স্লো ল্যাপটপ দ্রুত করবেন যেভাবে

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaটিপস ও ট্রিক্সস্লো ল্যাপটপ দ্রুত করবেন যেভাবে

আপনার ল্যাপটপ অনেকভাবে স্লো বা ধীর গতি হতে পারে। সুখবর হল, এর স্লো ল্যাপটপ এর পারফরমেন্স ভাল করারও কিছু উপায় আছে। ছোট-ছোট কিছু ট্রিকস দিয়ে স্লো ল্যাপটপকে দ্রুত করার উপায় নিয়ে এই লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।

ভারী মাত্রায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ল্যাপটপে প্রচুর টেম্প ফাইল এবং আক্ষরিকভাবেই ধুলোবালি জমা হয়। যন্ত্রাংশগুলো পুরোনো হতে থাকে এবং সফটওয়্যার আপডেট বা আপগ্রেড করার ফলে, ল্যাপটপ স্লো হতে পারে।

দেখে নিন ল্যাপটপ দ্রুত করার কিছু কার্যকরী টিপস, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

স্লো ল্যাপটপ দ্রুত করার কিছু টিপস


১. এসএসডি হার্ডডিস্ক সংযোজন

SSD Drive
SSD Drive

আপনার ল্যাপটপকে দ্রুততর করতে যে হার্ডওয়্যারগুলোয় পরিবতর্ন করা যেতে পারে, তারমধ্য, একটি সলিড স্টেট ড্রাইভার সংযোজন অন্যতম। এটি সবকিছুই দ্রুততর করে তোলে; বুট করা, শাট ডাউন, প্রোগ্রাম চালু করায় গতানুগতিক হার্ড ড্রাইভের তুলনায় এটি নিমিষেই কাজ করে।

সম্প্রতি, বাজারে বিল্ট-ইন এসএসডি-র ল্যাপটপ আসছে। তবে, সবই এমন নয়। আপনার পুরোনো ল্যাপটপে যদি প্রথাগত হার্ড ড্রাইভ থেকে থাকে, তবে আপনি সেটা খুলে ফেলে সঙ্গত মূল্যেই এসএসডি হার্ড ডিস্ক লাগিয়ে বেশ ভালো একটা স্পিড বুস্ট করে নিতে পারবেন।

একটি ১২৮জিবি এসএসডি প্রায় ব্যবহারকারীর জন্যই সন্তোষজনক। যার মূল্যমান ৪,৯০০ টাকার মধ্যেই হয়ে থাকে। তবে, ২৫৬ জিবি এসএসডি হলে ওএস ড্রাইভ ও ডাটা ড্রাইভ আলাদা করে নিতে পারবেন।


২. র‌্যাম আপগ্রেড:

Add more RAM
Add more RAM to your PC or laptop.

আপনার নূন্যতম ৮জিবি র‌্যাম থাকা প্রয়োজন। আজকাল এমন ল্যাপটপের ওপরই বাজি ধরতে হবে। কারণ, বেশিরভাগ নির্মাতারা মাদারবোর্ডে এতটা র‌্যাম সংযুক্ত করেই ল্যাপটপ বাজারজাত করছে।

আপনার যদি ৪জিবি র‌্যাম থাকে সেটা ৮জিবিতে উন্নীত করুন। এতে খরচ পড়বে ২,১০০ টাকার মত। এতে, পারফরমেন্স ভাল পাবেন।


৩. স্টার্ট-আপ প্রোগ্রাম আপডেট:

ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা যাবতীয় কিছু এবং অব্যবহৃত প্রোগ্রামের রিসোর্স আপনার কম্পিউটারের বুট-আপের গতি কমিয়ে দেয়। সময় এসেছে এটি বন্ধ করার।

উইন্ডোজ ১০-এর টাস্ক ম্যানেজারে যান, স্টার্ট-আপে দেখুন আপনার কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে কোন কোন প্রোগ্রাম চালু হয়।

ম্যাকবুকের জন্য, System Preferences > Users & Groups > Login Items এ গিয়ে নির্ধারণ করুন কোন প্রোগ্রামগুলো কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে সক্রিয় হবে।


৪. অব্যবহৃত এ্যাপ আনইনস্টল করুন:

অব্যবহৃত এ্যাপসমূহ হার্ডড্রাইভে অহেতুক স্টোরেজ দখল করে রাখে এবং সিপিউ থেকে রিসোর্স শুষে নেয়। তাই, জাঙ্ক ডিলিট করে জায়গা খালি করুন এবং প্রসেসিং এর ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার দ্রুততর করুন।

আপনার লাইব্রেরি ফাইলসমূহে কোনো জাঙ্ক থেকে গেল কিনা দেখে নিশ্চিত হউন।


৫. নিয়মিত ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন:

হতে পারে আপনি স্বেচ্ছায় ইনস্টল করেননি, এমন ক্ষতিকারক ও সন্দেহজনক কোনো সফটওয়্যার আপনার ল্যাপটপের গতি কমিয়ে রেখেছে।

নিয়মিত ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার স্ক্যান এমন বিপজ্জনক কিছু থেকে আপনার ল্যাপটপকে সুরক্ষা দেবে।

সতর্ক থাকলে এমন আপনি এমন যাবতীয় বিপদ এড়িয়ে চলতে পারবেন; যেগুলো আপনার রিসোর্স দখল করে আর ল্যাপটপকে জাঙ্ক ফাইলে ভর্তি করে ফেলে।


৬. এ্যানিমেশন পরিহার করুন

অপারেটিং সিস্টেমে নজরকাড়া এ্যানিমেশন দেখতে ভালোই লাগে; আদতে এটি অহেতুক রিসোর্স দখল করে রাখে। যার ফলে, সার্বিক পারফর্মেন্সের গতি কমে গিয়ে ল্যাপটপ স্লো করে ফেলে।

উইন্ডোজ ১০ এ “View advanced system settings সার্চ করুন। এবার, সেটিংস থেকে Adjust for best performance সিলেক্ট করুন। এতে করে কিছু স্পেশাল ইফেক্ট এবং এ্যানিমেশন বন্ধ হবে।

ওস এস এক্সের জন্য: System Preferences > Dock এ যান। তারপর,Check the boxes to turn off magnification and stop the animations in opening applications.


৭. শাট-ডাউন গতি দ্রুততর করতে:

অনেক সময় শাট-ডাউন কমান্ড দেয়ার পরও বন্ধ হবার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকতে হয়। এই বিড়ম্বনা কারণ সেই সকল চালু থাকা প্রোগ্রাম যা নিজে থেকে ভালোয় ভালোয় বন্ধ হতে চায় না।

আপনি যদি আপনার রেজিস্ট্রি একটু ঘেঁটে দেখেন তবে, এই মাথাচাড়া দেয়া বিদ্রোহীদের জোরপূর্বক মূলোৎপাটন করতে পারবেন। তবে, তার আগে জরুরি কাজগুলো সেভ করে নিতে ভুলবেন না। নয়তো, সেগুলো বিনা বিচারে ক্রসফায়ারে মারা যাবে। 🙂

উইন্ডোজ ১০ এ শাটডাউন স্পিড বদলাতে:

উইন্ডোজ ১০ এ Cortana লোকাল ফাইল এবং ওয়েব সার্চ চালু রাখে। এর ডাউনলোড সময়সাপেক্ষ এবং আপনার সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অন্তরায়। আপনি যদি কেবল নিজের হার্ড ড্রাইভে থাকা ফাইল বা প্রোগ্রাম খুঁজতে কর্টানা সার্চ বক্স ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে উইন্ডোজ ১০ এ ওয়েব রেজাল্ট বন্ধ রেখেও কর্টানা চালাতে পারেন।

আপনার Downloads Folder স্পিড আপ করতে:

File Explorer উইন্ডোজের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফোল্ডারের অন্যতম। এটি চালু করতে গিয়ে যদি প্রতিবারই আপনাকে লোডিং বার দেখতে হয়, তবে অপটিমাইজেশনই হবে উপযুক্ত ব্যাবস্থা।


৮. ল্যাপটপ পরিষ্কার রাখুন

ল্যাপটপে অত্যধিক ধুলো জমতে দেবেন না; নয়তো ওভারহিটে ঝুঁকি বাড়বে। ওভারহিট হলে প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স কার্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এক ক্যান কম্প্রেস্ড এয়ার সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি ভেন্ট পরিষ্কার করে প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডকে দু’দণ্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে দিন।


৯. ব্রাউজার পরিবর্তন করুন:

কিছু ব্রাউজার তুলনামূলকভাবে দ্রুততর। আপনি যদি একজন হেভি ইউজার হন, সেক্ষেত্রে Chrome আপনার RAM এর সিংহভাগ দখলে নেবে। বিশেষত, গোটাকতক ট্যাব চালু রেখে।

Microsoft’s Edge ততটা পূর্ণাঙ্গ নয়, তবে অপেক্ষাকৃতভাবে হাল্কা। Mac এর ব্রাউজার হিসেবে আপনি Safari ব্যবহার করতে পারেন। ভাল ও দ্রুত কাজে পারঙ্গম ব্রাউজার ব্যবহারের মাধ্যমে স্লো ল্যাপটপ এর পারফরমেন্স আরও ভাল করা সম্ভব।


১০. ড্রাইভার আপডেট:

কিছু নতুন ড্রাইভার আপডেট আপনার হার্ডওয়্যারের পুরোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করে নতুন জীবন নিয়ে আনতে পারে। আপনার ড্রাইভারগুলো নির্মাতাদের ওয়েবসাইটের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখছে কিনা নিশ্চিত হউন।

এ রকম আরও কিছু বিষয়ের উপরে পোস্ট পড়তে আপনি আগ্রহী হতে পারেন

ক্যাটাগরিঃ টিপস ও ট্রিক্স