তরমুজের ২১টি গুণাগুণঃ থাকবে ভাল ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্য

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যতরমুজের ২১টি গুণাগুণঃ থাকবে ভাল ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্য

দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রথম তরমুজ (Watermelon) চাষ হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। তরমুজের বিভিন্ন জাতের মধ্যে রয়েছে – মিষ্টি, পানসে এবং তেতো। সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে ভারতে তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। দশম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে তরমুজ পৌঁছে যায় সুদূর চীন দেশে এবং আজ দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তরমুজ উত্পাদক হিসাবে পরিচিত।

তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ও রসালো ফল। ঠাণ্ডা তরমুজ গ্রীষ্মকালে বেশ জনপ্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্থান ভেদে বেশ কয়েক ধরনে ও বর্ণে তরমুজ পাওয়া যায়। এসব তরমুজের মধ্যে কোনোটি সাদা, কোনোটি আবার লাল বর্ণের। এছাড়া রয়েছে সবুজ ও হলুদ বর্ণের তরমুজ। তবে সব তরমুজেরই যথেষ্ট গুণাগুণ রয়েছে।

তরমুজে কোন কোন ভিটামিন আছে?

গ্রীষ্মে আমরা খুব আগ্রহ করে এই রসালো ফলটি খেয়ে থাকি। এই ফলটি পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। এটি পটাশিয়াম (potassium) এবং ভিটামিন এ, সি এবং বি (Vitamin A, C, and, B) সমৃদ্ধ, তবে, যে গুণে তরমুজ ফলের বিশেষত্ব তা হ’ল, লাইকোপিন (lycopene), অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট (antioxidant), যা ফলটিকে তার গভীর লাল রঙে রাঙ্গিয়ে তুলেছে।

অসংখ্য গবেষণা থেকে লাইকোপিনের উপকারী প্রভাবগুলো সম্পর্কে জানান দেইয়। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং রক্তচাপের স্তর কমিয়ে আনার জন্য পরিচিত।

এতে অন্যান্য ফলের মতো ফাইবার (Fiber) নাও থাকতে পারে, তবে তরমুজের ক্যালোরির পরিমাণ এবং ফ্যাটযুক্ত উপাদান কম এবং এতে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে।

এবার তরমুজ পুষ্টি সুবিধাগুলি একবার দেখে নিন।

ক্যালোরী (Calories)
তরমুজে ক্যালরি বেশ কম। তরমুজের ১০০ গ্রামের পরিবেশনায় রয়েছে প্রায় ৪৬ ক্যালোরি।

ভিটামিনস (Vitamins)
তরমুজ ভিটামিনে পরিপূর্ণ। তরমুজের দুটি প্রধান ভিটামিন – ভিটামিন এ এবং সি (vitamins A and C)। তরমুজে থাকা ভিটামিন এ ক্যারোটিনয়েড (carotenoid) আকারে মিশ্রিত থাকে। তরমুজ ভিটামিন সি (vitamin C) এর একটি ভাল উৎস। এক কাপ তাজা তরমুজে প্রায় ১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

পটাসিয়াম (Potassium)
টুকরা করে কাটা এক কাপ তরমুজে যে পরিমাণ পটাসিয়াম রয়েছে তা মানুষের শরীরের দৈনন্দিন চাহিদার ৪% পূরণ করে।

ফাইবার (Fiber)
প্রায় ১৭৫-২০০ ক্যালোরি তাজা তরমুজ আপনাকে ৩-৪ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার দেয় যা দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবারের একটি চমৎকার মিশ্রণ।

শর্করা (Carbohydrates)
১০০ গ্রাম তরমুজে প্রায় ১১.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এর মধ্যে ফাইবার, শর্করা এবং চিনির সংমিশ্রণও রয়েছে।

চর্বি (Fat Content)
তরমুজে খুব কম ফ্যাট থাকে। ১০০ গ্রামের তরমুজের মধ্যে মোট ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ০.২ গ্রাম।

লাইকোপেন (Lycopene)
তরমুজে থাকা ভিটামিনগুলোর মধ্যে লাইকোপেন হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন।


তরমুজের উপকারিতা

১। তরমুজ হার্টকে সুস্থ রাখে

Keeps your heart healthy

জরিপের ফল অনুসারে, তরমুজের একটি বিশেষ উপাদান হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তা ছাড়া, তরমুজের ভিটামিন-সি, ক্যারোটিন (carotene) ও পটাসিয়াম শরীরের কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

তরমুজের এই স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্যগুলিকে সিট্রুলিন (citrulline) হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে, যা এই ফলের মধ্যে পাওয়া যায়। সম্প্রতি Kentucky স্টাডি থেকে জানা যায়, সিট্রুলিন এথেরোস্ক্লেরোসিসে (atherosclerosis) উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। সিট্রুলাইন পোস্টম্যানোপসাল মহিলাদের ধমনী কাঠিন্য হ্রাস করতেও সাহায্য করে।

২। প্রদাহ প্রশমন করে

তরমুজগুলিতে পাওয়া অন্য একটি প্রাথমিক উপাদান হ’ল লাইকোপিন (lycopene), যার দুর্দান্ত উপকার রয়েছে। একটি আমেরিকান গবেষণায় জানা যায়, লাইকোপিনের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েডগুলির মধ্যে লাইকোপিনকে সর্বাপেক্ষা উপকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রদাহের জন্য লাইকোপিনের উপকারী প্রভাবগুলি বিটা ক্যারোটিনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারোটিনয়েড।

৩। শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে

কখনও ভেবেছেন কি, তরমুজে কত শতাংশ পানি রয়েছে? ফলের নাম থেকেই বোঝা যায়, তরমুজটি ৯০% পানি, যা হাইড্রেশনের অন্যতম সেরা উৎস। মূত্রবর্ধক হওয়ার ক্ষেত্রে এটি অ্যালকোহল বা ক্যাফিনের চেয়ে অনেক ভাল। এটি প্রাকৃতিক উত্স হিসাবে, কিডনিতে চাপ না দিয়ে প্রস্রাব বাড়ায়।

৪। প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

যে কোনো ক্যান্সার প্রতিরোধে তরমুজ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে – এ ভাবে বলাটা বাড়াবাড়ি হলেও তরমুজে ক্যান্সার-প্রতিরোধক উপাদান আছে। বিশেষ করে, এটি প্রোস্টেটের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৫। পেশীর ব্যথা থেকে বাঁচতে তরমুজ খান

যারা শরীরচর্চার পর পেশীর ব্যথায় ভোগেন, তরমুজ তাদের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। শরীরচর্চার অন্তত এক ঘন্টা আগে এক কাপ তরমুজের জুস পান করুন। দেখবেন, শরীররচর্চার পর পেশীতে ব্যথার অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, তরমুজের জুসে সুগারের পরিমাণ একটু বেশি। তাই জুস না খেয়ে সরাসরি তরমুজ খাওয়া ভালো।

৬। হজমে সহায়তা করে

তরমুজ, যেমন আমরা দেখেছি, প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে এবং এ কারণে এটি হজমে সহায়তা করতে পারে। এটিতে ফাইবার রয়েছে, এইভাবে হজম প্রক্রিয়ার অংশগ্রহন করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

৭। সন্তান-সম্ভবা মায়েদের জন্য উপকারী

গর্ভাবস্থায় তরমুজ বুকের জ্বালা-পোড়া কমায়। গর্ভবতী মায়েদের সকালের দিকে যে শারীরিক দূর্বলতা হয়, তা দূর করতে সহায়তা করে। সাধারনতঃ তৃতীয় মাসের দিকে শরীরের পেশীতে টান-ধরা রোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

৮। তরমুজ দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তরমুজ থাকলে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকবে। কারণ, তরমুজে প্রচুর ভিটামিট ‘এ’ থাকে। আর ভিটামিন ‘এ’ থাকা না-থাকার ওপর নির্ভর করে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকা বা না-থাকা। ভিটামিন ‘এ’ কে চোখের “পুষ্টি বিশেষজ্ঞ” বলা হয়।

৯। তরমুজ অ্যাজমা প্রতিরোধে সহায়ক

সাধারণ মানুষ নিয়মিত তরমুজ খেয়ে অ্যাজমা বা হাঁপানি প্রতিরোধ করতে পারেন। তরমুজে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। যারা ইতোমধ্যে অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও তরমুজ খেয়ে উপকার পেতে পারেন। আরেকটি বিষয়, তরমুজ ফুসফুস সুস্থ রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

১০। তরমুজ রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে

আপনার রক্তচাপ ঠিক আছে কি? অনেকেই খাদ্যগ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন ও শরীরচর্চার মাধ্যমে রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। চিকিত্সকরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় নিয়মিত তরমুজ রাখুন। কারণ, তরমুজে প্রচুর পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

১১। তরমুজ ত্বকের উপকার করে

যদি আপনার ত্বকে freckle বা মেচেতা থাকে, তবে তা থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিন তরমুজ খান। এই বিশেষজ্ঞদের কথা এমন, তরমুজের সমৃদ্ধ ভিটামিন ‘এ’ দেহের ত্বকের জন্য উপকারী। নিয়মিত তরমুজ খেলে আপনার ত্বকের হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরে আসবে – এমন সম্ভাবনা প্রবল।

জার্মানীর এক গবেষণা অনুসারে জানা গেছে, লাইকোপিন এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বককে রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করতে পারে। বিটা ক্যারোটিন সোরোসিস (psoriasis) এবং ভিটিলিগো (vitiligo) এর মতো কিছু ত্বকের অসুবিধা প্রতিরোধ করতেও পরিচিত।

১২। তরমুজ হাড় সুস্থ রাখে

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে হাড়ে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এ সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে। এ বাড়তি চাহিদা পূরণ না হলে, হাত বা পায়ে ব্যথা হবে; হাঁটাহাঁটিতে সমস্যা হবে। অথচ বয়স বাড়লে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা সার্বিকভাবে শরীর সুস্থ রাখার জন্য জরুরি। যদি আপনি নিয়মিত তরমুজ খান, তবে এর ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম আপনার হাড় মজবুত রাখবে। এর সুফল পাবেন বয়সকালে।

Aids weight loss

১৩। ওজন কমাতে সহায়তা করে

তরমুজ স্বাস্থ্যের অন্যতম সেরা সুবিধা হ’ল এটি স্বাস্থ্যকর ওজন হ্রাসেও সহায়তা করে। হ্যাঁ, এতে পানির পরিমাণ বেশী থাকায় তরমুজ থেকে আপনি বেশি ক্যালোরী গ্রহন করতে পারবেন না। আর, পানি বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং টক্সিন এবং চর্বি বের করতে শরীরকে সাহায় করে, যা আপনাকে ওজন হ্রাসে অবদান রাখতে পারে।

তরমুজের এক বড় টুকরায় প্রায় ৮৬ ক্যালোরি থাকে, ১ গ্রামেরও কম ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। এটি ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং আপনার শরীরের প্রতিদিনের চাহিদার ৫% ফাইবার সরবরাহ করে, যা এটিকে ফ্যাট বার্ন এবং ওজন হ্রাসের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

১৪। তরমুজ কিডনি বা বৃক্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

আপনাদের কেউ কি কখনও কিডনির পাথর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন? কিডনিতে পাথর হলে এবং তা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। অনেকে এ ব্যথা সহ্য করতে পারেন না। যারা, এ থেকে সাবধান থাকতে চান, তাদের উচিত নিয়মিত তরমুজ খাওয়া। না, নিয়মিত তরমুজ খেলে আপনার কিডনি পাথরমুক্ত থাকবে, এমন নয়। তবে, এতে আপনার কিডনির ওপর চাপ কমবে। আর কিডনি যখন তার কাজ ঠিকমতো করবে, তখন সেখানে পাথর হবার আশঙ্কাও কমবে। নিয়মিত তরমুজ খেলে আপনার প্রস্রাবের ধারা স্বাভাবিক থাকবে। এতে কিডনি পাথর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

১৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

“ভিটামিন সি” সমৃদ্ধ তরমুজ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে মধ্যে ভিটামিন বি৬ রয়েছে, যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাতে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে ও এই ভিটামিন লোহিত রক্তকণিকা গঠনেও সহায়তা করে। এই ফলের মধ্যে “ভিটামিন এ” রয়েছে, যা প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

১৬। ডায়াবেটিস উপশমে সহায়তা করে

তরমুজ এবং ডায়াবেটিসের মধ্যে যোগসূত্রটি কী? যদিও তরমুজের উচ্চমাত্রায় গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে, তবে এটির গ্লাইসেমিক পরিমাণ কম (একটি মান যার দ্বারা একটি নির্দিষ্ট খাদ্য কোনও ব্যক্তির রক্তের গ্লুকোজ স্তর বাড়িয়ে তুলে), এবং তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত।

নাইজেরিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্য একটি গবেষণায় তরমুজ পোমাস জুসের (pomace juice) উপকারী প্রভাবগুলি লক্ষ্য করা গেছে – এটি ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যুগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত সাদা ফ্যাটের সংখ্যা হ্রাস করে, যা দিন শেষে ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় সহায়তা করে।

তবে, এই বিষয়ে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তরমুজ খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

১৭। তরমুজ যৌন স্বাস্থ্য ভাল রাখে

তরমুজের অ্যামিনো অ্যাসিড সিট্রুলাইন (amino acid citrulline) রক্তনালীগুলি শিথিল ও তরল করে এবং যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গ-উত্থানজনিত অসুস্থতার চিকিত্সায় সহায়তা করতে পারে। সিট্রুলাইন আরজিনিনে (arginine) রূপান্তরিত হয়, যা নাইট্রিক অক্সাইডের পূর্বসূরী – এটা রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহে সহায়তা করে।

প্রাকৃতিক ভিওগ্রা (viagra) হিসাবেও তরমুজ কাজ করতে পারে। তরমুজের ভিটামিন, বিশেষত ফাইটোনিট্রিয়েন্টস (phytonutrients) মানবদেহের সাথে প্রতিক্রিয়া করে এই জাতীয় শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো কাজ করতে সহায়তা করে।

১৮। কোষের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে

লাইকোপিন সমৃদ্ধ তরমুজ, কোষকে হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। লাইকোপেন শরীরের মধ্যে থাকা ফ্রি-র‌্যাডিক্যালগুলির (free radicals) সাথে লড়াই করে এবং কোষের ক্ষতি রোধ করে।

১৯। প্রখর রোদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে

তরমুজের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে পানি, তাই, তরমুজ হাইপারথার্মিয়া (hyperthermia) প্রতিরোধের একটি পরিচিত উপাদান।

হিটস্ট্রোকের চিকিৎসা করতে তরমুজের লক্ষ্যনীয় ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। তরমুজ এমন কয়েকটি ফলের মধ্যে একটি, যা হিটস্ট্রোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে – মুক্তি দেয় জ্বালাপোড়া থেকে এবং তৃষ্ণা নিবারণে সাহায্য করে।

২০। দাঁতের গাম ভাল রাখে

তরমুজে থাকা “ভিটামিন সি” দাঁতের কৌশিক নালিকাগুলো (capillaries) এবং মাড়িকে স্বাস্থ্যকর রাখে। “ভিটামিন সি” এর ঘাটতির ফলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে এবং জিনজিভাইটিস (gingivitis বা মাড়ির প্রদাহ) সৃষ্টি করতে পারে এবং তরমুজের রসে রয়েছে এর এই রোগগুলোর প্রতিরোধী উপাদান।

তরমুজের ভিটামিন সি মুখের ব্যাকটিরিয়াকেও মেরে ফেলতে পারে, যা মাড়ির রোগ এবং অন্যান্য মাড়ির সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

২১। শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে

তরমুজ ভিটামিন বি এর একটি ভাল উত্স, যা আপনার দেহে শক্তি উৎপাদন করে। এতে ক্যালরি কম, কিন্তু, উচ্চ শক্তি যোগান দেয়। তরমুজ আপনাকে দিনের অ্যাকটিভ থাকতে সহায়তা করতে পারে।

তরমুজের থাকা পটাসিয়ামের কারণে আপনি উপকার পেতে পারেন। পটাশিয়ামে রয়েছে এমন একটি ইলেক্ট্রোলাইট, যা ক্লান্তিকর দিনের পরে অবসাদগ্রস্ততা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে।

ভালো তরমুজ চিনবেন যেভাবে

বাজারে গিয়ে শত শত তরমুজের পসরা থেকে ভাল তরমুজ বেছে নেয়ার সময় অনেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়ে যান। বিক্রেতা মিষ্টি কথা বিভ্রান্ত হয়ে বিস্বাদ তরমুজ কিনে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে বিব্রত হয়ে পড়েন। এজন্য কেউ কেউ তরমুজ কেনার সময় তা কেটে দেখে নেন। কিন্তু তরমুজ কেটে দেখে কেনাটা অনেকেরই হয়ে ওঠে না। সুতরাং ভালো তরমুজ কীভাবে চিনবেন, সে সম্পর্কে আগাম সতর্ক থাকার জন্য নীচের টিপসগুলো দেখে নিন।

  • তরমুজ কেনার পূর্বে তাতে টোকা দিয়ে দেখুন। একটু শক্ত ধরনের আওয়াজ পাওয়া গেলে সেই তরমুজ সাধারণত ভালো হবার কথা।
  • বেশি সবুজ তরমুজের ভেতরটা একটু সাদাটে হয়, কম সবুজ কিংবা হলদে তরমুজগুলো সাধারণত বেশি পাকা হয়। পাকা তরমুজই বেশি লাল হয়।
  • এছাড়া তুলনামূলক ভারী তরমুজ সাধারণত তাজা হয় বেশি, তাই কেনার সময় এই ব্যাপারটিও লক্ষণীয়।

তরমুজ কেনার ক্ষেত্রে অনেকে বেশি লাল তরমুজ আশা করেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন বেশি লাল তরমুজ না কেনা-ই ভালো, কারণ রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর কারণে তরমুজ অতিরিক্ত লাল হতে পারে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ইদানিং তরমুজে ক্ষতিকর লাল রঙ ও মিষ্টি সেকারিন মিশিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে পুশ করে পাকা ও লাল বলে বিক্রি করে থাকে।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, তরমুজে ফরমালিন মেশানো থাকতে পারে। ফরমালিন মেশানো হলে তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই বাজার থেকে তরমুজ কিনে আনার পর চার-পাঁচ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, এতে তরমুজের ভেতরের ফরমালিনের ক্রিয়া কমে যাবে।

তরমুজের বিচির উপকারিতা

আমেরিকার কৃষি দফতর পরামর্শ দিয়ে বলেছে, তরমুজের দানা ফেলবেন না। তরমুজ কাটার সময় দানাগুলো একজায়গায় জড়ো করে, ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রেখে দিন। দিনে যখন খুশি যেভাবে খুশি স্ন্যাক্স মনে করে খেয়ে ফেলুন।

প্রোটিন: তরমুজের বিচিতে রয়েছে উচ্চ প্রোটিন। এতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড যার মধ্যে একটা আর্গিনাইন। আর্গিনাইন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের চিকিত্‍‌সার ক্ষেত্রেও এটা একটা জরুরি উপাদান। এ ছাড়াও গ্লুটামিক অ্যাসিড, লাইসিন, ট্রিপ্টোফানের মতো প্রোটিন রয়েছে তরমুজের বিচিতে।

ভিটামিন বি: বিভিন্ন ভিটামিন বি-ও রয়েছে তরমুজের বিচিতে। নিয়াসিনের মতো জরুরি “ভিটামিন বি” আপনি পাবেন তরমুজের বিচিতে। যার কাজ হল স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রকে রক্ষণাবেক্ষণ করা।

মিনারেলস: এর বিচি’তে খনিজের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম। এ ছাড়াও ফসফরাস, আয়রন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও জিঙ্ক রয়েছে। ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ফ্যাট: এককাপ শুকনো তরমুজের দানায় ৫১ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। এর ১১ শতাংশ হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বাকিটা পলিস্যাচুরেটেড, মনোস্যাচুরেটেড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, মনো এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে সাহায্য করে। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।


Photo by Floh Maier on Unsplash


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.