রক্তনালীর ব্লক থেকে রক্ষা পেতে করণীয়

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যরক্তনালীর ব্লক থেকে রক্ষা পেতে করণীয়

মানবদেহের রক্তসংবহনতন্ত্র অজস্র শিরা, রক্তনালী এবং কৈশিক নালীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল জাল। এই নালীগুলোর দ্বারা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ সচল রাখার মাধ্যমে মানবদেহ নিরবচ্ছিন্নভাবে তার সমস্ত কার্যাবলি সম্পন্ন করতে পারে। কোন কারণে এই রক্তনালীর ব্লক ধরা পড়লে শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা।

শরীরে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের পর তা ব্যয়িত হয়ে গেলে আমাদের ফুসফুস নিঃশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে এবং প্রশ্বাসের মাধ্যমে আরো অক্সিজেন গ্রহণ করে পুরো প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করতে থাকে।

যতক্ষণ পর্যন্ত রক্তনালীগুলো উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার থাকবে; রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে। কখনো কখনো রক্তনালীতে ক্ষুদ্র ব্লকেজ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে প্লাক বলা হয়। প্লাক সৃষ্টি হয় রক্তনালীর দেয়ালে কোলেস্টরেল জমা হবার ফলে।

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এরূপ সমস্যার আঁচ পাওয়া মাত্রই শ্বেত রক্তকণিকা প্রেরণ করতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট চেইন রিয়েকশনের ফলে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে খারাপ যেটি হতে পারে: শ্বেত রক্তকণিকা ঐ কোলেস্টরেলের ওপর দিয়েই প্লাক তৈরি করত পারে। যার ফলে হার্ট এ্যাটাক হয়। প্লাক বাড়তে থাকলে কোনো রক্তনালী দিয়ে রক্তপ্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এই মারাত্মক সমস্যা প্রতিকারের জন্য চিকিৎসা নেয়াই একমাত্র উপায়। তবে, ব্লকেজের কারণসমূহ প্রতিরোধের জন্য ওজন হ্রাস, পরিমিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি উপায় রয়েছে। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ক্ষাণিকটা সচেতনাই এর মোক্ষম প্রতিকার।

রক্তনালীর ব্লক প্রতিরোধে খাদ্যাভাসের ভূমিকা

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তনালীর ব্লক প্রতিরোধে আপনার শরীরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত করে রাখতে পারবেন। কি বাসা-বাড়ি, কি কর্মক্ষেত্রে, কি স্পোর্টর্স – সর্বক্ষেত্রে শরীর থাকবে চনমনে, মনে থাকবে প্রশান্তি। এ জন্য খাদ্য তালিকায় কি ধরণের মেনু রাখবেন এ নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ সংকলন করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হল।

সবুজ শাক-সব্জি

উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং বিশেষ ধরণের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। এর সবই হার্টের জন্য উপকারী। পালং শাক, লেটুস, ব্রুকলি, বেল পেপার, এসপারাগাস ভিটামিন বি-সিক্স সমৃদ্ধ। যা, homocystein (হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত একপ্রকারের এ্যামিনো এসিড) ও সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন (একটি প্রদাহ সংঘটক) এর মাত্রাহ্রাস করে হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন:  পায়ের পাতায় ঝি ঝি ধরা - কারণ ও প্রতিকার

এছাড়াও, গাজর, টমেটো বেশ ক্যারোটিনয়েড (বিশেষ করে lycopene নামক এন্টি-অক্সিডেন্ট) সমৃদ্ধ।

সম্প্রতি, লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যারা দৈনিক নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য(যেমন: একবাটি লেটুস) গ্রহণ করে; কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাদের রক্তচাপ পূর্বের চেয়ে ১১.২mmHg পর্যন্ত কমে যায়। যেটি পুরোদিন স্থায়ী থাকে।

এমন প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঔষুধের ওপর নির্ভর করে থাকার বিড়ম্বনাও লাঘব হবে।

শাকসব্জিকে স্যুপ, সালাদ, স্মুদি, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে তৈরি করে খেলে যেমনি স্বাস্থ্যবিধিও পালন হবে, তেমনি স্বাদেও বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন থাকবে।

ভিটামিনের ঘাটতি বুঝবেন যে ভাবে
শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি কিভাবে বুঝবেনশরীরে ভিটামিনের ঘাটতি কিভাবে বুঝবেন

ফলমূল

দেহের বাজে কোলেস্টরেল কমাতে আপেল খুব উপকারী। দৈনিক একটি করে আপেল খেলে রক্তনালী শক্ত হওয়া ও আটকে যাবার সম্ভাব্যতা শতকরা ৪০ভাগ হ্রাস পেতে পারে। কমলার রসে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট রক্তনালীতে প্লাক জমতে দেয় না। যা উচ্চ-রক্তচাপের প্রবণতা কমিয়ে আনে।

মশলা

হার্ট ভালো রাখার সেরা উপায়গুলোর অন্যতম উপায়টি বেশ সুস্বাদুও বটে! এমন অনেক মশলা রয়েছে যেগুলোর ভেষজ গুণ অনেক। রসুনের এ্যালিয়াম রক্তে ভালো কোলেস্টরেল বাড়ায়, রক্তচাপ হ্রাস করে। হলুদের কারকামিন কোলেস্টরেল, ট্রাইগ্লিসারাইড, ব্লাড সুগারের মাত্রা হ্রাস করে। স্বাস্থ্যকর অথচ বিস্বাদ স্যুপ, স্মুদি, সালাদ ইত্যাদির স্বাদ বাড়াতেও এগুলো বেশ কার্যকরী।

আদা প্রদাহজনিত সমস্যা কমায়। দারচিনি, লবঙ্গ রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে এবং ব্লাড সুগার কমায়। এগুলো সরাসরি অথবা চা বা জুসের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

আমিষ

মাংসের তুলনায় মাছ হার্টের জন্য ভালো। ছোটমাছ ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের সেরা উৎস। এর ফলে, প্রদাহজনিত সমস্যা কমে, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সামুদ্রিক মাছেও রক্তসংবহনতন্ত্রের উপকারী উপাদান রয়েছে। সার্ডিন, স্যামন, ম্যাকেরেল ইত্যাদি সামুদ্রিক মাছ খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে, প্রক্রিয়াজাত মাছের ব্যাপারে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:  দাঁত থাকতে দাঁতের যত্ন নিন

মাছ বা মাংস যাই খান না কেন, প্রথমেই নিশ্চিত হতে চেষ্টা করুন যে, এতে কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক, হরমোন, সোডিয়াম, কৃত্রিম রঙ, নাইট্রেট, কীটনাশক এসবেরর মিশ্রণ ঘটেছে কিনা। কারণ, এগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি করে।

যারা কোনো প্রকার মাছ-মাংসই খেতে পারেন না, তারা ডাল ও ননীবিহীন দুধ খেতে পারেন।

পানীয়

গ্রিন টি এ বিদ্যমান ক্যাচেটিন দেহে ডায়েটারি কোলেস্টরেলের শোষণ হ্রাস করে। গ্রিন টি খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। চা বহুকাল ধরেই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চা থেকে উপকৃত হতে চাইলে পরিমিত পরিমাণে এবং দুধ-চিনি ছাড়া পান করাই শ্রেয়।

কফি উচ্চরক্তচাপ হ্রাস করে। যদিও এতে থাকা ক্যাফেইন কিছু মানুষের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। তবে, পরিমিত পরিমমাণ সুগার ফ্রি ব্ল্যাক কফি প্রায় মানুষের জন্যই স্বাস্থ্যকর।

চিনিমিশ্রিত পানীয়, সফট ড্রিঙ্ক্স এবং এ্যালকোহল মিশ্রিত পানীয় পরিহার করুন। সফট ড্রিঙ্ক্স ব্রাড সুগার বাড়ায়। যেটি প্রোটিন ও ফ্যাটের ওপর পুরু আস্তরণ ফেলে। এর ফলে ব্লকেজ সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও:

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য