বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি টাওয়ারের সৌন্দর্য্য

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaভ্রমণবিশ্বের দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি টাওয়ারের সৌন্দর্য্য

পুরাণ কাল থেকেই মানুষের দ্বারা নির্মিত হয়েছে অসংখ্য টাওয়ার। বিভিন্ন সভ্যতার মানুষ, নিরাপত্তা জনিত নানা কারণে টাওয়ার নির্মাণ করতো। পরবর্তী সভ্যতাগুলো প্রায়ই তাদের দুর্গগুলোর অংশ হিসেবে পাহাড়ের দেয়াল গড়ে তোলে। যাতে উচ্চতর নিরাপদ স্থান পাওয়া যায়, যা থেকে একটি পাহারাদার পার্শ্ববর্তী এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। গত দুই সহস্রাব্দে বেল টাওয়ার, ঘড়ি টাওয়ার, মিনার এবং যোগাযোগের টাওয়ার ইত্যাদি বিশেষ কয়েকটি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আরো অসংখ্য টাওয়ার রয়েছে।

বিশ্ব বিখ্যাত কয়েকটি টাওয়ার সম্পর্কে জেনে নিন, যা ভ্রমণ করার জন্য বিশ্বের নানা দেশ থেকে ছুটে যান পর্যটকরা।


গালাটা টাওয়ার, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক

গালাটা টাওয়ার ইস্তাম্বুল তুরস্ক galata tower istanbul turkey

গালাটা টাওয়ার তুরস্কের ইস্তাম্বুলের গালাটা জেলায় অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় পাথর টাওয়ার। এটি গালাটা শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ল্যান্ডমার্কগুলোর মধ্যে অন্যতম। টাওয়ারটি ৬৭ মিটার (২২০ ফুট) উঁচু। এর শীর্ষে একটি শঙ্কু টুপি দ্বারা আবৃত সিলিন্ডার রয়েছে যা আকাশ সীমায় আধিপত্য বিস্তার করে। কনস্টান্টিনোপোলে জেনোয়া উপনিবেশের আশেপাশের দুর্গগুলোর অংশ হিসেবে ১৩৪৮ সালে টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল। টাওয়ারটির সুন্দর স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে থাকে।


দ্য টু টাওয়ার্স অব বলগনা, বলগনা, ইতালি

দ্য টু টাওয়ার্স অব বলগনা, বলগনা, ইতালি two towers bolgona italy

অদ্ভুত সুন্দর স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে ইতালির বলগনার ‘দ্য টু টাওয়ার্স অব বলগনা’। নামেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এখানে দুটি টাওয়ার রয়েছে। প্রথমটি আসিনেলি টাওয়ার ও অপরটি গারিসেন্ডা টাওয়ার। টাওয়ার দুটিকে একত্রে ‘দ্য টু টাওয়ার্স অব বলগনা’ বলা হয়ে থাকে। ৯৭.২ মিটার উচ্চতার আসিনেলি টাওয়ারটি বলগনার সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার। প্রথমে গারিসেন্ডা টাওয়ারটি ৬০ মিটার লম্বা ছিল। পরবর্তীতে এটিকে নিরাপদ করার জন্য, চতুর্দশ শতাব্দীতে এর উচ্চতা কমিয়ে ৪৮ মিটারে আনা হয়। টাওয়ার দুটির একত্রিত সৌন্দর্য মুগ্ধ করার মতোই।


বেলেম টাওয়ার, লিসবন, পর্তুগাল

বেলেম টাওয়ার, লিসবন, পর্তুগাল belem tower lisbon italy

বেলেম টাওয়ার মূলত একটি দুর্গ, যেটি তাগুস নদীর প্রবেশ মুখকে সুরক্ষিত করার জন্যে নির্মিত হয়েছিল। পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহরকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করা হয়। এটি পর্তুগালের আবিষ্কারের যুগের একটি স্মৃতিসৌধ। এই দুর্গ বা টাওয়ারটির সৌন্দর্য একেবারেই আলাদা। এটিকে দেখতে অনেকটা ছোট আকৃতির প্রাসাদও মনে হতে পারে আপনার। চারপাশের জলরাশি দুর্গ বা টাওয়ারটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে রেখেছে।


কুতুব মিনার, দিল্লী, ভারত

কুতুব মিনার, দিল্লী, ভারত qutub minar delhi india

ভারতের নতুন দিল্লীর মেহরৌলিতে অবস্থিত কুতুব মিনার। ১১৯৮ খ্রিষ্টাব্দে কুতুব উদ্দিন আইবেক বর্তমান কুতুব মিনারের উত্তর পূর্বে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ১২০২ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ, কুতুব উদ্দিন আইবেক কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। ৭২.৫ মিটার উচ্চতা ও ৩৭৯টি সিঁড়ি সমন্বিত এই টাওয়ারটি ভারতের সর্বোচ্চ প্রস্তর নির্মিত টাওয়ার বা স্তম্ভ। এটি দিল্লীর এক অন্যতম স্বীকৃত ল্যান্ডমার্ক। এছাড়াও বিশ্বের সর্বোচ্চ ইট নির্মিত মিনার এটি। ভারতীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শনা বলে কুতুব মিনার বেশ উল্লেখযোগ্য।

রাতারগুল: কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন
রাতারগুল জলাবন ভ্রমণে যাবেন যেভাবেরাতারগুল জলাবন ভ্রমণে যাবেন যেভাবে

তিন প্যাগোডা (থ্রি প্যাগোডাস), চীন

তিন প্যাগোডা (থ্রি প্যাগোডাস), চীন three-pagodas-chongsheng-temple-china

প্রাচীন শহর দালি থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার (০.৯ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তিনটি প্যাগোডা চীনের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত বৌদ্ধ কাঠামোগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্যাগোডাগুলো কয়েকটি মনুষ্যসৃষ্ট এবং বেশ কিছু প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ্য করেছে। ৮১৪ থেকে ৮৪০ খ্রিস্টাব্দে রাজা কান ফেনজিওর মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল মধ্যম প্যাগোডাটি। এটি উচ্চতায় ৬৯.৬ মিটার (২২৭ ফুট) এবং চীনের সবচেয়ে বড় প্যাগোডাগুলোর একটি।

[adinserter block=”1″]

অন্য দুটি প্যাগোডা মধ্যম প্যাগোডা নির্মাণের এক শতাব্দী পরে নির্মিত হয়েছিল এবং এরা উচ্চতায় ৪২.১৯ মিটার (১৪০ ফুট)। প্যাগোডা তিনটি শুধু ধর্মীয় কারণেই নয়, স্থাপত্যশৈলী নিয়ে সকল পর্যটকদের কাছেই আগ্রহের বিষয়।


সিএন টাওয়ার, টরেন্টো, কানাডা

সিএন টাওয়ার, টরেন্টো, কানাডা cn tower toronto canada

টরেন্টোর হৃদয়ে অবস্থিত সিএন টাওয়ারটি কানাডার সবচেয়ে স্বীকৃত আইকন। যোগাযোগ টাওয়ারটি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে রেল কোম্পানি ‘কানাডিয়ান ন্যাশনালে’র ভূমির উপর নির্মিত হয়। এটি শহরের কেন্দ্রস্থল টরেন্টো ও অন্টারিওতে অবস্থিত কানাডা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এর উচ্চতা ৫৫৩.৩৩ মিটার (১,৮১৫.৪ ফুট)। দুবাইয়ের বুর্জ নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত, ৩০ বছর ধরে এটি ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ কাঠামো। টাওয়ারটি সিএন টাওয়ার ছাড়াও ‘কানাডিয়ান ন্যাশনাল টাওয়ার’, ‘কানাডার জাতীয় টাওয়ার’ নামেও পরিচিত।


বিগ বেন, ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন

বিগ বেন, ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন big ben tower london

বিগ বেন লন্ডনের অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রথমে এটি ‘গ্রেট বেল’ নামে পরিচিত ছিল। বিগ বেন ক্লক টাওয়ার লন্ডনের সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটক আকর্ষণের একটি। মূলত বিগ বেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের সংসদ ভবনের ক্লক টাওয়ারে অবস্থিত একটি সুবিশাল ঘড়ি। এর ওজন প্রায় ১৩ টন। বর্তমান বিগ বেন ঘণ্টাটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটির মূল নাম এলিজাবেথ টাওয়ার, বিকল্প নাম হিসেবে বর্তমানে এটিকে বিগ বেন বলা হয়ে থাকে। টাওয়ারটি ১৬ তলার সমমানের উচ্চতাবিশিষ্ট। টাওয়ারের ঘড়িটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ শব্দ প্রদানকারী চতুর্মূখী ঘড়ি।


আইফেল টাওয়ার, প্যারিস

আইফেল টাওয়ার, প্যারিস eiffel tower paris france

সাহিত্য ও শিল্পের রাজধানী প্যারিস। আর পর্যটকদের কাছে এ শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার। ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তিতে ১৮৮৯ সালে নির্মাণ করা হয় এ স্থাপনাটি। এর উচ্চতা ৩২০ মিটার (১,০৫০ ফুট)। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত আইফেল টাওয়ার ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা। প্রায় ১৮ হাজার বিভিন্ন আকৃতির লোহার কাঠামো জোড়া লাগিয়ে টাওয়ারটি নির্মাণ করা হয়।

আইফেল টাওয়ারের ওজন প্রায় দশ হাজার টন। মোট তিনটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে এ টাওয়ারে। প্রথম প্ল্যাটফর্ম মাটি থেকে ১৯০ ফুট, দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্ম ৩৭৬ ফুট এবং তৃতীয় প্ল্যাটফর্ম ৯০০ ফুট উপরে। আইফেল টাওয়ারের স্থানীয় নাম ‘লা দামে দি ফার’ অর্থাৎ লোহার নারী।


হেলে পড়া টাওয়ার, পিসা, ইতালি

হেলে পড়া টাওয়ার, পিসা, ইতালি leaning tower pisa italy

পিসার হেলানো মিনার ইতালির পিসা প্রদেশের একটি ভবনবিশেষ। এ মিনারটি ঘন্টা বাজানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এর এক পাশ হেলে থাকার কারণে সমগ্র বিশ্বে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে। নির্মাণের শুরু থেকেই এই মিনারের এক দিক থেকে ক্রমশঃ হেলতে থাকে। বর্তমানে এ অবকাঠামোটিকে রক্ষা করতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এর হেলে পড়া রোধ ও ভূপাতিত হওয়া থেকে রক্ষা করা গিয়েছে।

একুশ বছর ধরে এর চতুর্দিকে অস্থায়ীভাবে মাঁচা তৈরী করা হয়েছিল। ২৬ এপ্রিল, ২০১১ সালে এর সর্বশেষ মাঁচাটি অপসারণ করা হয়। এর ফলে মিনারটিকে পুনরায় সঠিকভাবে দেখা যায়।

ভূমি থেকে অষ্টতলাবিশিষ্ট এ মিনারের উচ্চতা প্রায় ৫৬ মিটার। এর সর্বমোট ওজন প্রায় ১৪,৫০০ টন। বর্তমানে এটি প্রায় ৩.৯৯ ডিগ্রী কোণে হেলে রয়েছে। এর ২৯৪টি সিঁড়ি আছে।


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ ভ্রমণ