হযরত আদম (আ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামহযরত আদম (আ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

আল্লাহ তায়া’আ ফেরেশতাদের ডেকে বললেন, আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই। তারা বলল, আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই তো আপনার গুণগান করছি এবং পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জান না। আল্লাহ তায়া’লা এক মহান উদ্দেশ্যে হযরত আদম (আ) কে সৃষ্টি করলেন। সে উদ্দেশ্যে হলো, তাঁর ইবাদত করা ও তাঁর হুকুম মেনে চলা, পৃথিবীতে তাঁর বিধি-বিধান জারি করা। তিনি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, “আমি জিন ও মানুষকে আমার ইবাদাতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি”। (সূরা জারিয়াতঃ আয়াত ৫৬)

পরিচয়

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানুষ ও সর্বপ্রথম নবী হলেন হযরত আদম (আ)। মহান আল্লাহ মাটি দ্বারা আদম (আ) এর দেহের একটা আকৃতি বানালেন। এরপর সেই দেহের মধ্যে প্রাণ দান করলেন। আল্লাহ আদম (আ) কে অনেক জ্ঞান শিক্ষা দিলেন এবং তাঁর এই জ্ঞানের কারণেই সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে তাঁকে শ্রেষ্ট ঘোষণা করলেন। তারপর আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, তোমরা আদম (আ) এর সম্মানে সিজদাহ কর। সকলে সিজদাহ করল, কিন্তু ইবলিশ সিজদাহ করল না। সে বলল, আদম মাটির তৈরী আর আমি আগুনের তৈরী। আমি আদম থেকে শ্রেষ্ঠ। সে অহঙ্কার করল। আল্লাহ অহঙ্কারকারীকে পছন্দ করলেন না। তাই, ইবলিশ অভিশপ্ত হয়ে শয়তানে পরিণত হলো।

বেহেশতে অবস্থান

আল্লাহ তায়া’লা (আ) কে বেহেশতে থাকতে দিলেন। সেখানে নানা রকম খাবার, ফল-ফলাদি, আরাম-আনন্দের ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু আদম ছিলেন একা। তাঁর একাকী ভাল লাগল না। অতঃপর আল্লাহ তায়া’লা তাঁর সঙ্গী সৃষ্টি করলেন। তাঁর নাম হাওয়া (আ)।

তারপর আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমরা বেহেশতে থাক, যা খুশি পানাহার কর। আল্লাহ তাঁদের একটি গাছ দেখিয়ে বললেন, ঐ গাছটির ধারে কাছেও যেও না। এই হুকুম না মানলে তোমাদের ভীষণ ক্ষতি হবে।

দুনিয়ায় প্রেরণ

আদম (আ) কে সিজদাহ না করার কারণে আল্লাহ ইবলিশকে বেহেশত থেকে বের করে দিলেন। ইবলিশ আদমের এই সুখ-শান্তি সহ্য করতে পারল না। তাই, সে আদমের শত্রু হয়ে দাঁড়াল। অনেক ছলচাতুরি দ্বারা সে আদমকে আল্লাহর নির্দেশ ভুলিয়ে দিল। তার প্ররোচনায় আদম (আ) ও হাওয়া (আ) নিষিদ্ধ গাছে কাছে গিয়ে ফল খেলেন। এ জন্য আল্লাহ আদম (আ) ও হাওয়া (আ) কে বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন।

আল্লাহর ক্ষমা

আদম (আ) ও হাওয়া (আ) নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অনেক কান্নাকাটি করলেন। অবশেষে আল্লাহ তায়া’লা তাঁদের ক্কমা করে দিলেন এবং পৃথিবীতে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার আদেশ দিলেন। সাথে সাথে এটাও বলে দিলেন, পৃথিবীতে তাঁরা যদি আল্লাহর নির্দেশ মত জীবনযাপন করেন তবে মৃত্যুর পর পুনরায় তাঁদের বেহেশতে বসবাস করতে দেয়া হবে।

পৃথিবীতে বসবাস

এরপর আদম (আ) ও হাওয়া (আ) পৃথিবীতে বসবাস শুরু করলেন। তাঁদের মাধ্যমে অসংখ্য মানব জন্ম লাভ করল। ক্রমে ক্রমে পৃথিবী ভরে উঠল মানুষে মানুষে। আমরা সকলেই তাঁদেরই বংশধর। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আ) এবং আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ)। আদম (আ) ভুল করার পর আল্লাহর কাছে তাওবা করেছিলেন। আমরাও যদি কোন অপরাধ করি, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়া’লার কাছে ক্ষ্মা চাইব, তাওবা করব। আমরা তাঁর আদর্শে আমাদের জীবন গড়ে তুলব।

শিক্ষা

ইবলিশ অহঙ্কার করার কারণে আল্লাহ তায়া’লার রহমত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার পতন হয়েছে। তার সে বেহেশত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহঙ্কার করা খুবই গর্হিত কাজ। আমরা কখনও অহঙ্কার করব না।

Photo by Shot by Cerqueira on Unsplash

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.