রমজানে কোরআন তেলাওয়াত – গুরুত্ব ও ফজিলত

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামরমজানে কোরআন তেলাওয়াত – গুরুত্ব ও ফজিলত

রমযান মাসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তায়া’লার নৈকট্য অর্জন করা। সকল মুসলিমদের উচিত, এই রযমান মাসে পার্থিব কাজগুলো থেকে নিজেদেরকে সযত্নে সরিয়ে রেখে বেশি বেশি করে ইবাদতে ব্যস্ত থাকা। রমযান মাসে সিয়াম পালন ও সালাতের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত করতে মনোযোগী হওয়া।

মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এই কোরআন রমযান মাসের ‘লাইলাতুল ক্বদর’ বা ‘পবিত্র রজনী’তে নাযিল হয়েছে। এ জন্য রমযান মাসের কোরআন যথোপযুক্তভাবে তেলাওয়াত ও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা অর্জন করার ফজিলত অপরিসীম।

কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

কোরআন তেলাওয়াতকারী ব্যক্তির জন্য কোরআন সুপারিশকারী হবে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,

‘সিয়াম ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশকারী হবে’।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“রমযান মাসের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খিদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআনুল কারীম তেলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন”। (বুখারী)

কোরআনকে বলা হয়, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী। এটি অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত ও পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ তায়া’লা স্বয়ং নিয়েছেন। কোরআন হল হেদায়েতপ্রাপ্তির আলোকবর্তিকা। সুতরাং, যিনি যত বেশি কোরআন অধ্যয়ন করবেন, তার হেদায়েতপ্রাপ্তি সম্ভাবনা তত বেশি।

পবিত্র কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন এক উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে, যা দুনিয়ায় কোন ঘরের মধ্যে অবস্থানরত সূর্যালোকের চেয়ে অধিক উজ্জ্বলতর হবে’। [আবু দাউদ]

হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমযানে কিভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতেন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদান ব্যতীত কোন মাসে এত বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতেন না। এ ব্যাপারে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“রমযান ব্যতীত অন্য কোনো রাত্রিতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াত করতে, কিংবা ভোর অবধি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোযা পালন করে কাটিয়ে দিতে দেখি নি”। সূত্র: সহীহ মুসলিম : ১৭৭৩।

সুনান আত-তিরমিযী হাদীস গ্রন্থের বর্ণনায় জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ”। সূত্র: সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০, সহীহ।

প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোরআন তেলাওয়াতের ধরণ বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বর্ণণা করেন,

‘একবার আমি মুহাম্মদ (সা.) এর সঙ্গে রাতে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি খুবই ধীরস্থিরভাবে কোরআন তেলাওয়াত করলেন; তেলাওয়াতে যখন তাসবিহ’র আয়াত আসত, তখন তিনি তাসবিহ আদায় করতেন। যখন কোনো নেয়ামতের বর্ণনা আসতো, তখন তিনি নেয়ামত প্রার্থনা করতেন। যখন কোনো আজাবের আয়াত আসতো, তখন তিনি আল্লাহর আজাব থেকে আশ্রয় চাইতেন।’

রোজা রেখে করণীয় ও দোষণীয়
রোজা রেখে করণীয় ও দোষণীয় বিষয়সমূহরোজা রেখে করণীয় ও দোষণীয় বিষয়সমূহ

কিভাবে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত?

তাড়াহুড়ো করে, কিংবা, অর্থ না বুঝে অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করার চেয়ে, বিশুদ্ধ ও সঠিকভাবে অর্থ ও তাফসীর বুঝে অনুধাবন করে অল্প অল্প তেলাওয়াত করা বেশি ফজিলতপূর্ণ।

হযরত ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর মতে,

‘তারতিলের সঙ্গে ও বুঝে স্বল্প পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করা, তাড়াহুড়ো করে অধিক পরিমাণ তেলাওয়াতের চেয়ে উত্তম।’

বাংলা উচ্চারণ দেখে কোরআন পড়া যাবে কি?

না। কোরআনের আয়াতের বাংলা উচ্চারণ দেশে কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নাই।

কেউ যদি কোরআন তেলাওয়াত করতে চান, তবে, তাকে অবশ্যই নিকটস্থ মসজিদে গিয়ে বা, বাসায় কোন আলেম সাহেবকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার কাছে থেকে আরবী শুদ্ধ উচ্চারণ শিখে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত।

কারণ, আরবী শব্দের উচ্চারণের উপরে অর্থ নির্ভর করে। ভুল উচ্চারণে আরবী শব্দ পড়লে, আরবী শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে আয়াতের ভিন্ন অর্থ বহন করে।

সুতরাং, কোরআন তেলাওয়াতের জন্য শুদ্ধ আরবী পড়তে পারাটা একটা অত্যাবশ্যকীয় শর্ত।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহকে সর্বক্ষণ কোরআনুল কারীমের পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত, অধ্যয়ন ও এর মর্ম বুঝবার তৌফিক দান করুন।

পড়ার মত আরও আছে:

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম
ট্যাগঃ