হযরত আবু বকর (রা) এর গৌরবোজ্জ্বল জীবনী

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামহযরত আবু বকর (রা) এর গৌরবোজ্জ্বল জীবনী

হযরত আবু বকর (রা.) একজন মস্ত বড় সাহাবীর নাম। তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সর্বাধিক প্রিয় মানুষ। মক্কার কুরাইশ বংশের তাইম গোত্রে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবু কুহাফা। মাতার নাম খায়র সালমা। তাঁর পিতামাতা উভয়ে বিশ্বনবী (সা) এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর (রা) এর জন্মের পর পিতামাতা তাঁর নাম দিলেন আবুল কাবা। পবিত্র কাবার নামে পুত্রকে উৎসর্গ করলেন।

পরে মুহাম্মাদ (সা.) আবুল কাবার বদলে নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। তবে তাঁর নাম আবু বকর বলে সবাই ডাকতো। মা-বাবা তাদের স্নেহের পুত্রকে ‘আতিক’ বলেও ডাকতেন। ‘আতিক‘ শব্দের অর্থ হল, ‘মুক্ত‘।

আবু বকরের স্ত্রী কুতাইলা বিনতে আবদুল উজ্জা ইসলাম গ্রহণ করেননি। আবু বকর তাকে তালাক দিয়েছিলেন। তার অন্য স্ত্রী উম্ম রুমান ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ছেলে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ছাড়া অন্য সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবু বকরের সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটলেও পরবর্তীকালে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর মুসলিম হয়েছিলেন।

শিশু বয়স হতেই আবু বকর ছিলেন অতিশয় কোমল ও সুন্দর স্বভাবের অধিকারী। শিক্ষা-দীক্ষায় তিনি ছিলেন সুপরিচিত। তখনকার যুগের একজন বড় কবি ছিলেন তিনি। একজন সুবক্তা হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল। বংশ পরিচয় জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। কুরআন ও হাদিসে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য।

শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি তার গোত্রীয় পেশা ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন বড় ব্যবসায়ী। বিশ্বনবী (সা.) ও আবু বকর (রা.) প্রায় সমবয়সী হওয়ায় নবীজী’র সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তিনি নবীজীকে খুব ভালবাসতেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) তখনও নবী হননি। অথচ আবু বকর তাঁকে খুব বিশ্বাস করতেন।

হযরত আবু বকর (রা.) একবার ব্যবসার কাজে গেলেন ইয়েমেনে। ব্যবসার কাজ সেরে এসে শুনলেন মুহাম্মাদ (সা) নবুয়ত লাভ করেছেন। তিনি একত্ববাদের প্রচার শুরু করেছেন। এ সব কথা শুনে আবু বকর (রা.) আর দেরি করলেন না। তিনি সোজা গিয়ে নবীজীর কাছে হাজির হলেন। নবীজীর দ্বীনের দাওয়াত কবুল করে মুসলমান হয়ে গেলেন।

এদিকে ইসলাম প্রচার করায় মক্কার অবিস্বাসীরা নবীজীর উপরে ক্ষেপে গেল। তারা বিশ্বনবীর সাথে শত্রুতা শুরু করল। নবীজীর উপরে জুলুম নিপীড়ন চালাতেও তারা দ্বিধা করল না। মহানবী (সা.) এর এ দুর্দিনে আবু বকর (রা.) নবীজীর সাথে সাথে থাকতেন। এ জন্য তিনিও কম কষ্ট সহ্য করেননি। নবীজী যখন যুদ্ধে যেতেন আবু বকর (রা) তাঁর সাথে থেকে কাফেরদের সাথে লড়াই করতেন। এক সময় নবীজী যখন আর মক্কায় থাকতে পারলেন না তখন তিনি আবু বকর (রা) কে সাথে নিয়ে বহু কষ্টে তিনি মদীনায় হিজরত করেন।

মক্কায় রাসুল (সা.) অভ্যাস ছিল প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় আবু বকরের বাড়ীতে গমন করা । কোন বিষয়ে পরামর্শে প্রয়োজন হলে তাঁর সাথে পরামর্শ করা। রাসুল (সা.) দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যে কোথাও গেলে তিনিও সাধারণত সঙ্গে থাকতেন।

ইসলামের সেবা

হযরত আবু বকর (রা.) ইসলামের একজন বড় সেবক ছিলেন। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তারই একনিষ্ঠ চেষ্টায় হযরত উসমান (রা.), হযরত তালহা (রা.), হযরত যুবায়ের (রা.), হযরত আবদুর রহমান (রা.), হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) – এমন বড় বড় সাহাবী ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:  হযরত উসমান (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

যে সব দাসদাসী ইসলাম কবুল করত তাদের উপরে নেমে আসত অকথ্য নির্যাতন। তাদের মুনিবরা তাদের উপরে চালাত অসহ্য নির্যাতন। এসব নিপীড়ন হযরত আবু বকর (রা.) এর মনে খুব কষ্ট দিত। তাই তিনি তাঁর নিউ অর্থে এসব দাসদাসীদেরকে কিনে মুক্ত করে দিতেন।

ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রা.) সহ এমন বহু দাসকে তিনি কাফেরদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

আবু বকর (রা.) এর এ কাজ দেখে তাঁর পিতা আবু কুহাফা একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন গরিব দাসদাসী মুক্ত করছ, এতে কোমার কী লাভ? জবাবে আবু বকর (রা.) বলেছিলেন, “শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি এ কাজ করে থাকি”। কত বড় মহান লোক ছিলেন আবু বকর (রা.)।

তাবুক যুদ্ধের সময় মুসলমানরা অর্থের সংকটে পড়ে গিয়েছিল। এ সময় হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর সকল সম্পদ নিয়ে নবীজী’র সাওমনে এনে হাজির করলেন। নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ঘরে কী রেখে এলে? তিনি সাফ সাফ জবাব দিলেন,

আমার ঘরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি”।

রাসুল (সাঃ) এর মুখে মি‘রাজের কথা শুনে অনেকেই যখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝখানে দোল খাচ্ছিল, তখন তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন ।

খলিফা নির্বাচন

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইন্তেকাল করেন। তখন মুসলমানদের নেতা ও খলিফা নির্বাচিত হন হযরত আবু বকর (রা)। এ সময় বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য নানা রকম সমস্যার মুখে পড়ে। মহানবী (সা.) এর অনুপস্থিতিতে কাফের-মুশরেকসহ বিভ্রান্ত মুসলমানরা নানা ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।

কিছু লোক তখন নিজেদের নবী হওয়ার মিথা দাবি তুলে। আবার কেউ কেউ যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কেউবা ইসলাম ত্যাগ করে আবার নিউ নিউ ধর্মে ফিরে যায়। হযরত আবু বকর (রা.) কঠোর হাতে সে সব ষড়যন্ত্র দমন করেন।

তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। শুধু তাই নয়, তিনিই মুহাম্মাদ (সা.) এর আদর্শ ও নির্দেশমত দেশের শাসন কার্য পরিচালনা করেন।

হযরত আবু বকরের (রা.) আরেকটি অবদান ছিল, তিনি পবিত্র কুরআনের সংকলন ও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ভূমিলা পালন করেন। তাঁর শাসনামলে ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত গলে অনেক কুরআনে হাফিজ শহীদ হন। এতে পবিত্র কুরআন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় আবু বকর (রা.) কুরআন সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

সে সময় না ছিল কাগজপত্র, না ছিল ছাপাখানা। তাই সব সাহাবা গাছের বাকল, হাড়, চামড়া, ইত্যাদিতে কুরআনের আয়াত লিখে রেখেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এসব আয়াত আকত্রিত করে একটি কপি করালেন এবং বিশ্বনবী (সা.) এর স্ত্রী হযরত হাফসার নিক্ত সেগুলো গচ্ছিত রাখলেন।

এভাবে ইসলামকে রক্ষা এবং মহৎ কাজের নেতৃত্ব দানের জন্য হযরত আবু বকর (রা.) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়। তিনি দু’বছরের কিছু অধিককাল খিলাফতের মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:  যে সব কারণে রোজা ভেঙ্গে ফেলা যায়

রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রেরণ করার জন্য হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর ইন্তেকালের আগে এক সৈন্য বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন, যারা উত্তর সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করছিল। নবীজী (সা.) এর ইন্তিকালের পরও এই সৈন্যবাহিনী মদীনাতেই অবস্থান করছিল।

হযরত আবু বকর (রা.) খলীফা হওয়ার পর মদীনার ভিতর এবং বাইরের অবস্থা সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময় মহানবী (সা.) এর অনেক সাহাবী তাঁকে এই সৈন্য বাহিনী রোমানদের বিরুদ্ধে তখনই প্রেরণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কিন্তু, হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে তাদের সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আবু কোহাফার পুত্রের কি অধিকার আছে যে, মহানবী (সা.) এর দ্বারা সূচিত কোন কাজকে রোধ করে”।

মুসলিম সেনারা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর নেতৃত্বে বাহরাইনে এক বিদ্রোহকে নাস্তানাবুদ করে দেয়। তারপর পারস্যরা পরাজিত হয়, যারা বাহরাইনের বিদ্রোহী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছিল। অতঃপর, মুসলিম সৈন্যবাহিনী ‘আজনাদান’ এবং ‘ইয়ারমুকে’র যুদ্ধে রোমান পরাশক্তিকে পরজিত করে এবং এভাবে গোটা সিরিয়ায় ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠিত হয়।

হযরত আবু বকর (রা.) এর খেলাফত সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ইতিহাসবিদ P.K. Hetti তার “The History of Arab” গ্রন্থে লিখেছেন যে,

If someone in the first-third of the seventh Christian century had the audacity to prophesy that within a decade some unheralded, unforeseen power from the hitherto barbarians and little known land of Arabia was to make its appearance, hurl itself against the only two powers of the age, fall heir to the one-the Sassanian, and strip the other, the Byzantine of its fairest provinces, he would undoubtedly be declared a lunatic. Yet that was what happened.”

H.G. Wale হযরত আবু বকর (রা.) কে যেভাবে মূল্যায়ন করেন, সে সম্পর্কে বলেছিলেন,

“It (Islam) prevailed because everywhere it found politically apathetic people, robbed, oppressed, bullied, uneducated and unorganized and it found selfish and unsound governments out of touch with the people.”

সামরিক অভিযানে আবু বকর (রা) এর সাহসিকতা

হিজরতের পর সকল অভিযানেই তিনি রাসুল (সা.) সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কোন একটি অভিযানেও অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হননি।

বদর ও উহুদের যুদ্ধ

মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তার ছিল বদরের যুদ্ধ। ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল। হযরত আবু বকর (রা.) বদরের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুহাম্মদ (সা.) এর তাবুর প্রহরার দায়িত্বে ছিলেন। পরের বছর উহুদের যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন।

ইহুদি গোত্রের সাথে সংঘর্ষ

পরে আবু বকর ইহুদি বনু নাদির গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

খন্দকের যুদ্ধ

৬২৭ সালে তিনি খন্দকের যুদ্ধ এবং পরবর্তী বনু কুরাইজা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় মুহাম্মদ (সা.) সৈনিকদের বেশ কয়েকটি দলে ভাগ করে একেক অংশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি আবু বকরের তত্ত্বাবধানে ছিল। শত্রুরা নানাভাবে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করলেও আবু বকর তার দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। তার নামে সে অংশে একটি মসজিদ নির্মিত হয় যা মসজিদ-ই-সিদ্দিকি বলে পরিচিতি লাভ করে।

আরও পড়ুন:  হযরত আলী (রা): একজন প্রকৃত বীরের জীবনী

৬২৮ সালে তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এই সন্ধির অন্যতম সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। তিনি খায়বারের যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন।

মক্কা বিজয়

৬৩০ সালে আবু বকর মক্কা বিজয়ে অংশ নিয়েছেন। এর পূর্বে তার বাবা উসমান আবু কুহাফা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

হুনায়ন ও তাইফের যুদ্ধ

৬৩০ সালে তিনি হুনায়নের যুদ্ধ এবং তাইফ অবরোধে অংশ নেন। হুনায়নের যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাবাহিনী হুনায়ন উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের তীরের সম্মুখীন হয়। অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলা হওয়ায় মুসলিমদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। অনেকে ছুটোছুটি শুরু করলেও কয়েকজন সাহাবি মুহাম্মদ (সা.) কে রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। আবু বকর তন্মধ্যে অন্যতম।

তাবুক অভিযান

৬৩০ সালে তাবুক অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। এতে সহায়তার জন্য মুহাম্মদ (সা.) মুসলিমদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে বলেন। উসমান ইবনে আফফান এতে প্রায় নয়শ উট এবং একশ ঘোড়া পর্যন্ত দান করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তার সম্পদের অর্ধেক দান করেন। আবু বকর তার সকল সম্পদ দান করে এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

চরিত্রের মাধুর্যতা

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর চারিত্রিক মাধুর্য ছিল অনন্য। তিনি সহজ-সরল ও সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। তিনি জাঁকজমক ও বাহুল্য পছন্দ করতেন না। খলিফা হওয়ার পরও তাঁর ব্যবহার, পোশাক-আশাক ও মন-মেজাজে কোনো আতিশয্য লক্ষ্য করা যায়নি।

তিনি ছিলেন ন্যায়বান, সত্যনিষ্ট ও স্থিরচিত্তের মানুষ। তাঁর ঈমানের দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়নতা, অসীম ধৈর্য্য, কঠিন সংযম তাঁকে মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। হযরত আবু বকর (রা) সম্পর্কে হযরত আলী (রা) বলেন,

রাসূলে করীম (সা) এর পর, আবু বকর ছিলেন শ্রেষ্ঠ মুসলমান।

মৌলানা মুহাম্মদ আলী বলেছেন,

আবু বকর (রা) এর নম্রতা, একনিষ্ঠ অনাড়ম্বর জীবন, মহান নীতিজ্ঞান, ইসলামে দৃড় সংকল্প, অবিচল অধ্যবসায় প্রভৃতি চারিত্রিক বৈষিষ্ট্যের জন্য মহানবী (সা) এর পরই তাঁর স্থান।

ইন্তেকাল ও জানাজা

হযরত আবু বকর (রা) ১৩ হিজরী সালের ৭ জমাদিউস উখরা জ্বরে প্রচণ্ড আক্রান্ত হন। ১৫ দিন জ্বরে ভোগার পর ২১ জমাদিউল উখরা ২৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

হযরত উমার (রা.) তাঁর জানাজা নামাযে ইমামতি করেন। তাঁকে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর পাশে দাফন করা হয়।

হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর চরিত্রগুণ, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও ইসলামের সেবায় তাঁর অনন্য অবদান সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁর চরিত্র বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করলে বর্তমান সমাজ বহু সমস্যা থেকে স্বস্তি পেতে পারে।

Photo by Carlos Leret on Unsplash


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম
ট্যাগঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.