পৃথিবীর ২৫টি সবচেয়ে বিষধর সাপ (Venomous snakes)

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaপ্রাণীজগৎপৃথিবীর ২৫টি সবচেয়ে বিষধর সাপ (Venomous snakes)

আচ্ছা কখনও চিন্তা করেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ কোনটি? সাপ দেখলেই গা শিউরে উঠে। শরীরে বিদ্যুৎ খেলে যায়! লাফ দিয়ে উঠে চোখের নিমিষে একশ’ হাত দূরে ছুটে যাইতে ইচ্ছা করে। টেকনিক্যালি সাপ নয়, বরং সাপের বিষের প্রতিক্রিয়ায় মানুষ মারা যায়।

এই লেখায় আমরা পৃথিবীতে আমাদের পরিচিত সাপগুলোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে বিষধর কিছু সাপের কথা সংকলন করেছি। লেখাটি কেমন লেগেছে তা আমাদের ফেসবুক, টুইটার বা গুগল+ ফ্যানপেজে শেয়ার করুন।

বিষধর প্রাণীদের মধ্যে সাপের কথা সবচেয়ে বেশী শোনা যায়। সব সাপ বিষধর নয়। বিষধর সাপের বিষ একজন সুস্থ্য মানুষকে ৩০ মিনিট বা তারও কম সময়ের মধ্যে পরপারে পাঠিয়ে দিতে পারে। আক্রান্ত হলে সাপ তাদের বিষাক্ত ছোবলের মাধ্যমে শিকারী বা আক্রমণকে ঘায়েল করে; এটা তাদের প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

সাপকে পৃথিবীর সব জায়গাতে দেখতে পাওয়া যায়। বিরান, শুষ্ক মরুভূমি থেকে শুরু করে, বাড়ির আরামদায়ক বেডরুমে খাটের নিচে; বা বাড়ির পিছনের উঠানের ঝোপ-ঝাড়ে। যাদেরকে একবার সাপে কেটেছে, তাদের কাছে থেকে বিষের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পর্কে জানা যায়। বিষের প্রতিক্রিয়ায় দম বন্ধ হয়ে যায়, বমি আসে, গা গুলানো ভাব হয়, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবস বা শরীর প্যারালাইজ হয়ে যেতে পারে। সাপে কাটা ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা না করলে তার তিলে তিলে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়। সময়মত এন্টি-ভেনিন (antivenin) ইনজেকশন দিয়ে অনেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন, কিন্তু যাদের হাসপাতাল পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হয় না, তারা মৃত্যু মুখে পতিত হন।

একটা কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার যে, মানুষ দেখলেই সাপ কাপড়াবার জন্য তেড়ে আসে না। বরং, উল্টাটাই সত্য! সাপ ঝামেলা এড়িয়ে থাকতে পছন্দ করে। সাপদের এই স্বভাবটা মানুষের মনে রাখা প্রয়োজন। কখনও যদি সাপের সামনে পড়ে যান, তবে তাকে উত্যক্ত না করে; সাপকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে যান।

জারারাকা (Jararaca)

জারারাকা (Jararaca)

বিষধর সাপ হিসাবে জারারাকা কুখ্যাত। ধনী ও ঘনবসতিপূর্ণ ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে ১৯০২ থেকে ১৯৪৫ থেকে ৩,৪৪৬টি সর্পদংশনের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ২৫% ক্ষেত্রে জারারাকা সাপটি দায়ী। আর, এদের কামড়ে ২৫ জন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

ভাইপার (Viper)

ভাইপার (Viper)

বিষধর সাপের প্রজাতির মধ্যে ভাইপার সাপের বিষয় সবচেয়ে কুখ্যাত। এদের বিষ নিউরোটক্সিক টাইপের। এই সাপের কামড়ে তাদের শিকারীর শরীর অবশ হয়ে যায়। এদের শিকারের তালিকা রয়েছে ইদুর ও ছোট ছোট প্রাণী।

ওয়েস্টার্ন গ্রিন মামবা (Western Green Mamba)

ওয়েস্টার্ন গ্রিন মামবা (Western Green Mamba)

সাধারণত: রেইন ফরেস্ট, ঘন ঝোপ-ঝাড় এবং পশ্চিম আফ্রিকার বন-জঙ্গলে ওয়েস্টার্ন গ্রিন মামবা’র আধিক্য দেখা যায়। এরা খুব সতর্ক, নার্ভাস আর, চলনে-বলনে খুব চটপটে।

অন্যান্য মামবাদের মতই ওয়েস্টার্ন গ্রিন মামবা খুবই বিষধর এলাপিড প্রজাতির সাপ। এদের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা না করালে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাবে।

ইস্টার্ন গ্রিন মামবা (Eastern Green Mamba)

ইস্টার্ন গ্রিন মামবা (Eastern Green Mamba)

মামবা প্রজাতির সবার মত ইস্টার্ন গ্রিন মামবাও অত্যন্ত বিষয়ধর সাপ। এদের বিষ এতটাই বিষাক্ত যে, এক ছোবলে একজন ব্যক্তির শরীরে যে বিষ ঢেলে দেয়, তাতে ৩/৪ জন ব্যক্তি মারা পড়বে। এদের বিষ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের হার্ট, মাংশপেশী, কোষে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নার্ভকে আক্রান্ত করে।

এই মামবার কামড়ে আক্রান্তের শরীরে আঘাতের স্থানটি খুব জ্বালাপোড়া করে, মাথা ধরে, বমি-বমি ভাব হবে, শ্বাসকষ্ট ও লালা ঝড়বে, হার্টবিট অনিয়মিত হয়ে যাবে, খিঁচুনি হবে এবং পরিশেষে শ্বাসযন্ত্র প্যারালাইসিসি হয়ে ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকে।

মেনি-ব্যান্ডড ক্রেইট (Many-banded Krait)

মেনি-ব্যান্ডড ক্রেইট (Many-banded Krait)

স্থলে বসবাসকারী মেনি-ব্যান্ডড ক্রেইট সাপকে অন্যতম বিষধর সাপ হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৮৬১ সালে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ব্লাইথ (Edward Blyth) সর্বপ্রথম এই সাপকে সনাক্ত করেন এবং এদের বিষের প্রতিক্রিয়া মানুষের জন্য প্রাণনাশকারী হিসাবে বর্ণনা করেন।

বথরোপস অ্যাসপার (Bothrops Asper)

বথরোপস অ্যাসপার (Bothrops Asper)

এদেরকে অনেক সময় “আলটিমেট পিট ভাইপার” (ultimate pit viper) বলা হয়ে থাকে। সাধারণত: মানুষ্য বসতির আশে-পাশে নীচু, জলামগ্ন এলাকায় এরা বসবাস করে। বসতির আশে-পাশে বসবাসের কারণে, এদের কামড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়; এ জন্য এই সাপকে ডেডলি বলা হয়, যদিও এদের বিষ অন্যান্য বিষধর সাপদের মত প্রাণনাশী বিষাক্ত নয়।

রাসেল’স ভাইপার (Russell’s Viper)

রাসেল'স ভাইপার (Russell’s Viper)

এশিয়ার বিষধর সাপগুলোর মধ্যে রাসেল’স ভাইপার’র বিষয় সবচেয়ে বেশি মারাত্মক। এদের বিষাক্ত ছোবলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। সাধারণত: এই বিষের প্রতিক্রিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির শরিরে ব্যাথা, ঘেমে যাওয়া, বমি হওয়া, মাথা ধরা এবং পরিশেষে কিডনি বিকল হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যান।

ফরেস্ট কোবরা (Forest Cobra)

ফরেস্ট কোবরা (Forest Cobra)

ফরেস্ট কোবরা প্রজাতির সাপ ইন্ডিয়ায় দেখা পাওয়া কোববার মত অতটা কুখ্যাত নয়। কিন্তু, এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এরা অত্যন্ত ক্ষিপ্র, নার্ভাস এবং এদের বিষের ছোবলে মানুষের মৃত্যু অবধারিত। তারা আক্রান্ত হতে পারে, এমন মনে করলে ফরেস্ট কোবরা তার টিপিক্যাল ফনা তুলে আক্রমণের ভঙ্গিমায় চলে যায় এবং আক্রমণকারীর প্রতি বেশ জোরেই হিস হিস আওয়াজ তুলতে থাকে।

আফ্রিকান কোবরাগুলোর তুলনায় অনেক কারণে ফরেস্ট কোবরাগুলো ছোবলে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার হার কম, সম্ভবত: এটাই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তবে, বিষধর সাপ তো বিষাক্তই। এদের বিষে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সঠিক চিকিৎসা না দিলে তার প্রাণনাশ হতে পারে।

কোস্টাল টাইপান (Coastal Taipan)

কোস্টাল টাইপান (Coastal Taipan)

অস্ট্রেলিয়াতে কোস্টাল টাইপানকে সবচেয়ে মারাত্মক সাপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এই সাপটি অত্যন্ত নার্ভাস এবং ক্ষিপ্র। এ কারণে, এদের আশে-পাশ দিয়ে কেউ গেলে, মানুষ বা অন্য প্রাণী হোক, ধরে নিবেন যে এরা ছোবল মারবেই।

তবে, অন্যান্য সাপের মত কোস্টাল টাইপেনগুলো ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। তাদের দিকে কেউ আসলে দেখলে, এরা আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু, এদের নিরাপদ গণ্ডির মধ্যে কেউ এসে পড়লে বা এরা যদি মনে করে, আক্রান্ত হতে যাচ্ছে, তবে, কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই অত্যন্ত বাজেভাবে আক্রমণ করে বসে। এদের বিষ খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

ডুবিস’স সি স্নেক (Dubois’s Sea Snake)

ডুবিস'স সি স্নেক (Dubois’s Sea Snake)

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ও উত্তর দিকে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে নিউ গিনি এবং নিউ ক্যালিডোনিয়াতে এই সাপদের দেখতে পাওয়া যায়। এদের বিষ অত্যন্ত বিষধর। কিন্তু, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ এই জন্য যে, এদের শরীরে বিষ খুব কম সৃষ্টি হয়। আর, এদের কামড়ে এক মিলিগ্রামের ১০ ভাগের এক ভাগ বিষ থাকে, যা এক জন মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট নয়।

আইল্যাস ভাইপার (Eyelash Viper)

আইল্যাস ভাইপার (Eyelash Viper)

আইল্যাস ভাইপার সাধারণত: ওৎ পেতে শিকার করে থাকে। কোন একটি জায়গায় লুকিয়ে থাকে; সামনে দিয়ে যাওয়া প্রাণীকে ছোবল মেরে পরে গিলে খায়। মজার ব্যাপার হলো, এরা শিকার ধরার জন্য একটি সুবিধাজনক জায়গা বেছে বের করে। যেখানে শিকার পায়, সেখানে বার বার ফিরে আসে।

গবেষণা থেকে জানা যায়, আইল্যাস ভাইপার প্রতিবার শিকারের সাথে সাথে তাদের শিকার ধরার কৌশলকে উন্নত করে। সাউথ আমেরিকার গ্রামগুলোর প্রচলিত বিশ্বাস থেকে জানা যায়, এই সাপগুলো শিকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য তাদের চোখের ভ্রু ছুড়ে দেয় এবং ক্ষিপ্র বেগে ছোবল মেরে শিকারকে ধরাসায়ী করে।

বুমস্ল্যাংগ (Boomslang)

বুমস্ল্যাংগ (Boomslang)

বুমস্ল্যাংগ সাপগুলো কলুব্রিদি (Colubridae) গোত্রের অন্তর্ভূক্ত অত্যন্ত বিষধর সাপ। বিষধর হলেও এদের বিষয়ে মানুষ মারা যায় না। কারণ, এদের বিষের থলি ও বিষ দাঁত ছোট।

কিন্তু, বিষের ভয়াবহ বিষাক্ততার জন্য বুমস্ল্যাংগ সাপটি অত্যন্ত কুখ্যাত। কামড় দেবার সময় এদের চোয়াল ১৭০ ডিগ্রী পর্যন্ত খুলে যায় এবং বিষদাঁত থেকে যে পরিমাণ বিষ ঢেলে দেয়, তা মানুষের জন্য প্রাণনাশী। এদের বিষের প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্তের শরীরে ইন্টারনাল, এমনকি এক্সটারনাল ব্লিডিং হয়ে থাকে।

কোরাল সাপ (Coral Snake)

কোরাল সাপ (Coral Snake)

এই কুখ্যাত বিষধর সাপের বিষে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম দিকে কোন রূপ অস্বস্থি বা খারাপ বোধ করেন না। এদের কামড়ে কোন জ্বালাপোড়া নাই, রোগী ঘেমেও যান না – বিষের প্রতিক্রিয়া ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বুঝতে পারা যায় না। কিন্তু, সঠিক এন্টিভেনিন (antivenin) ইনেজকশন দ্বারা চিকিৎসা না করা হলে, আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিস্ক কাজ করে না; স্নায়ুবৈকল্য দেখা দেয়; তার মুখে কথা জড়িয়ে যায়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যে কোন জিনিষের দুইটা করে প্রতিবিম্ব দেখেন, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোতে সারা থাকে না এবং পরিশেষে শ্বাসক্রিয়া বন্ধ করে কার্ডিয়াল ফেইলিওর থেকে মৃত্যু ঘটে।

গোয়ারডার বা ওয়েস্টার্ন ব্রাউন স্নেক (Gwardar or Western Brown Snake)

গোয়ারডার বা ওয়েস্টার্ন ব্রাউন স্নেক (Gwardar or Western Brown Snake)

শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ায় দেখতে পাওয়া যায় এই ওয়েস্টার্ন ব্রাউন স্নেক বা গোয়ারডার কে। এরা খুব ক্ষিপ্র এবং অত্যন্ত বিষধর এলাপিড জাতীয় সাপ। একেক অঞ্চলে এদের গায়ের রং এবং শরীরের টেক্সচারে ভিন্নতা আছে। মানুষ বা অন্য প্রাণী, সবার ক্ষেত্রেই এদের বিষ সমানভাবে কার্যকর।

স-স্কেলড ভাইপার (Saw-Scaled Viper)

স-স্কেলড ভাইপার (Saw-Scaled Viper)

স-স্কেলড ভাইপার খুব বেশি লম্বা হয় না; কিন্তু এরা সবসময় খুব রাগান্বিত অবস্থায় থাকে; মানুষের দিকে খুব তেজে ছোবল মারতে আসে এবং প্রচণ্ড বিষধর। চোখের পলকে শিকারকে ছোবল মারতে ওস্তাদ এই সাপগুলো এবং এদের বিষে মৃত্যুর হারও বেশি।

আফ্রিকা, আরব এবং এশিয়ার দক্ষিণের দেশগুলোতে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এই অঞ্চলগুলোতে স-স্কেলড ভাইপারের কামড়ে অন্যান্য সাপের কামড়ের থেকে বেশি মানুষ মারা যায়।

র‍্যাটলস্নেক (Rattlesnake)

র‍্যাটলস্নেক (Rattlesnake)

র‍্যাটলস্নেক সাপের প্রজাতিরগুলো আমেরিকা ও মেক্সিকোতে বেশি দেখা যায়। তবে, খোদ অ্যারিজোনাতেই এই সাপের ১৩টি প্রজাতির দেখা মেলে এবং এই এলাকায় এদের কামড়ে সবচেয়ে মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকে।

যদিও এই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু হার কম, তবে অ্যান্টভেনিন ইনজেকশন দ্বারা দ্রুত চিকিৎসা না করার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে।

ইন্ডিয়ান কোবরা (Indian Cobra)

ইন্ডিয়ান কোবরা (Indian Cobra)

ইন্ডিয়ান কোবরা অত্যন্ত বিষধর সাপ। দেখতে বেশ কিউট হওয়াতে ভারতে এদের কদর রয়েছে। এরা সাধারণত: ছোট প্রাণী, ইদুর ও ব্যাঙ শিকার করে খেয়ে থাকে।

ইন্ডিয়ান কোবরা ক্ষিপ্রতা দিয়ে শিকারকে আক্রমণ করতে পারে; আবার, নিজেদেরকে রক্ষা করতেও ওস্তাদ এই সাপগুলো। আক্রমনের সময় এরা দূর থেকে শিকারের চোখের দিকে বিষ ছুড়ে দেয়। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় চোখে ভীষণ যন্ত্রণা হয় এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়।

ব্ল্যাক মামবা (Black Mamba)

ব্ল্যাক মামবা (Black Mamba)

ব্ল্যাক মামবারা খুব দ্রুত ছুটতে পারে, নার্ভাস এবং আক্রান্ত হলে অত্যন্ত হিংস্রভাবে প্রতিআক্রমন করে। এদের বিষ প্রাণঘাতি। এদের কামড়ে আফ্রিকার দেশগুলো প্রতি বছর শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। আর, ব্ল্যাক মামবা সাপ দূর থেকে মানুষের চোখে বিষ ছুড়ে দিতে পারে, যা মানুষের চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে।

আফ্রিকার জনগোষ্ঠীর মানুষদের মাঝে অনেক কেচ্ছা-কাহিনী চালু আছে। এ কারণে এই সাপকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বিষধর সাপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

টাইগার স্নেক (Tiger Snake)

টাইগার স্নেক (Tiger Snake)

এই প্রজাতির সাপটি কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। সেখানে এই সাপটি একটি মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। অত্যন্ত বিষধর এই সাপের কামড় প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

টাইগার স্নেক কুখ্যাত তার অত্যন্ত বদমেজাজী প্রকৃতি এবং অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষের জন্য। এই ভয়ঙ্কর সাপটি অস্ট্রেলিয়ার চরম প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেদেরকে বেশ ভালভাবেই খাপ খাইয়ে নিজেদেরকে টিকিয়ে রেখেছে।

ব্লু ক্রেইট (Blue Krait)

ব্লু ক্রেইট (Blue Krait)

থাইল্যান্ডের মাটিতে এই সাপগুলোকে দেখা যায়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপগুলোর মধ্যে একটি। থাইল্যান্ডে প্রতি বছর সাপের কামড়ে যত জন মারা যান, তাদের অর্ধেকের মৃত্যুর কারণ এই ব্লু ক্রেইট। এন্টিভেনিন ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করার পরও আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব হয় না্

ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক (Eastern Brown Snake)

ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক (Eastern Brown Snake)

পৃথিবীর তাবৎ বিষধর সাপদের তালিকা, LD50, তে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক। এটি একটি স্থলচর সাপ। প্রধানত: অস্ট্রেলিয়া, নিউ পাপুয়া গিনি এবং ইন্দোনেশিয়াতে এদের চলাচল দেখতে পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের মানুষদের কাছে এটি একটি আতঙ্কের নাম এই ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক।

ডেথ অ্যাডার (Death Adder)

ডেথ অ্যাডার (Death Adder)

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দেখতে পাওয়া কমন অ্যাডারগুলো আসলে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ডেথ অ্যাডারের একটি প্রজাতি। স্থলচর এই সাপটি খুবই বিষধর, যা অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দেখতে পাওয়া যায়।

ডেথ অ্যাডার সাপের অন্যান্য সাপের মত নয়। উল্টা এরাই শিকার ধরার জন্য উৎ পেতে বসে থাকে। এমনও দেখা গেছে, শিকার না ধরা পর্যন্ত এরা দিনের পর দিন এক জায়গায় বসে অপেক্ষা করে আছে।

কমান্ডোদের মত এরা নিজেদের শরীর লতা-পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। শিকার কাছাকাছি আসলে, এরা চোখের পলকে শিকারকে ছোবল মেরে শরীরে বিষ প্রবেশ করায়। বিষের প্রতিক্রিয়ার শিকার মারা যাবার পর তাদের গিলে ফেলে।

ফিলিপাইন কোবরা (Philippine Cobra)

ফিলিপাইন কোবরা (Philippine Cobra)

বিষ বিশেষঞ্জদের অভিমত অনুযায়ী, পৃথিবীর তাবৎ কোবরার মধ্যে ফিলিপাইনের কোবরার বিষ সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। এই সাপের এক কামড়েই একজন সুস্থ মানুষ মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই মৃত্যুর কোলো ঢলে পড়ে। ফিলিপাইন কোবরা তাদের বিষয় শত্রুর দিকে ছুড়ে দিতে পারে।

এই কোবরা বিষ নিউরো-টক্সিক, অর্থাৎ এদের বিষ আক্রান্তের শরীরের নার্ভ সিগন্যাল মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না, যার ফলে আক্রান্তের শ্বাসপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এই কারণে এই সাপকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং বিষধর সাপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

ইনল্যান্ড তাইপেন (Inland Taipan)

ইনল্যান্ড তাইপেন (Inland Taipan)

ইনল্যান্ড তাইপেন সাপের ব্যাপারে কথা বললে শুধু এর বিষের ভয়াবহতাই নয়, এর ক্ষিপ্রতা নিয়ে কথা বলতে হয়। এটি মুহূর্তের মধ্যে শত্রুর উপরে ছোবল চালাতে পারে। এরা আক্রান্তের শরীরে একটি নয়, একাধিক বার একই জায়গায় নির্ভূলভাবে কামড় দিয়ে বিষ ঢেলে দেয়।

তাইপেনের বিষ এতটাই বিষাক্ত যে পৃথিবীর যত বিষধর সাপ রয়েছে তারা এর কাছে পাত্তাই পায় না।

বেলচার সামুদ্রিক সাপ (Belcher’s Sea Snake)

বেলচার সামুদ্রিক সাপ (Belcher’s Sea Snake)

বহু এক্সপার্টদের মতে, বেলচার সামুদ্রিক সাপের বিষ অন্য যে কোন বিষ থেকে একশত গুণ বেশি বিষাক্ত ও ভয়ংকার। পৃথিবীর অন্য কোন সাপের বিষ এতটা ভয়ংকর নয়।

বেলচারের বিষ কেমন ভয়ংকর তার তুলনামূলক চিত্র দিতে গেলে কিং কোবরার বিষের সাথে তুলনা দিতে হয়। বলা হয় যে, কিং কোবরার এক ফোটা বিষ ১৫০ জন মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

সেখানে বেলাচার সামুদ্রিক সাপের বিষ থেকে মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম নিয়ে এক হাজার মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে তারা সবাই মৃত্যু মুখে ঢলে পড়বে।

কিন্তু, স্বস্তির ব্যাপার হল, এই সাপটি অত্যন্ত ভিতু প্রকৃতির এবং অনেক উত্যক্ত করলে হয়তো উত্যক্তকারীকে কামড়াতে আসবে।

এলডি৫০ (LD50) কি?

পৃথিবীতে যত বিষধর সাপ আছে তাদের বিষের বিষাক্ততা পরিমাপ করার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড নিরুপম করা হয়েছে। এই তালিকাকে এলডি৫০ বলা হয়ে থাকে।

ক্যাটাগরিঃ প্রাণীজগৎ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.