করোনাভাইরাস কি: লক্ষণ, সাবধানতা ও প্রতিকার

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যকরোনাভাইরাস কি: লক্ষণ, সাবধানতা ও প্রতিকার

২০১৯ সালের শেষ দিকে ‘করোনাভাইরাস’ (Coronavirus) নামে নতুন এক ভাইরাস শনাক্ত করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে। দেশটির কেন্দ্রীয় হুবেই প্রদেশের (Hubei province) উহান (Wuhan) রাজ্যের একটি মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব হয়েছে বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চীনে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত রয়েছেন আরো এক হাজার ৩০০ জনের বেশি। এরই মধ্যে চীনের বাইরে ভাইরাসটি আরো অন্তত ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি চীনে প্রকাশিত করোনাভাইরাস আক্রান্ত একজন রোগীর মাটিতে পড়ে যাওয়ার এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাস হয়েছে।

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১

Coronavirus কি?

Coronavirus একটি ‘নোভেল করোনা’ প্রকৃতির ভাইরাস। এই রোগে নাক, শ্বাসনালি, এবং গলার উপরের অংশে ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়। পশু-পাখি বা গবাদি পশুর শরীরে করোনাভাইরাসের দেখা মেলে, যা “সার্স” (SERS) ভাইরাসের মত দ্রুত সংক্রামিত হয় এবং পশু-পাখির শরীর থেকে সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। Wikipedia এর ভাষ্যমতে, Coronaviruses হল এমন একটি ভাইরাসের গ্রুপ যা স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখিদের শরীরে আক্রান্ত করে, গরু এবং শুকরের দেশে ডায়রিয়ার সৃষ্টি করে এবং মুরগীর শরীরে কণ্ঠনালির উপরের অংশে শ্বাসপ্রণালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে, যা প্রাথমিকভাবে মৃদু আক্রমন হলেও সময়ের সাথে সাথে তা দ্রুত ভয়ঙ্কর শারীরিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে।

আশার কথা হল, বেশীর ভাগ করোনাভাইরাস মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে, কিছু রয়েছে, যা মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিতে পারে, যেমন, SARS, এবং MERS।

২০১২ সালে সৌদী আরবে Middle East Respiratory Syndrome (MERS) আক্রান্ত হয়ে ৮৫৮ জন্য মানুষ মারা যায়। পরে তা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপেরো ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মে ২০১৫ সালে কোরিয়াতে MERS ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০০৩ সালে “সার্স” Severe Acute Respiratory Syndrome (SARS) রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। ২০১৫ সালের পর আদ্যাবধি সার্স এর দেখা যায়নি। MERS এবং SERS – উভয়েই করোনাভাইরাস প্রকৃতির।

কিন্তু, ২০২০ সালের জানুয়ারীতে, World Health Organization একটি নতুন টাইপের ভাইরাসকে সনাক্ত করে। চীনে এই ভাইরাসকে সনাক্ত করা হয়। নাম, 2019 Novel Coronavirus (2019-nCoV)।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসটি এখন চীনের বাইরের দেশগুলোতে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে। ৩ এপ্রিল, ২০২০ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনসহ ২০৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩,৯২২ জন। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন দশ লক্ষ মানুষ।

কোন দেশে কত আক্রান্তঃ চীনে ৭৮ হাজার ৮২৪ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২ হাজার ২২, ইরানে ২৪৮, ইতালিতে ৬৫০, জাপানে ৮৯৪, আফগানিস্তানে ১, আলজেরিয়ায় ১, অস্ট্রেলিয়ায় ২৩, অস্ট্রিয়ায় ২, বাহরাইনে ৩৩, বেলজিয়ামে ১, ব্রাজিলে ১, কম্বোডিয়ায় ১, কানাডায় ১২, ক্রোয়েশিয়ায় ৩, ডেনমার্কে ১, মিশরে ১, এস্তোনিয়ায় ১, ফিনল্যান্ডে ২, ফ্রান্সে ৩৮, জর্জিয়ায় ১, জার্মানিতে ২৬, গ্রিসে ৩, ভারতে ৩, ইরাকে ৬, ইসরায়েলে ৩, কুয়েতে ৪৩, লেবাননে ৩, মালয়েশিয়ায় ২২, নেপালে ১, নেদারল্যান্ডসে ১, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ১, নরওয়েতে ১, ওমানে ৪, পাকিস্তানে ২, ফিলিপাইনে ৩, রোমানিয়ায় ১, রাশিয়ায় ৫, সিঙ্গাপুরে ৯৩, স্পেনে ১৬, শ্রীলঙ্কায় ১, সুইডেনে ২, সুইজারল্যান্ডে ৪, তাইওয়ানে ৩২, থাইল্যান্ডে ৪০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩, যুক্তরাজ্যে ১৬, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬০, ভিয়েতনামে ১৬, বেলারুসে ১, নাইজেরিয়ায় ১, নিউজিল্যান্ডে ১ ও লিথুনিয়ায় ১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড ১৯-কে মহামারী হিসাবে উল্লেখ করেছে। এর অর্থ কি?

কোভিড-১৯-কে মহামারী হিসাবে চিহ্নিত করার অর্থ এই নয় যে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বেড়েছে। মূলত এর ভৌগলিক বিস্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ একে মহামারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যেহেতু কোভিড-১৯ ভাইরাসটি যে কোন দেশে এবং যে কোন সম্প্রদায়ের শিশু ও পরিবারের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে, সেহেতু ইউনিসেফ এর প্রশমনে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করছে। পরিবার ও শিশুদের এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইউনিসেফ বিভিন্ন দেশের সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সাথে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

Coronavirus এলো কেমন করে?

১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম Coronavirus এর অস্তিত্ব মানুষের গোচরে আসে। কিন্তু, এর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে মানুষের কোন ধারণাই নাই। রাজা-রানীর মাথায় ব্যবহৃত মুকুটের (crown-like shape) মত দেখতে হওয়াতে এই ভাইরাসকে এমন নামকরণ করা হয়েছে। সব সময় না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস মানুষ ও পশুপাখি – উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।

অন্যান্য ঠাণ্ডা ও সর্দি-কাশিতে যে ধরণের উপসর্গ দেখা যায়, বেশির ভাগ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর, বিশেষ করে অল্পবয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে একই ধরণের উপসর্গ দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণতঃ বসন্ত ও শীতে করোনাভাইরাসে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু, এই ভাইরাসে যে কেউ যে কোন ঋতুতে আক্রান্ত হতে পারে।

Coronavirus ভাইরাসে কি কি লক্ষণ দেখা যায়?

প্রায় সব করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের ইনফেকশনের মত – নাক দিয়ে সর্দি পড়া, কাশি, গলার মধ্য ব্যাথা হওয়া, এবং, জ্বর হওয়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন না, তিনি করোনাভাইরাস, নাকি রাইনোভাইরাস (rhinovirus) দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

ল্যাব আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ল্যাবরেটরী থেকে টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয়। সাধারণতঃ নাক ও গলার স্যাম্পল কালচার (culture) এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের নীচের অংশ অর্থাৎ শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়লে, তা নিউমোনিয়াতে (pneumonia) রূপান্তরিত হয় – বিশেষ করে যাদের, হৃদরোগ রয়েছে, বা দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি

লক্ষণসমূহ

  • করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
  • এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে জ্বর এবং কাশি
  • অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।
  • হতে পারে নিউমোনিয়া

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

যেভাবে করোনাভাইরাস ছড়ায়

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি করণীয়?

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক ভ্যাস্কিন আবিষ্কৃত হয়নি। এই রোগের ইনফেকশন থেকে বেঁচে থাকতে হলে, সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে যে ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, সেগুলো অনুসরণ করতে হবেঃ

  • ভাল করে সাবান ও গরম পানি দিয়ে বারবার হাত ধুয়ে নিন। এলকোহল-যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার (alcohol-based hand sanitizer) ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • আপনার হাত ও আঙ্গুলকে চোখ, নাক ও মুখের কাছাকাছি আনবেন না
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্তত এক মিটার বা ৩ ফুট দূরে অবস্থান করা।
  • কাশি বা হাঁচি উঠলে নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢেকে রাখুন। ব্যবহার শেষে টিস্যুটি সঠিক জায়গায় ফেলে দিন। রাস্তা-ঘাটে ও জন-সমাঘম ঘটে এমন স্থানে ব্যবহৃত টিস্যু ফেলে দেয়া থেকে বিরত থাকুন

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা পদ্ধতিতে ঠাণ্ডা-আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার সাথে মিল রয়েছেঃ

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
  • প্রচুর পানি পান করুন
  • গলা ব্যথা ও জ্বরের জন্য ফার্মেসি থেকে সঠিক ঔষুধ কিনে খেতে পারবেন। তবে, শিশুদের বা ১৯ বছরের নীচের কিশোরদেরকে অ্যাসপিরিন (aspirin) দেয়া যাবে না। এর পরিবর্তে তাদেরকে ইবুপ্রফেন (ibuprofen) বা অ্যাসিটামিনোফেন (acetaminophen) খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছে WebMD

আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যাথা ও গলায় জ্বালা-যন্ত্রণা হলে হিউমিডিফায়ার বা উষ্ণ গরম পানি গোসল করালে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

করোনাভাইরাসের আক্রমণে অনেক সময় MERS, বা SARS এর কারণ হতে পারে। যদিও, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের আক্রমণ একটি স্বাভাবিক ব্যাপার – এটাকে খুব ভয়াবহ হিসাবে গণ্য করা হয় না। যে কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, লক্ষণ প্রকাশ পেলে উপযুক্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে যে খাবারগুলো বেশি খাবেন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে খেতে হবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার। যে খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে, সেগুলো হল

  • বিটা ক্যারোটিন: উজ্জ্বল রংয়ের ফল, সবজি। যেমন গাজর, পালংশাক, আম, ডাল ইত্যাদি।
  • ভিটামিন এ: গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, ডিম, দুধজাতীয় খাবার।
  • ভিটামিন ই: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, ভেজিটেবল অয়েল, যে কোনো আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
  • ভিটামিন সি: আমলকী, লেবু, কমলালেবু, কাঁচা লঙ্কা।
  • এ ছাড়া যে খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো। এ খাবারগুলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তো বাড়িয়ে তুলবে। সেই সঙ্গে আরো বিভিন্নভাবে আপনার শরীরকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
  • সবজি, নানারকম শাক ছাড়াও কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, তরমুজ ইত্যাদি। এছাড়াও মশলার মধ্যে আদা, রসুন, হলুদ, দারচিনি গোলমরিচ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন। ওটস, ডালিয়া, ফাইবারযুক্ত আটা, বাড়িতে বসানো টক দই, গ্রিন টি, চিনি ছাড়া লিকার চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
  • দুধ, ডিম, মুরগির গোস্ত খাদ্য তালিকায় থাকুক। অবশ্যই খুব ভালো করে রান্না করে ফুটিয়ে খাবেন। হাফ বয়েলড বা পোচ একদম নয়। মাংসও যেন সুসিদ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। উচ্চতাপমাত্রা পরিবহনে সক্ষম এমন পাত্রে রান্না করুন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেখিয়েছে কিভাবে সঠিকভাবে হাত ধুতে হয়

ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ

যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস এবং এর ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানা এখনো সম্ভব হয় নাই, তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশবাংলাদেশ থেকে চীনে ভ্রমণকারীগণ সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রেও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অথবা কিছুদিনের জন্য বেশি জরুরি কিছু না হলে চীন ভ্রমণে বিরত থাকাই ভালো।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক কতোটা সহায়ক?

সস্তা সার্জিক্যাল মাস্কগুলো করোনাভাইরাস আটকাতে পারে, তবে নির্মূল করতে পারে না।

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলোঃ শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া, ইত্যাদি। এটি শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় করে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে। এদিকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিষেধক তৈরি করতে সক্ষম হননি বিজ্ঞানীরা।

তবে, ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় ঘরের বাইরের যাবার সময় মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে বের হচ্ছেন। প্রশ্ন হলো এভাবে মাস্ক ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব কিনা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার সহায়ক হতে পারে, যদি সঠিক আবহাওয়া ও সঠিক উপায়ে এটি ব্যবহার করা হয়।

জর্জিয়ার আটলান্টার ইমোরি ইউনির্ভাসিটি স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী প্রভাষক মেরিবেথ সেক্সটন জানান, সর্বাধিক পরিহিত, সস্তা এবং ডিসপোজেবল মাস্ক, যা সার্জিক্যাল মাস্ক হিসেবে পরিচিত, এটি করোনাভাইরাসকে আটকাতে পারে, তবে নির্মূল করতে পারে না। এমনকি নিখুঁতভাবে ব্যবহারের পরও, এই মুখোশগুলো থেকে কোনো ভাইরাস বা রোগ সংক্রামক জীবাণু পাশ দিয়ে পিছলে যেতে পারে বা চোখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এ ধরনের সার্জিক্যাল মাস্ক সাধারণত হলুদ বা নিল রংয়ের হয়ে থাকে। যা রাবারের মাধ্যমে শক্তভাবে কানের মধ্যে আটকানো যায়। এর মাধ্যমে মুখ, চিবুক ও নাক ঢাকা সম্ভব হয়। আর এসব মাস্কের ওপরে একটি লোহার স্ট্রিপ থাকে, যা সহজে মুখ-নাক ঢেকে রাখে।

তবে, ব্যবহারের পাশাপাশি এ ধরনের মাস্ক সঠিকভাবে খোলার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খোলার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন এতে কোনো ময়লা না লাগে এবং একবারে খোলা যায়।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশসমূহের ম্যাপ

যে সমস্ত দেশে করোনাভাইরাসের রোগী নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে

করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীন দেশে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ চীনে যাতায়াত করেন। এই রোগের প্রাদুর্ভাবের পর কোন না কোন ভাবে বিদেশী পর্যটকরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। Statista এর ২৭ জানুয়ারী, ২০২০ প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশের মধ্যে রয়েছে China, Canada, United States, France, South Korea, Nepal, Thailand, Vietnam, Malaysia, Singapore, Australia, Japan, Taiwan, Hong Kong, এবং Macao।

Coronavirus প্রতিরোধে হাত বাড়িয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও

Coronavirus এর বিস্তার রোধে চীনের ১৩টি শহরকে অন্যান্য এলাকার সাথে যোগাযোগকে বিচ্ছিন্ন করেছে চীন সরকার। দেশের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে Xiaomi (শাওমি), Meiju (মিজু), TikTok (টিকটক), WeChat (উইচ্যাট) ও Baidu (বাইদু) সহ অনেক কোম্পানিই সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

Xiaomi (শাওমি)

এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি উহান শহরে এন৯৫ মাস্ক, মেডিকেল মাস্ক ও থার্মোমিটার সরবরাহ করেছে। এসবের আর্থিক মূল্য ৪৩ হাজার ডলার। এক উইবো পোস্টে তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উহানে ত্রাণ পাঠানো তারা অব্যাহত রাখবে।

Meiju (মিজু)

উহান শহরে ৪৩ হাজার ডলারের অনুদান দিয়েছে স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।

ই-কমার্স খাত (E-commerce)

চীনের ই-কমার্স সাইট জেডি ডটকম, সুনিং ও তাওবাও মাস্ক ও জীবাণুনাশক পণ্যের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়াও, জেডি ডটকম ঘোষণা দিয়েছে তারা ১০ লাখ মাস্ক এবং ৬০ হাজার মেডিকেল পণ্য সরবরাহ করবে।

Huawei (হুয়াওয়ে)

এখন পর্যন্ত হুয়াওয়ে কোনো অনুদান দেয়নি বা ত্রাণও পাঠায়নি। তবে তারা এইচডিসি.ক্লাউড ২০২০ ডেভেলপার কনফারেন্স স্থগিত ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি এই কনফারেন্স শেনজেনে হওয়ার কথা ছিলো। শেনজেন থেকে উহান শহরের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার।

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

One thought on “করোনাভাইরাস কি: লক্ষণ, সাবধানতা ও প্রতিকার

Comments are closed.