স্বাস্থ্য রক্ষায় বাদাম

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যস্বাস্থ্য রক্ষায় বাদাম
Advertisements

স্বাস্থ্য রক্ষায় বাদাম রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১০ টাকার ছোট এক প্যাকেট ‘বাদাম’ খেলে তা থেকে আপনার শরীর পাবে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদান। এটি নিজে খান, পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে খান।

হরেক নামে বাজারে দেশী-বিদেশী বাদামের সরবরাহ রয়েছে, যেমন: কাঠবাদাম, কাজু, পেস্তা, আখরোট, হাজেল নাট, ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হলো সবগুলো প্রজাতির বাদামে প্রায় একই ধরনের খাদ্যগুণ ও ভিটামিন রয়েছে।

সুতরাং, বেশি দাম দিয়ে আমন্ড বা আখরোট বা পেস্তা বা কাজু বাদামের চেয়ে আমাদের দেশে রাস্তার ধারে যে “ভাজা বাদাম” বিক্রি হয়, সেটিই হোক আমাদের প্রাত্যহিক পুষ্টির উৎস।

বাদাম কি কি ভিটামিনের উৎস?

বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাসসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এ সকল উপাদান শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সক্ষম। শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের সর্বোকৃষ্ট উৎস এটি।

বাংলাদেশে রাস্তায় ধারে বাদাম বিক্রেতা A road-side ground nut seller in Bangladesh
আমাদের দেশে রাস্তার ধারে যে বাদাম পাওয়া যায়, তাতেই রয়েছে সব ভিটামিন, যা বিদেশী দামী বাদামে রয়েছে। সুতরাং, কেন বেশি টাকা খরচ করবেন?

 

যারা সপ্তাহে অন্তত চারবার বাদাম খান, হৃদরোগ জটিলতায় তাদের মৃত্যুর আশংকা এটি না খাওয়াদের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম হয়।

সুদীর্ঘকাল গবেষণা করে ব্রিটিশ সাময়িকি “নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন” একটি নিবন্ধে জানিয়েছে, যারা নিয়মিত বাদাম খান তারা বাদাম না খাওয়াদের তুলনায় বেশি দিন বেঁচে থাকেন।

‘বাদাম’ পছন্দকারীদের জন্য এমন আরও অনেকগুলো সুখবর আছে। এটি পছন্দকারী নারীদের জন্য একটি বড় সুখবর হল, যারা সপ্তাহে অন্তত চারবার এটা খান, হৃদরোগ জটিলতায় তাদের মৃত্যুর আশংকা বাদাম না খাওয়াদের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। ১৯৯৬ সালে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে এমনটি।

বাদাম খেলে হাড় ক্ষয় রোধ করা যায় Ground nut prevents osteoporosis৪০ বছরের পর বেশির ভাগ মানুষের হাড় ক্ষয় রোগ (অস্টিওপোসিস) হয়। এই অসুখে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে, দেহের ওজন কমানো, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকগণ।

নিয়মিত এটি গ্রহণের ফলে চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ হয়।

পরে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিনডা ইউনিভার্সিটিও সমীক্ষা চালিয়ে একই রকম ফলাফল পায়। মুটিয়ে যাওয়া লোকজন স্বাস্থ্য কমাতে নানা রকম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হয়ে পড়েন রোগা। তারা নিয়মিত এটি খেয়ে আরামসে ওজন কমিয়ে নিতে পারেন।

এক নজরে বাদাম খাওয়া উপকারিতা

  • এটা খেলে মেদ ঝরিয়ে, শরীরে ফোলাভাব কমায়।
  • হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলে ভেজানো এটি।
  • ভেজানো বাদামে ভিটামিন B-17 থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে।
  • বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটাবিন বি, ই, ডি রয়েছে। ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে এটি বিশেষভাবে কাজ করে। মস্তিষ্কের যে কোষগুলো স্মৃতি সংরক্ষণ করে নিয়মিত এটি খেলে, সে কোষগুলো সজাগ থাকে। ফলে বাচ্চাদের নিয়মিত এটি খাওয়ার অভ্যাস করিয়ে দিলে তারা প্রখর মেধাশক্তির অধিকারী হতে পারে।
  • বাদামের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • নিয়মিত এটি খাওয়ার আরও একটি বিশেষ উপকার পেতে পারেন বিবাহিতরা। যৌন সক্ষমতা বাড়াতে বাদামের কার্যকরিতা বিস্ময়করভাবে বেশি। ফলে যাদের মধ্যে যৌন জীবন নিয়ে হতাশা আছে, তারা এখন থেকেই এটি খাওয়া শুরু করে দিতে পারেন। সুনিশ্চিতভাবেই ভালো ফলাফল পাবেন।
  • এছাড়া বাদামের ভিটামিন ‘ই’র কারণে বার্ধক্যের সঙ্গেও যুদ্ধ করতে পারবেন আপনি।
  • মেনোপোজ হয়ে যাওয়া নারীদের হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁদের দেহে জরুরি অনেক হরমোন তৈরি হয় না এমন অবস্থায়ও কাঁচা বাদাম হতে পারে আপনার বন্ধু। এতে শরীরের জন্য জরুরি অনেক উপকরণ রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ত্বকে জোগায় পুষ্টি, সাহায্য করে বার্ধক্যকে দূরে ঠেলতে।
কেন পেঁপেঁ খাবেন
পেঁপের (Papaya) পুষ্টিগুণপেঁপের (Papaya) পুষ্টিগুণ

বাদাম কাঁচা, নাকি, ভাজা অবস্থায় উপকারি?

  • কাঁচা বাদাম তুলনামূলকভাবে ভাল। এটি ত্বকের জন্যও অনেক ভালো। রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে এটি খেতে হয়।
  • তেলে ভাজা বাদামে অপকারিতা বেশি (যেমন: চানাচুরের সাথে যেটা থাকে)। বাদামের সাথে মধু বা চিনি মিশিয়ে খেলে উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি হবে। এতে ওজন ও রক্তচাপ বেড়ে যাবে।
  • পোলাও ,হালুয়া, ফিরনি, জর্দা প্রভৃতির সাথে এটি খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার আশংকাই বেশি।

অতএব, আমাদের উচিত ভাজা বাদামের খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলা। বাদামের কাঁচা অবস্থা শরীরের জন্য উপকারি।

কাজু বাদামের কথা না বললেই নয়

আমাদের দেশে বাজারগুলোতে কাজু বাদাম অহরহই পাওয়া যায়। এতে ফাইবারের পরিমাণ কম। তবে, রয়েছে ভিটামিন (vitamin), খনিজ (mineral) এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (anti-oxydent) ভিটামিন ই, কে ও বি৬ (Vitamin E, D, B6)। কাজু বাদামের থাকা কপার, ফসফরাস, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও সেলেনিয়াম শরীরের সুস্থতা রক্ষায় সহায়তা করে।

বাদাম খাওয়ার পর পানি পান খেলেই বিপদ!

চিকিৎসকবৃন্দের পরামর্শ অনুযায়ী, “বাদাম” খাওয়ার পর অন্তত ১৫ মিনিট পরে পানি পান করতে হয়। কারণ হিসাবে তারা বলছেন,

  • এটি খেলে শরীরে যে তাপ উৎপন্ন হয়, পানি তা ঠাণ্ডা করে দেয়। ফলে, ইহা খেতে খেতে পানি খেলে সর্দি-গরমও লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • বাদামে প্রচুর তেল থাকে। তাই এটি খাবার পর পানি পান করলে খাদ্যনালীতে ফ্যাট জমা হয়। ফলে কাশি হতে পারে।
  • বাচ্চারা ‘বাদাম’ খাওয়ার পর পানি পান করলে হজমে সমস্যা হয়।

সুতরাং, বাদামের সুস্বাদু স্বাদের পাশাপাশি এতে রয়েছে ভরপুর খাদ্যগুণ। তাই এটি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্বাস্থ্যে উজ্জীবিত থেকে কাটিয়ে দিন পুরোটা জীবন।

পড়ার মত আরও রয়েছে:
ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য