সাইবার হামলায় মোবাইলের চিপ সরবরাহকারী টিএসএমসির উৎপাদন বন্ধ

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসাইবার হামলায় মোবাইলের চিপ সরবরাহকারী টিএসএমসির উৎপাদন বন্ধ
Advertisements

চিপ সরবরাহকারী তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) লিমিটেডে গত শুক্রবারের সাইবার হামলা চালানো হয়। ফলশ্রুতিতে টিএসএমসির উৎপাদন কারখানাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। টিএসএমসি’র কারখানা থেকে এ্যাপলের আইফোনের জন্য চিপ সরবরাহ করা হত। এতে আইফোনের পরবর্তী সংস্করণের উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাইবার হামলা সম্পর্কে টিএসএমসি’র বক্তব্য

টিএসএমসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অনেক কারখানা রি-স্টার্ট করা হয়নি। কোনো ধরনের ভাইরাস বা কারা এ সাইবার হামলার পেছনে দায়ী, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

কারখানাগুলোকে চালুর লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ চলছে। কিন্তু সমস্যা হলো, হামলার তীব্রতা একেক কারখানায় একেক রকম। সামগ্রিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও কবে নাগাদ পুরোদমে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে আজ বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টিএসএমসি আইফোনের মূল প্রসেসরের প্রধান সরবরাহকারী। প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ ফ্যাব্রিকেশন টুলস সাইবার হামলার আক্রান্ত হয়েছে। এই ফ্যাব্রিকেশন টুলস দিয়েই মূলত মোবাইল ডিভাইসের প্রসেসর উৎপাদনসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ।

সাইবার হামলাটি এমন সময় হলো যখন অ্যাপল নতুন আইফোনের বেশকিছু নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আসন্ন উৎসব মৌসুমে প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংকে টেক্কা দিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

এরই মধ্যে আইফোনের পরবর্তী সংস্করণের উৎপাদন শুরুর সব প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রসেসর চিপের উৎপাদনে বিলম্ব হবে যা আইফোনের উৎপাদন পিছিয়ে দিতে পারে বলে এ্যাপল’র কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে আইফোনের নতুন মডেল উন্মোচন করে আসছে অ্যাপল। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র এক মাস সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী নতুন আইফোন উৎপাদনে ব্যর্থ হলে ব্যবসার দিক থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে অ্যাপলকে।

এ্যাপল ছাড়াও, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি টিএসএমসি কোয়ালকমেরও অন্যতম চিপ সরবরাহকারী। বলা হচ্ছে, এবারই প্রথম ভাইরাস ছড়িয়ে টিএসএমসির সব উৎপাদন কারখানার কার্যক্রম বন্ধে বাধ্য করা হয়েছে।

গত বছর ‘ওয়ানাক্রাই’ র‌্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে সাইবার হামলার পর বিশ্বের অসংখ্য বহুজাতিক কোম্পানি তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। ওয়ানাক্রাই হামলার পর এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের সাইবার হামলা।

টিএসএমসির এ সাইবার হামলার প্রভাব অ্যাপল কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, সেটা অস্পষ্ট। গত সপ্তাহে অ্যাপলের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এ মাইলফলক অতিক্রমে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র স্মার্টফোন ব্র্যান্ড আইফোন।

চিপ সরবরাহে বিলম্ব হলে নতুন আইফোন উৎপাদন কার্যক্রম দেরিতে শুরু করতে হবে। এতে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে পিছিয়ে পড়তে পারে অ্যাপল।

জনপ্রিয় আইফোনের প্রসেসর চিপের জন্য এখন পর্যন্ত টিএসএমসিতেই ভরসা করছে অ্যাপল। আইফোন ৮, ৮ প্লাস ও আইফোন টেনের জন্য এ১১ প্রসেসর তৈরির কাজ করেছে টিএসএমসি।

এছাড়া দুই বছর আগে বাজারে আসা আইফোন ৬এস ও আইফোন ৬এস প্লাসে ব্যবহূত এ৯ চিপসেট যৌথভাবে টিএসএমসি ও স্যামসাং উৎপাদন করেছিল।

টিএসএমসির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা লোরা হো বলেন, তাদের উৎপাদন কারখানাগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম এর আগেও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। তবে এবারই প্রথম কোনো কম্পিউটার ভাইরাস তাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে আক্রান্ত করেছে।

চিপ উৎপাদন বিভ্রাটের কারণে কী পরিমাণ রাজস্ব হারাতে হবে এবং কবে নাগাদ টিএসএমসি নতুন আইফোনের প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন শুরু করতে পারবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলা বাড়ছে। সাইবার অপরাধীরা ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি খোদ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

সাইবার হামলার কারণে আগামী পাঁচ বছরে শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ।

আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.