জানব।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দূর্বল ৭টি রণতরী

লিয়াওনিং ১৬, চীন (Liaoning 16, China)

লিয়াওনিং (১৬), চীন Liaoning, China

চীনের লিয়াওনিং রণতরীটি ২০১২ সালে তাদের নৌবাহিনীতে কমিশন দেয়া হয়। এটি একটি রাশিয়ার কিয়েভ-ক্লাশ (Kiev-class) বিমানবাহী রণতরী। এটি আসলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ছিল। এটি করায়ত্ত করতে বেইজিংকে একটা চালাকি করতে হয়। হংকং এর একজন ব্যবসায়ীকে ইউক্রেনের কাছে পাঠিয়ে বলানো হয় যে, রণতরীটিকে ক্যাসিনো হিসাবে ব্যবহার করা হবে। ব্যস! বেচাবিক্রির পর সোজা চীনের হাতে তুলে দেয়া হয় রণতরীকে।

পরে লিয়াওনিংকে ২০১২ সালে চালু করা হয়, এটি চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরী। কিন্তু কয়েক বছর পরেই, লিয়াওনিং এ কারিগরী ত্রুটি দেখা দিতে থাকে। সম্প্রতি একটি ঘটনায়, এর একটি স্টিম সিস্টেমে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো জাহাজের বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেম উড়ে যায়।

আসলে সোভিয়েত কিয়েভ-ক্লাশ রণতরীগুলোর সার্বিক ব্যবস্থার উপরে আস্থা রাখা যায় না। লিয়াওনিং এর ভাগ্যেও একই অবস্থা হয়েছে। চীন এটিকে বর্তমানে তাদের নৌসেনাদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করছে।

অ্যাডমিরাল কুজনেৎসভ ০৬৩, রাশিয়া (Admiral Kuznetsov 063, Russia)

Admiral Kuznetsov, Russia

কুজনেৎসভ একটি কিয়েভ-শ্রেণীর ক্যারিয়ার। এটিতে বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে এবং ২০২১ সালের আগে একে রাশিয়ার নৌফ্লিটে সার্ভিসে নিয়ে আসা সম্ভব হবে না। ২০১৬ সালের অক্টোবরে শেষবারের মত এই রণতরীকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে দেখা গেছে। সে সময়ে সিরিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এটিকে আশেপাশের সাগরে মোতায়েনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

সেন্টার ফর ন্যাভাল অ্যানালিসিস এর প্রাজ্ঞ গবেষক দিমিট্রি গোরেনবার্গ বলেন, “এর উপরে আস্থা রাখা যায় না”। তিনি আরও যোগ করেন, “জাহাজের প্রধান সমস্যাটি হচ্ছে এটির খুব সমস্যাযুক্ত প্রপেলার ব্যবস্থা রয়েছে”।

১৯৯৫ সালে রাশিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর, কুজনেৎসব জাহাজ খুব বাজে ধরনের কারিগরী ত্রুটি দেখা যায়। দীর্ঘ দুই বছর মেরামতের পর ১৯৯৮ সালে আবার এটিকে সাগরে নামানো হয়।

সম্প্রতি ‘The National Interest’ কুজনেৎসভকে পৃথিবীর ৫টি সবচেয়ে খারাপ এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

চাকরি নারুবেত ৯১১, থাইল্যান্ড (Chakri Naruebet 911, Thailand)

চাকরি নারুবেত ৯১১, থাইল্যান্ড (Chakri Naruebet 911)

থাইল্যান্ডের রণতরী “চাকরি নারুবেত ৯১১”। ২০০৬ সালে নৌবাহিনীর সার্ভিসে যুক্ত করা হয়। প্রথমে এটিকে বিমানবাহী রণতরী করার পরিকল্পনা থাকলেও, মূলত বাজেট স্বল্পতার কারণে পরে হেলিকপ্টার কেরিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

২০০৪ সালে ভারতের সুনামি পরবর্তী দূর্যোগ মোকাবেলা এবং থাইল্যান্ডে ২০১০ ও ২০১১ সালে বন্যার সময় পানিবদ্ধ মানুষের উদ্ধার তৎপরতায় এটিকে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, অন্য কোন অর্থবহ কাজে লাগছে না এই বিশালাকায় জলজ যুদ্ধযানটি। থাই নৌবাহিনীতে গত ২০ বছর ধরে রণতরীটি বন্দরেই পরে আছে।

চাকরি নারুবেত’র ডিজাইনগত কোন ত্রুটি নেই, কিংবা এটিকে বারবার মেরামত করা লাগছে না, কিন্তু, মিলিয়ন ডলারের রণতরী কি বসে থাকার জিনিষ! এর যা কাজ, সেই কাজে না লাগানোর জন্য আমরা সানন্দে এই রণতরীকে ‘বাজে রণতরী’র লিস্টে বসিয়ে দিয়েছি।

ইউএসএস ওয়াসপ এলএইচডি-১, যুক্তরাষ্ট্র (USS Wasp LHD-1, America)

ইউএসএস ওয়াসপ এলএইচডি-১, যুক্তরাষ্ট্র (USS Wasp LHD-1, America)

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী ‘দ্য ওয়াসপ’ একটি উভচর আক্রমণ জাহাজ (assault ship) যা সম্প্রতি এফ-৩৫বি (F-35B) বহন করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু, ২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বড় কোন সামরিক তৎপরতায় এই জাহাজটির উপস্থিতি দৃশ্যত দেখা যায় নাই।

এর কারণ কি তা বুঝতে হলে আমাদের স্মরণ করতে নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্রের মন্তব্য। ২০১৩ সালের দিকে তিনি জানিয়েছিলেন যে, এই জাহাজকে নৌবাহিনীর ‘জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার টেস্ট প্ল্যাটফর্ম’ হিসাবে ব্যবহারের জন্য ‘পরিবর্তিত’ করা হচ্ছিল। কিন্তু সেটাও তো ২০১১-২০১৩ সময়ের কথা।

কিন্তু, ঐ মুখপাত্রের কথার সাথে একমত নন নেভির অবসরপ্রাপ্ত মেরিন জেনারেল। তিনি ২০১৩ সালে জানিয়েছিলেন, ‘যে কারণ বলা হচ্ছে তা আসলে সিআইএ’র গা বাচানো কথা। এই জাহাজকে কাজে না লাগানোর অন্য কোন কারণ আছে। এক রণতরীকে এত বছর ধরে বসিয়ে রাখার আসলে কোনই মানে নাই।’

৫ম প্রজন্মের অত্যাধুনিক ফাইটার জেট এফ-৩৫বি সজ্জিত দ্য ওয়াসপ’কে শেষ বারের মত দেখা যায় জাপানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ঘাটিতে। এরপর আগস্ট মাসের শুরুতে একে প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল। সেখানে নেভির কর্তাব্যক্তিগণ জাহাজে এমন কিছু ত্রুটি আবিষ্কার করেন, যা আসলে ঐ জাহাজে থাকার কথা নয়। যদিও এ ব্যাপারে নেভির পক্ষ থেকে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৩ সালে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি রিপোর্টে বলা হয়, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যদি কোন শূন্যতা তৈরী হয় যে কারণে মানুষ চিন্তিত হতে পারে, এই জাহাজটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ’।

এইচএমএএস ক্যানবেরা এল০২, অস্ট্রেলিয়া (HMAS Canberra L02, Australia)

এইচএমএএস ক্যানবেরা এল০২, অস্ট্রেলিয়া (HMAS Canberra L02, Australia)

অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীতে ২০১৪ সালে সার্ভিসে যুক্ত হওয়ার পর এইচএমএএস ক্যানবেরা এল০২ রণতরীটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অস্ট্রেলিয়ার নেভির এ রকম দু’টি হেলিকপ্টারবাহী রণতরী রয়েছে।

যদিও ২০১৮ সালের RIMPAC (Rim of the Pacific 2018) মহড়ায় অংশগ্রহণ করে এটি। সে সময় এই জাহাজের প্রধান চালিকা শক্তি, প্রোপালশন সিস্টেমে গোলযোগ ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের মার্চে এইচএমএএস ক্যানবেরা’কে মেরামতের জন্য নৌবন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে যে মেরামত শেষ হওয়ার কথা, সেটা দু’মাসেও শেষ হল না। মে ২০১৭’র পরেও এটা মেরামতের মধ্যেই থাকল।

এবিসি ডট নেটের সাথে এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল এ্যাডমিরাল অ্যাডাম গ্রুনসেল বলেন, “এটার আসলে ডিজাইনে সমস্যা ছিল”।

বিশদ খোজাখুজির পরে জানা যায়, রণতরীর ইঞ্জিনের একটি ছিদ্র দিয়ে জ্বালানী তেল বের হয়ে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছিল।

এইচ.এম.এ.এস অ্যাডেলেইড এল০১, অস্ট্রেলিয়া (HMAS Adelaide L01)

এইচ.এম.এ.এস অ্যাডেলেইড এল০১, অস্ট্রেলিয়া (HMAS Adelaide L01)

অস্ট্রেলিয়ার এটি হল দ্বিতীয় হেলিকপ্টারবাহী রণতরী। অস্ট্রেলিয়ান নেভিকে সার্ভিস দেয়ার জন্য ২০১৫ সালে যুক্ত করা হয় এইচ.এম.এ.এস অ্যাডেলেইড এল০১ রণতরীকে। এটিও ২০১৮ সালের নৌযুদ্ধ মহড়া RIMPAC এ অংশগ্রহণ করে। হেলিকপ্টারবাহী অন্য রণতরীর মতই এরও একই সমস্যা দেখা দেয়।

নিয়মানুযায়ী ২০১৭ সালের মার্চে এটি এইচ.এম.এ.এস অ্যাডেলেইড এল০১ কে ক্যানবেরায় অবস্থিত নৌঘাটিতে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়।

পাঠকরা নিশ্চয় এতক্ষণ জেনে গেছেন, এইচএমএএস ক্যানবেরা এল০২ এবং এইচ.এম.এ.এস অ্যাডেলেইড এল০১, দু’টো জাহাজই একই সময়ে নৌবাহিনীতে কমিশন দেয়া হয়েছিল। একই প্রস্তুতকারকের কাছে থেকে ক্রয় করায় এদের প্রত্যেকেরই একই ডিজাইন সমস্যা দেখা দেয়।

ইউ.এস.এস. জেরাল্ড আর. ফোর্ড সিভিএন-৭৮, যুক্তরাষ্ট্র (USS Gerald R. Ford CVN-78, America)

ইউ.এস.এস. গেরাল্ড আ. ফোর্ড সিভিএন-৭৮, যুক্তরাষ্ট্র (USS Gerald R. Ford CVN-78, America)

পৃথিবীতে যতগুলো সুপার বিমানবাহী রণতরী তৈরী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী ‘ইউ.এস.এস. জেরাল্ড আর. ফোর্ড সিভিএন-৭৮’ তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও যুদ্ধপারঙ্গম রণতরী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কথা ছিল, সাগর-মহাসাগরের পানির রাশিকে তোলপাড় করে ভেসে চলবে, বাস্তবে তা হতে পারছে না এই রণতরীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে কমিশন পাওয়ার পর এই জাহাজটিতে একের পর এক গোলযোগ দেখা দিয়েই যাচ্ছে। নেভিতে সার্ভিসে আসার এক বছর পরও পুরোপুরি কর্মক্ষম হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি।

ফলে, এপ্রিল ২০১৭ এবং জানুয়ারী ২০১৮ সালে দু’দুবার একে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়। জাহাজে ইঞ্জিনের প্রপেপার থেকে ঘূর্নন শক্তি পাওয়ার পর একে থ্রাস্টে পরিণত করে জাহাজকে সামনে দিকে নিয়ে যাওয়ার যে প্রযুক্তি, সেখানে সমস্যা হচ্ছিল বারবার।

২০১৮ সালের মে মাসে ফোর্ডকে পরীক্ষা করার জন্য সাগরে নামানো হয়। কিন্তু, এবারও জাহাজের প্রোপালশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। সাগরে নামানোর তিন দিনের মাথায় একে মেরামতের জন্য আবারও পোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।

মেরামত চলাকালে রণতরীটির যে ত্রুটি ধরা পড়ে, তা নেভি ও ফাইটার প্লেনের পাইলট, কারও জন্য সুখকর ছিল না। বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য ইউ.এস.এস. জেরাল্ড আর. ফোর্ডে স্টেট-অব-দ্য-আর্ট ‘ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম’ (Electromagnetic Aircraft Launch System) এবং এ্যাডভান্সড অ্যারেস্টিং গিয়ার (Advanced Arresting Gear System, বা, AAG) সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল। বারংবার চেষ্টাতেও এই ত্রুটি দূর করা যাচ্ছিল না।

এদিকে, নেভির কর্মকর্তাদের ভ্রুতে বিরক্তির ছাপ বড় হচ্ছিল। তারা চাইছিলেন, যত দ্রুত এটিকে সাগরে ভাসানোর ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু, পোর্ট থেকে প্রতিবারই বলা হচ্ছিল যে, মেরামতের কাজের উন্নতি হচ্ছে।

যা হোক, মে মাসে এ্যাডভান্সড অ্যারেস্টিং গিয়ারের ত্রুটি দূর করা হয়। এবার এর পরীক্ষার পালা। ফোর্ডে অবতরণের জন্য একটা পরিবহন বিমান সি২-এ কে পাঠানো হয়। এবার ফোর্ডের অ্যারেস্টিং সিস্টেম ঠিক ভাবেই কাজ করতে সক্ষম হয়।

ফোর্ডের সমস্যাগুলোর কারণে বাজে রণতরীর লিস্টে একে অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে নারাজি ছিলেন প্রখ্যাত জাহাজ বিশেষজ্ঞ এরিক ওয়ার্থহিম (Eric Wertheim)।

ফোর্ডের ব্যাপারে মতামত চাওয়া হলে তিনি বলেন, “জটিল যুদ্ধাজাহাজ ও ততোধিক জটিল এদের যুদ্ধাস্ত্রগুলোর ত্রুটির সারিয়ে এগুলোকে নিখুঁত হয়ে উঠতে একটু সময় লাগে। আপনি যদি সফল ও নিখুঁত রণতরী ও যুদ্ধাস্ত্রগুলোর দিকে তাকান, আপনি খেয়াল করবেন যে, এগুলোর কোন কোনটার শুরু খুব বাজেভাবে হয়েছিল। কিন্তু, পর্যায়ক্রমিক উন্নতির ফলে সেগুলো পারফরমেন্স নিখুঁত হয়ে উঠে”।

ওয়ার্থহিম আরও যোগ করেন, “কোন যুদ্ধজাহাজ এক যুগ বা তার বেশি সময় ধরে আশানুরুপ কর্মদক্ষতা দেখাতে না পারে, বুঝে নিতে হবে, এর ডিজাইনই ত্রুটিপূর্ণ”।

আরও পড়ুন:

ক্যাটাগরিঃ আন্তর্জাতিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.