পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৫টি দেশ

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaভ্রমণপৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৫টি দেশ

পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠেছে কত সভ্যতা, কত দেশ। মানুষের দেখেছে তাদের শানশৌকত, জেনেছে তাদের বীরত্ব গাঁথা। শত বছর, হাজার বছর আগেও, বা তারও আগে গড়ে উঠেছিল কত জনপদ। কালের বিবর্তনে কতকটি হারিয়ে গিয়েছে; কতগুলো আজও টিকে আছে ধ্বংশাবশেষ হয়ে। শত বছর আগেও এমন কতগুলো দেশ ছিল যা এখনও টিকে আছে আমাদের চোখের সামনে। কতকটি অঙ্গীভূত হেয়েছে অন্য দেশের সাথে, আবার কতকটি নতুন নামে আবির্ভূত হয়েছে।

এমনই হারিয়ে যাওয়া ১৫টি দেশ এবং তাদের বিচিত্র কাহিনী পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে এই লেখার মধ্যে দিয়ে। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৫টি দেশ

Yugoslavia (ইয়োগোস্লাভিয়া)

ইয়োগস্লোভাকিয়া yugoslavia
ইয়োগস্লোভাকিয়া (Yugoslavia)

একশো বছর পূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ইউরোপের সীমান্ত সমুহে সংঘটিত হয় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে “the Kingdom of the Serbs, Croats, and Slovenes” নামে একটি রাষ্ট্র বিশ্ব মানচিত্রে আবির্ভূত হয়। এক দশক পরে, Yugoslavia নামে এর পুনর্নামকরণ হয়। এই রাষ্ট্রটি austro-hungarian সাম্রাজ্যের জাতিগত এবং সংস্কৃতিগতভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ অনেকগুলো অঞ্চলকে একত্রিত করে।

এই নতুন রাষ্ট্রটি বর্তমানের স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, Herzegovina, সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রো, কসোভো এবং মেসিডোনিয়া- কে অন্তর্ভুক্ত করে সংগঠিত হয়। তবে, বিংশ শতাব্দীতে এসে Yugoslavia তুমুল বিবাদের সম্মুখীন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিখন্ডিত Yugoslavia যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে, একজন কমিউনিস্ট নেতার তত্ত্বাবধায়নে নব্বইয়ের দশকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

দস্তুরমতো, এই রাষ্ট্রটির আর কোন অস্তিত্ব নেই। তবে, এর সিংহভাগ অংশ এখনো শান্তিপূর্ণভাবেই বিদ্যমান রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার উপকূলবর্তী শহর Dubrovnik এইচবিও এর স্বনামধন্য “গেইম অফ থ্রোন্স” সিরিজের kings landing হিসেবে নির্ধারিত হওয়ায়, বর্তমানে শহরটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এতটাই বেশি আকর্ষণীয় যে, দেশটির সরকার শহরটিতে পর্যটকদের সীমা নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। “The best budget travel destination of 2018” তালিকায় স্লোভেনিয়া অন্যতম আকর্ষন।

Tibet (তিব্বত)

তিব্বত Tibet
তিব্বত (Tibet)

যদিও তিব্বতকে আমরা শান্তিপূর্ণ বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং তাদের নেতা দালাইলামার সাথে সংশ্লিষ্ট করে থাকি; ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই অঞ্চলটি কে নিয়ে প্রায় কয়েকশো বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। একমাত্র ১৯১২ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিব্বতখন এটিকে চায়নার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তখন এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল।

স্বাধীন তিব্বত রাষ্ট্রের ধারণা এখনো চলমান রয়েছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দালাইলামা নির্বাসিত হবার পর এখন তিনি ভারতে জীবনযাপন করছেন। রোমাঞ্চ প্রেমী এবং পর্বতারোহীদের কাছে এই দেশটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সমভূমি থেকে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মাউন্ট এভ এভারেস্ট এই অঞ্চলেরই অন্তর্ভুক্ত; যা কিনা নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

Neutral Moresnet (নিউট্রাল মোরেসনেট)

Neutral Moresnet
নিউট্রাল মোরেসনেট (Neutral Moresnet)

নাম কখনও না শুনে থাকা আপনিই একমাত্র নন। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দেশটি এক বর্গ মাইল আয়তনের চেয়েও কম। ১৮১৬ সালে ডাচ এবং প্রুশিয়ানদের মধ্যে একটি সমঝোতায় এই দেশের মানচিত্র অঙ্কিত হয়। যাতে করে, দুই রাষ্ট্রই এর জিংক খনি থেকে লাভবান হতে পারে।

Neutral Moresnetএর নিজস্ব পতাকা এবং মুদ্রাও রয়েছে। এই ছোট্ট রাষ্ট্রটিকে নিজস্ব কৃত্রিম বৈশ্বিক ভাষা “এসপেরাঞ্জা” এর মাধ্যমে একটি utopia তে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কবলে পড়ে এটি বেলজিয়ামের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা আজও Neutral Moresnet এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে থাকে।

New Foundland (নিউফাউন্ডল্যান্ড)

নিউফাউন্ডল্যান্ড Newfoundland
নিউফাউন্ডল্যান্ড (New Foundland)

আপনি হয়তো ভাবছেন Newfoundland এর রুক্ষ অসমতল দ্বীপসমূহ ক্যানাডার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু, এমনটা সব সময় ছিল না। উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূল একটা সময় ব্রিটিশ কলোনি ছিল। তবে, এর পৃথকীকরণ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে, একে স্পষ্টতই ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে।

নিউফাউন্ডল্যান্ড সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে রয়েছিল। যদিও, তা ১৯০৭ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল অবধিই স্থায়ী হয়। এরপর আবার great depression এর কুপ্রভাব তীব্রতর আকার ধারণ করার পর স্বাধীন রাষ্ট্রটি একটি ব্রিটিশ কলোনিতে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৪৯ সালে নিউফাউন্ডল্যান্ড একটি কানাডিয়ান উপনিবেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। একে নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং ল্যাব্রাডর নামেও আখ্যায়িত করা হয়। মজার ব্যাপার এই যে, এই দুইটি নামে দুইটি কুকুরের প্রজাতিও রয়েছে।

Abyssinia (এ্যাবসিনিয়া)

এ্যাবিসিনিয়া Abyssinia
এ্যাবসিনিয়া (Abyssinia)

প্রকৃতপক্ষে এই রোমান্টিক নামটি একশত বছর পূর্বে আরব এবং ইউরোপিয়ানদের আবিষ্কৃত Ethiopia এর অবজ্ঞাসূচক নাম। উনিশ শতকের শেষে “Scramble for Africa” চলাকালীন, ইটালি এই অঞ্চলটি দখল করতে চেয়েছিল।

তবে, তারা উক্ত অঞ্চলের রাজতন্ত্রের অবসান করতে ব্যর্থ হয়। এই রাষ্ট্রটিকে কখনোই উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়নি। আফ্রিকা মহাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি স্বাধীন দেশের মধ্যে এটি অন্যতম রাষ্ট্র ছিল। তবে, মুসোলিনির নেতৃত্বে ইটালিয়ানরা ১৯৩০ এর শেষের দিকে সামান্য সময়ের জন্য দেশটি অধিকৃত করতে পেরেছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে Ethiopia জাতিসংঘের সূচনালগ্নের দেশগুলোর একটি হিসেবে দৃষ্টিগোচর হয়। এই রাষ্ট্রটির দীর্ঘ ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে বিশ্বের সর্ব প্রাচীন মানব ফসিলটি রয়েছে।

এছাড়া Biblical “Ark of the Covenant” এর নিদর্শনও তাদের ইতিহাসের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। ইথিওপিয়ান ‘লাভা লেক’ এর নয়নাভিরাম ভূচিত্র বিশ্বের অন্যতম দূরবর্তী জায়গা হিসেবে বিবেচিত।

Czechoslovakia (চেকস্লোভাকিয়া)

চেকস্লোভাকিয়া Czechoslovakia
চেকস্লোভাকিয়া (Czechoslovakia)

পশ্চিম ইউরোপের আরো একটি এথনিক গ্রুপের সংমিশ্রণের ফল স্বরূপ ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে পূর্ব এর Austro-Hungarian সাম্রাজ্যের চেকোস্লোভাকিয়া ঐতিহাসিক Moravia, Slovakia, and Bohemia অঞ্চলসমূহ এর সমন্বয়ে সংগঠিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই অঞ্চল নাৎসী বাহিনীকে ইউরোপের মধ্যে অগ্রসর হতে সহায়তা করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক স্বাধীন হবার পর এটি একটি Eastern Bloc নেশন হিসেবে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিশ্ব মানচিত্র আবির্ভূত হয়।

চেকোস্লোভাকিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়া তে ১৯৩৩ সালে দ্বিখন্ডিত হয়। বর্তমানে Czech Republic রাষ্ট্রটি রূপকথার গল্পের কোন যাদুর দেশের মতই সুন্দর।

Ceylon (সিলন)

সিলোন Ceylon
সিলন (Ceylon)

আপনি হয়তো দক্ষিণ ভারতের এই বিশাল দ্বীপটিকে শ্রীলংকা হিসেবে জানেন। তবে, ১৯৭২ সালের পূর্বে এটিকে সিলন বলা হত। কয়েকশো বছর পূর্বে ইউরোপিয়ানদের দ্বারা শাসিত হবার সময় এই নামকরণটি করা হয়েছিল।

ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলটি ১৯৪৮ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রূপান্তরিত হয়। ১৯৭২ সালে তারা পূর্ববর্তী শাসকদের দেয়া অবজ্ঞাসূচক নামটি পরিত্যাগ করে এবং দেশটির নাম শ্রীলঙ্কা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে অনেকগুলো গৃহযুদ্ধের পর এই দেশটি এখন শান্তিপূর্ণ ভাবে সুস্থিত।

২০১১ সালে দেশটি সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা উপনিবেশিকতার (colonisation) শেষ পদচিহ্নটুকু তাদের দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করবে। সেই লক্ষ্যে, রাষ্ট্রায়ত্ত সকল প্রতিষ্ঠান থেকে Ceylon এর নাম মুছে দেয়া হয়।

বর্তমানে এটি এশিয়ার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনের স্থান।

Basutoland (বাসুতোল্যান্ড)

বাসুতল্যান্ড Basutoland
বাসুতোল্যান্ড (Basutoland)

১৯৬৬ সালে ব্রিটেনের থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এই রাষ্ট্রটিকে লেসোথো (Lesotho) নামে ডাকা হয়। ১৯ শতকে রাজা Moshoeshoeর নেতৃত্বে দেশটি আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে Basutoland এর এই রাজা ও তাঁর সেনাদলকে ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধায়নে থাকাবস্থায় হানাদারদের মোকাবেলায় নিয়োজিত করা হয়।

পৃথিবীতে মাত্র তিনটি দেশ রয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে অন্যদেশের সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভ্যাটিক্যান(Vatican) এবং স্যানম্যারিনো (San Marino), উভয় দেশই ইটালির মধ্যে। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বারা পরিবেষ্টিত Basutoland হচ্ছে এই তালিকার তৃতীয় দেশটি।

এই দেশটিতে এখনও একটি রাজপরিবার এবং দেশটিতে এখন সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। প্রিন্স হ্যারি; যিনি কিনা এই দেশটিকে খুব পছন্দ করেন, তিনি আফ্রিকার শিশুদের জন্য এই দেশের রাজপুত্র Prince Seeiso এর সাথে Senatable নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অটোম্যান সাম্রাজ্য (Ottoman Empire)

তুরস্ককে বেষ্টন করে রাখা অন্যান্য অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় সাম্রাজ্যগুলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও, অটোম্যান সাম্রাজ্য (Ottoman Empire) ১৯২০ সাল অবধি টিকে ছিল। তবে, তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

১৯২৩ সালে সাম্রাজ্যটি তার অন্যান্য রাজ্যগুলোর দখল হারানোর পর এটি Turkish Republic এ পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে প্রায় ছয় শত বছর ধরে এই সাম্রাজ্যটি পূর্ব ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য শাসন করে আসছিল।

এই সাম্রাজ্যে নিদর্শন নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ড বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এটি ১৪৫৫ সাল থেকে ক্রেতাসাধারণের বিস্ময়ের খোরাক যুগিয়ে আসছে।

ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় তুরস্ক সৌন্দর্যমন্ডিত গন্তব্য গুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়।

Sikkim (সিকিম)

আপনি কি হিমালয় পর্বতের এই ছোট্ট অঞ্চলটির নাম শুনেছেন? ১৬৪২ সাল থেকে সিকিম (Sikkim) একটি সার্বভৌম রাজতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ১৯৫০ সালে এটি ভারতের একটি আশ্রিত রাজ্যে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের একটি রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

Sikkim এর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় রয়েছে ভুটান, তিব্বত, চায়না কিছু অংশ বর্তমান এবং নেপাল। তুষারাবৃত পর্বতমালার দ্বারা এই দেশটি পরিপূর্ণ। এখানকার বাসিন্দারা যেগুলোকে স্রষ্টা এবং স্রষ্টার আবাস হিসেবে গভীর ভক্তিভরে দেখে থাকে।

১৯৪৮ সালে Sikkim এ Yeti বা abominable snowman এর একটি পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

Persia (পার্সিয়া)

পারসিয়া Persia
পার্সিয়া (Persia)

পারস্যের নাম আমাদের স্মৃতিপটে মধ্যপ্রাচ্য সাম্রাজ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। একেবারে প্রাচীনকালে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় তো বটেই, কয়েক দশক পূর্বেও এটিই তার পূর্ব নামে সুপরিচিত ছিল।

১৯৩৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামকরণ করা হয় ইরান। বর্তমান সময়ে আমরা এখনো পারস্যে কথা চিন্তা করি যখন persian rugs বা persian cat এর আলোচনা হয়।

এছাড়াও, পারস্যের আদি সংস্কৃতি এখনও সুপ্রসিদ্ধ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে দেশটির অস্থিতিশীল পররাষ্ট্র নীতির জন্য আমেরিকানরা দেশটি ভ্রমণ করতে পারে না।

তা সত্ত্বেও, ইরানের Lut Desert অন্যতম চরম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

Siam (সিয়াম)

সিয়াম Siam
সিয়াম (Siam)

যদি ‘The King and I’ চলচ্চিত্রটি দেখে থাকেন, একবার হলেও ভাববেন Siam এর রাজা (বাস্তবে রাজা Mongkut; যিনি ১৮৫১ থেকে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত রাজকার্য পরিচালনা করেন) আসলে কোথায় থাকেন। এর উত্তর হচ্ছে: বর্তমান Thailand; ১৯৩৯ সালে এটি বর্তমান নামে নামকরণ করা হয়।

কখনোই ইউরোপিয়ানদের দ্বারা শাসিত না হওয়া Siam রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ রাজতান্ত্রিক। বিংশ শতাব্দীতে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কারণে এর শাসন ব্যবস্থা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র রূপান্তরিত হয়।

কয়েক শত দীপ, স্বচ্ছ পানি এবং দৃষ্টিনন্দন উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহের কারণে থাইল্যান্ড ভ্রমন পিপাসুদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য গুলোর অন্যতম।

এছাড়াও, পৃথিবীরসবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন কিছু সমুদ্র সৈকতগুলো থাইল্যান্ডের শোভা আরও বর্ধিত করেছে।

Prussia (প্রুসিয়া)

প্রুসিয়া Prussia
প্রুসিয়া (Prussia)

আপনি এখন যা পড়তে যাচ্ছেন সেটি রাশিয়া নয়, প্রুশিয়া। এই দেশটির সীমা মধ্য এবং পূর্ব ইউরোপ; বর্তমান জার্মানি এবং পোল্যান্ড এর মাঝেও কোনোভাবে ১৯৪৭ অবধি বিস্তৃত ছিলো।

The kingdom of Prussia অষ্টাদশ শতাব্দি পর্যন্ত এর স্থায়িত্বকাল ভোগ করে। কিন্তু, উনবিংশ শতকের সূচনালগ্নে এসে এটি এর অঞ্চলসমূহ হারাতে শুরু করে। ১৮৭১এ জার্মান সাম্রাজ্যের সংঘবদ্ধতা প্রুশিয়ান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটায়। যদিও ঠিক কোথায় জার্মান সাম্রাজ্যের সূচনা এবং প্রুশিয়ান সাম্রাজ্যের অবসান: সেই সমীকরণটি একটু জটিল। এর পেছনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব কিছুটা রয়েছে। তারপরও, প্রুশিয়া স্বাধীন জার্মান রাষ্ট্রের একটি রাজ্য হিসেবে টিকে ছিলো।

এরপর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ভূখন্ড ভাগাভাগি হয়ে গেলে মানচিত্র থেকে এর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও সাম্রাজ্যের বংশধরেরা তাদের উপাধি সমূহ ধারণ করে আসছে। Prince Georg Friedrich Ferdinand সেই পূর্বোক্ত রাজবংশের বর্তমান উত্তরসূরি।

Zanzibar (জানজিবার)

জানজিবার Zanzibar

The Islands of Zanzibar আফ্রিকার উত্তর উপকূলবর্তী দ্বীপসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রুতিমধুর নামটি প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুকে বৈচিত্র্যময় মসলা, অভিযান এবং রোমাঞ্চের এক দেশের প্রতি আহ্বান জানায়। এই অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছে।

বিংশ শতকে একটি স্বাধীন সালতানাত হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শীঘ্রই ব্রিটিশ শাসকদের করায়ত্ত্বে থাকাকালেও ১৯৬৪ পর্যন্ত দেশটির সুলতান শাসন করেন। তার এক বছর পূর্বে, Zanzibar Tanganyika এর মূল ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত হয়ে বর্তমান Tanzania প্রতিষ্ঠা করে।

দেশটির স্বর্গীয় সৈকতসমুহ ভ্রমণের পূর্বে দেখে আসুন আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলমাঞ্জারো। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর পিঙ্ক লেকগুলোর একটি এই Tanzania তেই অবস্থিত।

Sarawak (সারাবাক)

সারাবাক Sarawak
Sarawak (সারাবাক)

Boreno দ্বীপের অন্তর্ভূক্ত এই ভূখণ্ডটি বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি রাজ্য। Sarawak প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি আবাসভূমি। ১৮৪০ এ এ্যাডভেঞ্চারার James Brooke এই ভূখন্ডকে একটি রাজ্য হিসেবে শাসন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত তার উত্তরসূরিরা এটি শাসন করে। এরপর, জাপান এর দখল নেয়।

পরবর্তীতে, এটি ব্রিটিশদের করায়ত্ত্বে আসে। ১৯৬৩তে এটি নতুন Malaysia রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। মজার ব্যাপার, এ্যাডভেঞ্চারার James Brooke নিজে একজন ব্রিটিশ হলেও, বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিহত করেন এবং দেশটির মানুষ তাকে ভাল চোখেই দেখে।

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের লেখা ‘The Man Who Would Be King’ বইটি তাঁকে কেন্দ্র করেই রচিত বলে ধারণা করা হয়। তিনিই আবার আসন্ন White Rajah চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণা। The Brooke Trust প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর বংশধরেরা আজও Sarawakএর সেবায় নিবেদিত। যদিও, Borenoতে ভ্রমণ করাটা স্বল্প খরচের নয়। এই স্থানটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভ্রমণের স্থানের তালিকায় রয়েছে।


পড়ার মত আরও আছে


বিচিত্র সব লেখা নিয়ে আমাদের এই ওয়েবসাইট। শুধু আপনাদের জন্য আমাদের সব আয়োজন। এই ওয়েবসাইটের সব লেখা বিনামূল্যে পড়তে পারবেন। শুধু একটা অনুরোধ থাকল আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের নিবেদন।
এই ওয়েবসাইট ব্রাউজ করবার সময় আপনার ব্রাউজারের এ্যাড ব্লকার (AdBlocker) টি বন্ধ রাখুন, যাতে ফেসবুক, টুইটার, গুগল-প্লাস, প্রভৃতি স্যোশাল শেয়ার বাটনগুলো যাতে এ্যাড ব্লকারের কারণে চাপা না পরে যায়।
কোন লেখা যদি আপনাদের পছন্দ হয়, তবে, দয়া করে শেয়ার করুন

ক্যাটাগরিঃ ভ্রমণ