হযরত উসমান (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামহযরত উসমান (রা.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মুসলিম জাহানের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)। তিনি ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় কুরাইশ বংশে উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। উসমান (রা.) এর উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ, আবু আমর ও আবু লায়লা। তাঁর উপাধি ছিল গণি ও যুননুরাইন। গণি অর্থ “ধনী”। তিনি তখনকার আরবে সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। যুননুরাইন অর্থ দু’টি নূরের অধিকারী। হযরত উসমান (রা.) বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে একজনের মৃত্যুর পর অন্যজনকে বিয়ে করেছিলেন বলে তাঁকে যুননুরাইন বলা হতো।

তাঁর পিতার নাম আফফান ইবনে আবু আস। আর মাতার নাম আরওয়া বিনতে কুরাইয। হযরত উসমান (রা.) শিশুকাল হতেই ছিলেন বেশ নম্র ও ভদ্র। আরবের পাপ ও পঙ্কিলতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি নিজ চেষ্টায় জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের অন্যতম কুষ্টিবিদ্যা বিশারদ।

হযরত উসমান (রা.) ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন, তাঁর খালা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভবিষ্যৎ বক্তা। নাম তার সুদা। তিনি উসমানকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেন। খালা সুদার উৎসাহেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন বলে এক সূত্রে জানা যায়।

কারও কারও মতে উসমান (রা.) একদা ব্যবসার কাজে সিরিয়া সফর করেন। একদিন বিশ্রাম নেয়ার সময় তিনি স্বপন দেখেন কে যেন বলছে, ওহে ঘুমন্ত ব্যক্তি, তাড়াতাড়ি কর। আহমদ নামে একজন রাসূল মক্কায় আত্মপ্রকাশ করেছেন।

এর কিছুদিন পরে মক্কার ফিরে তিনি মহানবী (সা.) সম্পর্কে জানতে পারেন যে, তিনি আল্লাহর বানী প্রচার করছেন। এ কথা শুনে তাঁর মনে তোলপাড় শুরু হয়। তিনি ছুটে যান তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হযরত আবু বকর (রা.) এর কাছে। তাঁর কথায় উসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। উসমান (রা.) মক্কায় একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কিন্তু, ইসলাম কবুল করার পর তাঁর উপরে নেমে আসে নানা রকম অত্যাচার। আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে ইসলাম ত্যাগের জন্য চাপ দিতে থাকে। শত্রুরাও চালায় ষড়যন্ত্র। তবে, কোন চাপ ও নিপীড়ন তাঁকে সত্যের পথ থেকে টলাতে পারেনি।

ইসলামের জন্য তাঁর অবদান

ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে ইসলাম ও মুসলমান্দের স্বার্থে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অঢেল সম্পদের মালিক হবার কারণে তিনি তাঁর অর্থসম্পদ দ্বীনের কাজে ব্যয় করেন। তিনি ইসলামের জন্য মুক্ত হস্তে দান করতেন। বহু অর্থ ব্যয়ে তিনি প্রায় দুই হাজার ক্রীতদাসকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন। কথিত আছে, মাত্র দু’টি উট ব্যতীত তিনি তার সব ধন-সম্পদ ইসলামের উদ্দ্যেশ্যে উৎসর্গ করেন। তিনি অধিকাংশ জেহাদে অংশ নেন। উসমান (রা.) ১৪৬টি হাদিস বর্ণনা করেন।

কুরআন সংকলন

হযরত উসমান (রা.) লক্ষ্য করলেন যে, আরবের বিভিন্ন গোত্র বিভিন্নভাবে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে। এতে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাই, তিনি হযরত আবু বকর (রা.) কর্তৃক সংগৃহীত ও সংরক্ষিত কুরআনের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। এগুলো হযরত হাফসা (রা.) এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। এই পাণ্ডুলিপি উসমান (রা.) প্রতিরূপ (copy) করান এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন। এভাবে তিনি মুসলিম জাতির সংহতি রক্ষা করেন। এ জন্য হযরত উসমান (রা.) জামিউল কুরআন নামে খ্যাতি অর্জন করেন।

হযরত উসমান (রা.) এর চরিত্র মাধুর্য

অনুপম চরিত্র মাধুর্যে হযরত উসমান (রা.) ছিলেন অনন্য। তাঁর আচার, ব্যবহার, নম্রতা, ভদ্রতা, দানশীলতা ও ধর্মভীরুতার জন্য তিনি ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। বিশাল সাম্রাজ্য ও অঢেল ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হয়েও তিনি সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। বিশ্বাস, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা ছিল তাঁর চরিত্রের ভূষণ।

শাহাদাতবরণ ও দাফন

উসমান (রা.) এর খেলাফতের শেষ দিকে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তারা মুসলমানদের মধ্যে ঝগড়া-বিভেদ সৃষ্টি করে। ফলে মুসলিম সাম্রাজ্যে দেখা দেওয় চরম অশান্তি। সরল, সহজ ও ধর্মভীরু খলিফা উসমান (রা.) হিজরি ৩৫ সালের ১৮ জিলহজ তুজিবী নামক ঘাতকের হাতে শাহাদাতবরণ করেন।

এ সময় তিনি আসরের নামাজ শেষ করে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন। শাহাদাতের সময় উসমান (রা.) এর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। হযরত যুবাইর ইবনে মুতয়িম তাঁর জানাযায় ইমামতি করেন।

মসজিদে নববির পাশে ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানের পাশে কাওকাব নামক অংশে রক্তাক্ত ও গোসলবিহীন অবস্থায় তাঁকে দাফন করা হয়।

Photo by Sergey Pesterev on Unsplash


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম
ট্যাগঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.