লিনাক্সের জনক Linus Torvalds সম্পর্কে ২০টি অজানা তথ্য

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaব্যক্তিলিনাক্সের জনক Linus Torvalds সম্পর্কে ২০টি অজানা তথ্য
Advertisements

১৯৯১ সালে মাস্টার্স ডিগ্রীর অংশ হিসাবে ফিনল্যান্ডের যুবক লিনাস টরভাল্ডস ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের মত কার্যক্ষম একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করেন। তার এই অপারেটিং সিস্টেমটি তখন একটি বিপ্লবের শুরু করেছিল এবং বর্তমানে লিনাক্সের শক্তিতে চলছে পুরো ওয়েব জগৎ, তাবৎ এম্বেডেড ডিভাইস এবং পৃথিবীর টপ ৫০০ সুপারকম্পিউটার।

লিনাক্সের জনক Linus Torvalds সম্পর্কে ২০টি অজানা তথ্য

এই লেখায় পাঠকদের জন্য লিনাস টরভাল্ডস সম্পর্কে যে সকল ফ্যাক্ট তুলে ধরেছি, সেগুলোর অনেক তথ্য ইন্টারনেটে অনেক আগে থেকেই প্রকাশিত রয়েছে। এখানে সেগুলো গুছিয়ে এক জায়গায় সুপাঠ্য হিসাবে সংকলিত করা হয়েছে। এমনও হতে পারে যে, এগুলোর অনেকগুলোই হয়ত আপনাদের জানা থাকতে পারে; আবার কিছু হয়ত অজানাও থাকতে পারে।

১। ১৯৬৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর হেলসিংকিতে লিনাস টরভাল্ডস জন্মগ্রহন করেন। সাংবাদিক পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা নিলস টরভাল্ডস (Nils Torvalds) একজন ফিনিস রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং শোনা যাচ্ছে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্য তিনি লড়াই করবেন।

রসায়ন ও শান্তিতে দুই-দুই বার নবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী লিনাস পলিং (Linus Pauling) এর নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল।

২। “লিনাস” দিয়ে অনেক ব্যক্তির নাম হয়ত আপনার চোখে পড়তে পারে, কিন্তু নামের শেষে “টরভাল্ডস” নিয়ে খুব বেশী মানুষের দেখা আপনি পাবেন না। কারণ, তার নামের “সঠিক” বানান হল, টরভাল্ড (s নাই)। তার পিতামহ তার টরভাল্ড নামটি পরিবর্তন করে টরভাল্ডস রাখেন; নামের শেষে সাথে একটি ‘s’ জুড়ে দেন। আর এভাবেই লিনাক্সের “টরভাল্ডস সাম্রাজ্যের” শুভ সূচনা হয়।

তার এই অদ্ভূত উপাধিযুক্ত নামের কারণে এই নামে সারা বিশ্বে খুব বেশী হলে ৩০ জন ব্যক্তির দেখা পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হল, এরা সবাই পরস্পরের আত্মীয়। তার আত্মজীবনীতে এমনটাই দাবী করেছেন লিনাস টরভাল্ডস।

A young Linus Torvalds with his journalist sister Sara Torvalds
সাংবাদিক বোন সারা টরভাল্ডস’র সঙ্গে যুবক বয়সে লিনাস টরভাল্ডস

৩। লিনাসের বয়স যখন ১০, তার পিতামহের কম্পিউটারে, Commodore Vic 20, BASIC প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে প্রোগ্রামিং কোড লেখা শুরু করেছিলেন। সেই সময় থেকেই কম্পিউটার ও প্রোগ্রামিং এর প্রতি তার অনুরাগের জন্ম নেয়।

৪। আউটডোরে খেলাধূলার চাইতে কম্পিউটারে সময় ব্যয় করাতেই তার আগ্রহ বেশী থাকাতে তাকে বাধ্যতামূলক সামরিক ট্রেনিং এ যোগদান করতে হয়েছিল। কোর্স শেষে তিনি সেকেন্ড লেফটেনেন্ট পদে যোগ দান করেন।

৫। ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে যখন MS-DOS আর MINIX সিস্টেমে এ কাজ করতে করতে ত্যক্ত-বিরক্ত, তখন একবার UNIX ভিত্তিক কম্পিউটার কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তিনি তা করতে পারেন নাই। ভাগ্যিস সে সময় অত টাকা-পয়সা তার হাতে গচ্ছিল ছিল না। এরপর তিনি খেটে-খুটে ইউনিক্স’র নিজস্ব ক্লোন তৈরী করেন।

৬। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লিনাস তার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম Linux (Linus’s MINIX) এর অবমুক্তির ঘোষণা দেন এবং তার সকল বন্ধুমহলে ও শুভানুধ্যায়ীদের তার সিস্টেমের সোর্স কোড দ্রুত বেগে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আহবান জানান।

৭। লিনাস ভেবেছিলেন যে, Linux নামটির মধ্যে দিয়ে হয়তো খুব বেশী আত্ম-কেন্দ্রিকতা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। তাই, তিনি তার নতুন অপারেটিং সিস্টেমের নাম পরিবর্তন করে Freax (Free, Freak and MINIX) রাখতে চাইছিলেন। কিন্তু, বাধ সাধলেন তার বন্ধু অ্যারি লেমকে (Ari Lemmke)। তিনি জানালেন যে, ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য তিনি তার এফটিপি সার্ভারে (FTP server) ইতিমধ্যেই Linux নামে একটি ফোল্ডার তৈরী করে ফেলেছেন। আর এভাবেই Linux নামটি ছড়িয়ে পড়া শুরু করল।

[adinserter block=”1″]

৮। “Linux: A Portable Operating System” – এটিই তার মাস্টার্স থিসিসের টাইটেল ছিল।

৯। ১৯৯৩ সালে তিনি হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। একবার তিনি তার ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস এ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসাবে ইমেইল কম্পোজের কাজ দিয়েছিলেন। সে সময়ে ইমেইল লেখাটাও একটা বিশের স্কিলের ব্যাপার-স্যাপার ছিল।

এখানে মজার একটা ব্যপারা ঘটেছিল। একজন ছাত্রী, টোভে মনি (Tove Monni), তার টাস্ক সম্পন্ন করে সরাসরি লিনাসকে ইমেইল পাঠিয়ে তার সাথে ডেট করার প্রস্তাব দিলেন। লিনাস তার আহবানে সাড়া দিলেন। আর, এই ঘটনার ৩ বছর পরে তাদের তিন মেয়ের মধ্যে প্রথম মেয়ে সন্তান দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হন।

Linus Torvalds with wife Tove Torvalds
সহধর্মীনি টোভে টরভাল্ডস এর সঙ্গে লিনাস টরভাল্ডস

১০। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল, একটি গ্রহানু তার নামে নামকরণ করা হয়, 9793 Torvalds

১১। ১৯৯৭ সালে লিনাস যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দ্যেশ্যে পাড়ি জমান এবং তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে তিনি Linux Foundation এর অধীনে লিনাক্স কার্নেলের জন্য উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছেন।

Tove and Linus Torvalds with their daughters Patricia, Daniela and Celeste
স্ত্রী টোভে এবং তিন মেয়ে প্যাট্রিসিয়া, ড্যানিয়েলা ও সেলেস্ট এর সাথে লিনাস টরভাল্ডস (ছবিঃ opensource.com)

১২। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানী অ্যাপল এর কর্ণধার স্টিভস জবস তাকে অ্যাপল macOS এর উন্নয়নে কাজ করার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু, লিনাস এই লোভনীয় প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন এবং লিনাক্স কার্নেল এর জন্য কাজ করে যেতে থাকেন।

১৩। লিনাক্স কার্নেলের শ্রষ্ঠা হিসাবে লিনাস টরভাল্ডের নামটি বেশি উচ্চারিত হয়। কিন্তু, আমরা কি জানি, তিনি Git এরও শ্রষ্ঠা। বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোতে ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম হিসাবে এই Git এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

২০০৫ সাল পর্যন্ত BitKeeper নামের ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি সার্ভিসের মাধ্যমে কার্নেল ডেভেলপমেন্টের কাজ করা হত। যখন BitKeeper তাদের ফ্রি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়, লিনাস টরভাল্ডস একক প্রচেষ্টায় Git ডেভেলপ করে নেন; এর কারণ হল, প্রচলিত কোন ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম দিয়ে তার মনের মত করে কাজ করা যেত না।

১৪। যদিও লিনাক্স কার্নেলের উন্নয়নে তিনি পূর্ণ সময় ব্যয় করেন; তিনি বর্তমানে লিনাক্সের জন্য আর কোন কোডিং করেন না। আসল ব্যাপার হল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কন্ট্রিবিউটরদের দ্বারা লিনাক্সের বেশীর ভাগ কোড লেখা হয়েছে। লিনাস নিশ্চিত করেন, যা কিছুই নতুন যুক্ত হচ্ছে, তা কোয়ালিটি ও স্ট্যান্ডার্ড মেনে লেখা হচ্ছে। আর, লিনাক্সের নতুন ভার্সন রিলিজের সময় বর্তমানে যারা কার্নেল রক্ষনাবেক্ষন করেন তাদের কাজে সহায়তা করেন।

১৫। লিনাস টরভাল্ডস প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে C++ এর উপরে, কেন জানি, বেশ বিরক্ত। এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যাপারে কথা বলার সময় তার ক্ষোভও ঝরে পড়ে। এমনকি তিনি C++ নিয়ে রসিকতা করে বলেন, “কি আর বলব! C++ প্রোগ্রাম তো আমার লিনাক্স কার্নেলের থেকেও ধীর গতিতে কম্পাইল হয়”।

১৬। কিছু বছর আগে লিনাক্সের জনপ্রিয় ডিস্ট্রিবিউশন ডেবিয়ান (Debian) সম্পর্কে লিনাস মন্তব্য করেন যে, ডেবিয়ান ইন্সটল করা খুব কঠিন মনে হয়েছে তার কাছে। যত দূর জানা যায়, তিনি তার মূল ওয়ার্কস্টেশনে ফেডোরা (Fedora) ব্যবহার করেন।

১৭। লিনাস টরভাল্ডস স্কুবা (scuba) ডাইভিং পছন্দ করেন। এই পছন্দের জিনিষের জন্য তিনি বিশ্বের সকল স্কুবা-ডাইভারদের সুবিধার জন্য Subsurface নামের একটি ডাইভ-লগ সফটওয়্যারও তৈরী করেছেন। শুনে অবাক হবেন, এর সফটওয়্যারের ফোরামে উত্থাপিত সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে মাঝে মাঝে দেখা যায় লিনাসকে।

Linus Torvalds in Scuba Gear. Circa 2010
স্কুবা গিয়ারে লিনাস টরভাল্ডস (ছবিঃ Circa, 2010)

১৮। টরভাল্ডস লিনাক্স কার্নেল মেইলিং লিস্টে “হালকা বিব্রতকর শব্দ” ব্যবহারের জন্য পরিচিত। ইন্ডাস্ট্রিতে এ জন্য বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এই যেমন ধরেন, ভিডিও অ্যাক্সেসরিজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (NVIDIA) এর কথা। লিনাক্সের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য এনভিডিয়া’র সাপোর্ট নিয়ে একসময় লিনাক্স ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট মাথা ব্যাথা ছিল। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে লিনাস এনভিডিয়া’কে উদ্দ্যেশ্য করে বলেই বসলেন, “F**k you, NVIDIA“।

Fuck you, NVIDIA: Linus Torvalds
এই ছবির জন্য ক্যাপশনের প্রয়োজন নাই 🙂

১৯। লিনাস পাবলিক অডিয়েন্সের সামনে কথাপকোথনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না। অনেক ইভেন্টে যোগদানে বিরত থাকতেন। আর করলেও, তিনি হোস্টের সাথে বসে ইন্টারভিউ দিতেন। এটাই তার পছন্দের স্টাইল।

২০। সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হিসাবে তিনি গুগল প্লাস (Google Plus) ব্যবহার করেন। ব্যস্ত জীবন থেকে সময় বের করতে পারলে তাকে তার প্রোফাইলে গ্যাজেট সম্পর্কে রিভিউ লিখতে দেখা যায়।

লিনাস টরভাল্ডস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সংকলনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। তার জীবনী নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পাঠকগণকে আহবান Just for Fun বইটি সংগ্রহ করে পড়ার জন্য।


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ ব্যক্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.