লেবু রস কতটা উপকারি, কতটা অপকারি

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যলেবু রস কতটা উপকারি, কতটা অপকারি
Advertisements

লেবু সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ভিটামিনযুক্ত একটি ফল। সুগন্ধ ও সতেজকারী গুণের কারণে এটি রান্নায় ও পারফিউম তৈরীতে জনপ্রিয়। চা এবং ককটেল থেকে জুস, সব ধরণের পানীয় মধ্যে লেবু রস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

লেবু খাবারে আনে আলাদা একটি ফ্লেভার, পাশাপাশি প্রাচীন কালেও চিকিৎসাবিদ্যায় লেবুর ভাল সমাদর রয়েছে।

ভিটামিন সি এর একটি সমৃদ্ধ উৎস ছাড়াও লেবুর এন্টিব্যাকটেরিয়া এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লেবু থেকে রস নিংড়ে সরবত আকারে পান করা হয়। লেবু রস হজমে সহায়তা করে এবং একটি ডিটক্সিফাইয়িং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। এছাড়াও, লেবুর সরবত লিভার পরিষ্কার সাহায্য করে সুস্বাস্থ্য লাভে সহায়তা করে। এছাড়াও লেবু রস শরীরের বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করে ওজন কমাতে একটি কার্যকর উপায়।

লেবু রস – কতটা উপকারি?

  • ভিটামিন সি এর একটি সমৃদ্ধ উৎস হিসাবে, লেবুর রস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এর সুরক্ষা করে।
  • প্রতিদিন সকালে গরম পানি দিয়ে লেবুর রস পান করলে শরীরের অ্যাসিড-ক্ষার এর (পিএইচ লেভেল) ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
  • শক্তিশালী জীবাণু প্রতিরোধক বৈশিষ্ট্যের কারণে লেবুর রস সংক্রমণ রোধে খুব কার্যকর।
  • লেবুর রস শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণে সহায়তা করে।
  • লেবুর রস পরিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
  • ভিটামিন সি ছাড়াও লেবুর রসে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতির সমৃদ্ধ উৎস।
  • এটি আমাদের ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • লেবুর রস অনেকগুলি ত্বকীয় সমস্যা, যেমন, ব্রণ, র‌্যাশ, এবং অবাঞ্ছিত দাগ দূরীকরণে জন্য একটি জনপ্রিয় প্রতিকার।
  • উষ্ণ পানির সাথে লেবু রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের ওজন ঝড়াতে সাহায্য করে, কারণ এটি হজমে সহায়তা দেয় এবং বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করে।
  • লিভার পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও লেবুর রস কার্যকরী। কারণ, এটি লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থকে বের করে দেয়।
  • লেবুর রসের প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, গলা এবং টনসিলের প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শরীরকে সহায়তা করে।
  • গরম পানি দিয়ে লেবুর রস পান করলে শরীরের পানি শূণ্যতা রোধ করে হাইড্রয়েড কারণ এটি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে।
  • শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট এবং মাংশপেশীর ব্যাথা উপশমে উষ্ণ পানি দিয়ে পান করা লেবু রস বেশ কাজে দেয়।
  • দাঁতের ব্যাথা ও জিনজিভাইটস নিরাময়ে সহায়তা করে লেবুর রস, যা দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
  • উষ্ণ জলের সাথে লেবু রস পান করলে তা হজমে সাহায্য করে এবং ফলশ্রুতিতে সকাল-সকাল পেট পরিষ্কারে সাহায্য করে।

লেবু রস – কতটা অপকারি?

দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়

লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। লেবু রস খাওয়ার পর সাধারণ পানি দিকে কুলি করা ও দাঁত ব্রাশ করে নিলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

মুখমণ্ডলের ভিতরের নমনীয় মাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

প্রতিদিন লেবু রস পানের কারণে মুখের অভ্যন্তরের নমনীয় মাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হজমের সহায়ক এনজাইম ভেঙ্গে যায়

যে কোন খাবার খেলে পাকস্থলী থেকে বের হওয়া পেপসিন এনজাইম খাবার পরিপাকে সাহায্য করে। লেবুর রস এই পেপসিনকে ভেঙ্গে দিয়ে পরিপাক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

অ্যাসিড ও বমির উদ্রেক করে

দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন লেবুর সরবত পান করেন, তাদের কোন এক সময় বমি বমি ভাবের উদ্রেক করে। অনেকে পেটে জোলাপ বা অ্যাসিড হতে পারে।

ঘন ঘন বাথরুমের কারণে শরীরের ভগ্নদশা হওয়া

ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করার কারণে বার-বার বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন হয়। পেট ফেঁপে যাওয়া, শরীর শুকনো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও, লেবু অ্যাসিডের কারণে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় পটাসিয়ামের অভাব দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে লেবুর সরবরাহ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

আয়রনের মাত্রা বেড়ে যাবে

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এর কারণে শরীরে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

মাইগ্রেন বৃদ্ধি পায়

যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তারা লেবু থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সানবার্ন হয়

WebMD এর রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, লেবুর সরবত খেয়ে রোদে বের হলে সাদা চামড়ার লোকদের ক্ষেত্রে সানবার্ন হয়ে যায়।

সতর্কতা

যাদের প্রতিদিন ঔষুধ খাওয়া লাগে, বিশেষত: ক্যালসিয়াম জাতীয়, তাদের বিশেষ সতর্ক হতে হবে, কারণ, এতে ড্রাগ এলার্জি হতে পারে। আর, সন্তান-সম্ভবা মায়েদের ক্ষেত্রে লেবু সরবত পানে কোন সম্ভাবনার কথা চিকিৎকাশাস্ত্রে উল্লেখ নাই। তবে, স্বাভাবিক মাত্রার লেবু গ্রহণের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই শ্রেয়।

লেবুর খোসার ব্যবহার

লেবুর খোসা অপ্রয়োজনীয় নয়। এরও কিছু কার্যকর কিছু ব্যবহার রয়েছে।

  • লেবুর খোসাতেও রয়েছে ভিটামিন,মিনারেল, যা একই সাথে এটি প্রাকৃতিকভাবে হজমে সহায়ক।
  • ফ্রিজের ভেতরের বায়ু সতেজ করতে ও দূর্গন্ধ দূর করতে লেবুর খোসা রেখে দিন।
  • গারবেজ বিনে লেবুর খোসা রাখলে দূর্গন্ধ অনেকাংশে কমে আসবে।
  • চায়ের কেটলি কিংবা কফি পট নাছোড়বান্দা দাগ পরিস্কারের ক্ষেত্রে কেটলিতে পানি নিয়ে তাতে লেবুর খোসার ছোট ছোট টুকরা দিয়ে ১৫/২০ মিনিট সেদ্ধ করতে হবে। দাগ চলে যাবে।
  • ত্বকে মেসেজ করে ধুয়ে ফেললে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া যায়।
  • হাত বা পায়ের নখে লেবুর খোসা ঘসলে নখ পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল সাদা হয়।
  • কাঠের আসবাবপত্রের কোণায় বা চিপায় যে সব জায়গাতে পিঁপড়া বা কীটপতঙ্গ যাতায়াত করে, সেসব জায়গায় লেবুর খোসা কুচি কুচি করে ছড়িয়ে দিন। কীটপতঙ্গ পালিয়ে যাবে।

১০০ এমএল লেবুর পুষ্টিগুণ

ক্যালোরী ২৮ কিলোক্যালোরী
লিপিড ০.৩ গ্রাম
কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম
শর্করা ৯ গ্রাম
   খাদ্যতালিকাগত তন্তু ২.৮ গ্রাম
   চিনি ২.৫ গ্রাম
প্রোটিন ১.১ গ্রাম
ভিটামিন এ ২২ IU ভিটামিন সি ৫৩ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম ২৬ মিলিগ্রাম লোহা ০.৬ মিলিগ্রাম
ভিটামিন ডি ০ IU সায়ানোকোবোলেমিন ০ মাইক্রোগ্রাম
ম্যাগনেশিয়াম ৮ মিলিগ্রাম

তথ্যসূত্র: ইউকিপিডিয়া

পড়ার মত আরও আছে:
ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য