হযরত ইউসুফ (আ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামহযরত ইউসুফ (আ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
Advertisements

নবী হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন কেনানের অধিবাসী। তিনি হযরত ইয়াকুব (আ.) এর পুত্র। হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন বারো ভাইয়ের মধ্যে একাদশতম। তিনি ছিলেন বিনয়ী ও উত্তম চরিত্রগুণে গুণান্বিত। হযরত ইউসুফ (আ.) দেখতে অত্যন্ত সুশ্রী ছিলেন।

হযরত ইউসুফ (আ.) এর ভাইদের ষড়যন্ত্র

পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) তার পুত্রদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে বেশি ভালবাসতেন। এ কারণে অন্যান্য ভাইরা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। অবশেষে তারা এক ষড়যন্ত্র আঁটল। একদিন তারা পিতার নিকট খেলার কথা বলে ইউসুফকে জনমানবশূন্য একটি মাঠে নিয়ে গেল। তারা তাঁকে একটি গভীর কূপে ফেলে দিল।

এরপর তারা বাড়ি এসে পিতাকে জানাল, আমরা যখন খেলাধূলায় লিপ্ত ছিলাম, তখন ইউসুফকে বাঘে নিয়ে যায় এবং খেয়ে ফেলে। এই যে দেখুন, তার রক্তমাখা জামা। জামাটি রক্তমাখা থাকলেও ছেঁড়া ছিল না। তাই ইয়াকুব (আ.) পুত্রদের এই কথায় বিশ্বাস করতে পারলেন না। তিনি তাদের এই মিথ্যা কথায় অত্যন্ত দুঃখিত হলেন।

তবে ক্রোধ প্রকাশ করলেন না। বরং ধৈর্য্যধারণ করার সঙ্কল্প করে বললেন, ধৈর্য্যই উত্তম, আর তোমরা যা প্রকাশ করেছ সে বিষয়ে আল্লাহ তায়া’লার নিকট সাহায্য কামনা করছি। (সুরা ইউসুফ, আয়াত ১৮)

বাজারে বিক্রয়

যে কূপে ইউসুফ (আ.) কে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ঐ কূপের পাশ দিয়ে একটি বণিকদল মিসরের দিকে যাচ্ছিল। তারা পানি ওঠানোর জন্য কূপে একটি বালতি ফেললে ইউসুফ (আ.) বালতির রশি ধরে ওপরে উঠে এলেন। বণিকরা ফুটফুটে সুন্দর বালককে দেখে যারপরনাই খুশি হলো। ইউসুফকে মিসরে নিয়ে গেল।

তারা ক্রীতদাস হিসেবে ইউসুফকে মিসরের অর্থমন্ত্রী আযীযের নিকট বিক্রি করে দিল।

আযীয ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি দাস হিসেবে ইউসুফকে ক্রয় করলেও পুত্রের মতো আদর-যত্নে লালন-পালন করতে থাকেন। যুবক বয়সে মিথ্যা অপবাদের দরুন তিনি কারারুদ্ধ হন। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে কারাগারে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন।

তিনি আল্লাহ তায়া’লার ইচ্ছায় স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যাও বলতে পারতেন।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা বর্ণনা

মিসরের বাদশাহ একবার এক অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেন। তিনি দেখতে পান, সাতটি মোটাতাজা গাভীকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী খেয়ে ফেলছে। আরও দেখতে পান সাতটি সবুজ শস্য ও সাতটি শুষ্ক শীষ। বাদশাহ এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

কিন্তু এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দরবারের আমীর-ওমরা, জ্ঞানী-গুণী কেউই দিতে পারলেন না।

অবশেষে তিনি হযরত ইউসুফ (আ.) এর শরণাপন্ন হলেন। তিনি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বললেন, সাত বছর রাজ্যে প্রচুর ফসল ফলবে, সচ্ছলতা থাকবে, আর সাত বছর দেশে একটানা ভীষণ দুর্ভিক্ষ চলবে। তিনি দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিলেন।

ইউসুফ (আ.) উদ্বৃত্ত খাদ্য জমা করে রাখার পরামর্শ দিলেন। তার ব্যাখ্যা শুনে বাদশাহ খুব মুগ্ধ হলেন। এরই বদৌলতে বাদশাহ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন। রাজা তাঁকে সম্মানের সাথে তার দরবারেও স্থান দিলেন।

মন্ত্রীপদে নিয়োগ

মিসরের বাদশাহ ইউসুফ (আ.) কে অর্থমন্ত্রী পদে নিয়োগদান করেন। এদিকে দুর্ভিক্ষ পীড়িত হয়ে ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা তিনবার খাদ্য শষ্যের জন্য মিসরে হাজির হয়। তিনি প্রথমবারেই তাদের চিনে ফেলেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। মানবিক কারণে তিনি প্রত্যেকবারই তাদের পূর্ণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ করেন। দ্বিতীয়বার কৌশলে আপন সহোদরকে নিজের কাছে রেখে দেন।

তৃতীয়বার তিনি ভাইদের নিকট আত্মপরিচয় তুলে ধরেন। তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং বলে, আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে আমাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং নিশ্চয়ই আমরা অপরাধী ছিলাম।

ইউসুফ (আ.) ভাইদের ক্ষমা করে দিয়ে দরদভরা কণ্ঠে বললেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা ইউসুফ, আয়াত ৯২)

এরপর তিনি তাঁর ভাইদেরকে পিতা ও পরিবারের লোকজনসহ মিসরে আসার আমন্ত্রণ জানান। পিতা-মাতা ও অন্যান্যদের নিয়ে ভাইয়েরা মিসরে আগমন করেন। ইউসুফ (আ.) তাঁদের সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। তারা সবাই মিলেমিশে মিসরে বসবাস করতে থাকেন।

১১০ বছর বয়সে হযরত ইউসুফ (আ.) ইন্তেকাল করেন।

সূত্র: সেরা মানুষের জীবনকথা

 

আরও পড়ুন:

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.