চুল পড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন কি উপায়ে রোধ করবেন

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যচুল পড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন কি উপায়ে রোধ করবেন
Advertisements

মানুষকে পরিপূর্ণ সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোন একটির হানি হলে তার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘাটতি দেখা দেয়। তেমনি একটি সমস্যা হল, মাথার চুল পড়ে যাওয়া, অন্য ভাষায় বললে, মাথায় টাক পড়ে যাওয়া।

আপনি যদি হঠাৎ করে খেয়াল করে দেখেন যে, মাথার চুল পড়ে টাকা উঁকি দিতে শুরু করেছে, তখন মনে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণভাবেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চুল ঝরে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন একশ’টা চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় নতুন চুলও গজায়। তবে যদি চুল যদি বেশি পরিমাণে পড়ে, অর্থাৎ চুল পড়ার হার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তখনই টাকা পড়া শুরু করে।

পুরুষের চুল পড়া বা টাক সমস্যায় প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে চুল পড়া রোধে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা দিতে পারেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,

  • ঔষধ সেবন ও স্প্রে বা ফোম ব্যবহার
  • খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং
  • পরিশেষে শল্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
  • প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
রোদের সঙ্গে চুলপড়ার কোনো সম্পর্ক নেই – অধ্যাপক ডা. লে. কর্নেল মো. আব্দুল ওয়াহাব, অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ

আপনার চুল পড়া সমস্যা দেখা দিলে দ্বিতীয় আর কোন পন্থা অবলম্বনন না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগে বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনি কোন কোন ওষুধ সেবন করেন, চুলের জন্য কোন প্রসাধনী ব্যবহার করেন এবং চুল বিষয়ে আপনার পারিবারিক ইতিহাস এক্ষেত্রে জরুরি।

অনেক সময় দেখা যায় যে, আপনি যেসকল ওষুধ সেবন করছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সকল বিষয়াদি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ যে পরামর্শ প্রদান করেন তা পালন করুন।

ওষুধ সেবন করা

চুল পড়া প্রতিরোধের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। মিনোক্সিডিল (Minoxidil) বা রোগেইন (Rogaine) এর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। চুল পড়া প্রতিরোধ এবং পুনরায় চুল গজানোর জন্য রোগেইন বেশ কার্যকরী ওষুধ। রোগেইন হচ্ছে ফেনা তৈরিকারী এক প্রকারের ওষুধ যা দিনে দুই বার আপনি সরাসরি মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। মাথার পেছন এবং সামনের অংশে চুল গজানোর জন্য এটি বেশ কার্যকরী।

আরেকটি কার্যকরী ওষুধ হচ্ছে, ফিনাস্টেরাইড (Finasteride) বা প্রপেশিয়া (Propecia) যা মুখে খাওয়ার উপযোগী এবং আপনি প্রতিদিন তা গ্রহণ করতে পারেন। যথাযথ ফলাফল পাওয়ার জন্য উভয় ওষুধ আপনাকে প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে। এই দুটি ওষুধ অনেকসময় পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সঠিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

খাদ্যাভ্যাস

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পড়া তরান্বিত হতে পারে। ব্যালান্স খাদ্য গ্রহনের ফলে শরীর পেয়ে থাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় নিচের খাবারগুলোর রাখার চেষ্টা করুন।

  • ডিমঃ চুল তৈরি হয় প্রোটিন থেকে। ডিমে থাকা প্রোটিন চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখে।
  • সবুজ শাক-সবজি: চুলের জন্য শাক-সবজিতে থাকা আয়রন ও অন্যান্য ভিটামিন কাজে লাগে।
  • ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ফল: শরীরের জন্য ভিটামিন ‘সি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে ভিটামিন সি- এর চাহিদা পূরণের জন্য পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে লেবু খাওয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন। লেবুর শরবত খেলে চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় ও মজবুত হয়।
  • বাদাম: কাজুবাদাম ও আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চুলের পুষ্টি যোগায়। পাশাপাশি চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।
  • শস্যদানা: শস্যদানায় প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যেমনঃ আয়রন, জিংক ও ভিটামিন ‘বি’ উপস্থিত। জৈব পদার্থ শরীরের টিস্যুর ও চুলের বৃদ্ধির জন্য অ্যামাইনো এসিড উৎপন্ন করে।
  • গাজর: গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। তাই চুলের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস খেতে পারেন।

লাইফস্টাইলে পরিবর্তন

আঁটসাঁট স্টাইলে চুল বাঁধা পরিহার করা

আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল পছন্দ করে থাকেন তাহলে এখনই সাবধান হয়ে যান। চুলে আঁটসাঁট স্টাইল করলে শক্ত টানের ফলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া চুলের গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সেখানে আর চুল গজায় না। আপনি যদি চুলের আঁটসাঁট স্টাইল ধরেই রাখেন তাহলে আপনার মাথায় টাক পড়া ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে। যৌবনে হয়তো আপনার কাছে এটা কোনো সমস্যা বলে মনে হবে না, কিন্তু আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার হার বাড়তে থাকবে এবং পরিণামস্বরূপ মাথায় টাক পড়বে।

খাদ্যাভাষে নজর দিন

সুস্থ এবং ঘন চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। চুলের বৃদ্ধির জন্য আমিষ খুবই প্রয়োজনীয়। তবে চুলের পাশাপাশি শরীরের খেয়াল রাখতে হলে অবশ্যই চর্বিহীন আমিষ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। মাছে প্রচুর পরিমাণ চর্বিহীন আমিষ থাকে। তাছাড়া চর্বিহীন মাংস মানবদেহের আমিষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। বাদাম পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য বীজে প্রচুর ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ থাকে যা চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়। এমনকি কিছু মশলা চুলের পক্ষে খুবই উপকারী, যেমন: দারুচিনি। বিভিন্ন খাবারে দারুচিনি ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা

আপনার চুলের ২৫ শতাংশ গ্রন্থি পানি দ্বারা গঠিত। আপনার দেহে পানির অভাব দেখা দিলে চুলের গ্রন্থিগুলো দুর্বল হয়ে যায় ফলে চুলের ঘনত্ব কমে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাছাড়া দেহে পানির অভাব দেখা দিলে নতুন চুলগ্রন্থি তৈরি হয়না ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ বাড়ে না।

ভিটামিন সেবন করা

মানসিক চাপ, জিনগত সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগ ছাড়াও পুরুষদেহে ভিটামিনের অভাব চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মাথায় টাক পড়া প্রতিরোধ করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন নিয়মিত গ্রহণ করুন। ভিটামিন এ আপনার চুলের গ্রন্থিতে রেটিনয়িক এসিডের সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে, ভিটামিন বি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ভিটামিন সি, ডি এবং ই আপনার দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা

অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন। ফলাফল হিসেবে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে চুলপড়াজনীত নানারকম সমস্যা বেড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (যার ফলে মাথা থেকে আপনাআপনি চুল ঝরে যায়), ট্রিকোটেলোমেনিয়া (যার ফলে বারবার চুল টানার ইচ্ছা জাগে ফলে মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে যায়) এবং অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (যার ফলে চুলের গ্রন্থিগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আক্রমণের শিকার হয়)। সুতরাং মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করুন।

ধূমপান এবং মদ্যপানের পরিমাণ কমানো

আপনি হয়তো জানেন যে অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের ফলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কিন্তু এগুলোর প্রভাব যে আপনার চুলের ওপর পড়ে তা হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান এবং মদ্যপান চুল পড়ার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে আপনার চুলের গ্রন্থিগুলোতে সঠিক মাত্রায় রক্তপ্রবাহ না থাকায় চুল পড়া শুরু হয়। অন্যদিকে মদ্যপানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং নানানরকম পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে চুল পড়ার হার বৃদ্ধি পায়।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে যেমন শরীর সুস্থ থাকে, তেমনি আপনার চুলের জন্যও উপকারী। ব্যায়ামের ফলে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা দূরে থাকে এবং শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় যা চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।

চুল পড়া রোধের প্রাকৃতিক উপায়

গরম তেল মাসাজ

ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যে কোন তেল (নারকেল, অ্যালমন্ড, সরিষার তেল ইত্যাদি) হালকা গরম করে মাথায় মাসাজ করলে চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই মাসাজের পূর্ণ উপকার পেতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেল দিয়ে মাথা মাসাজ করে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

পিঁয়াজের রস

পিঁয়াজে রয়েছে উচ্চ মানের সালফার, যা চুলের গ্রন্থিতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান বহন করে, যা জীবাণু এবং পরজীবী ধ্বংস করে দেয়। কয়েকটি পিঁয়াজ পিষে বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। এই রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

আলুর রস

আলুর মধ্যে থাকে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, কপার এবং নায়াসিন যা চুলের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের অভাব পূরণ করে। এই ভিটামন খাওয়ার ফলে চুলের শুষ্ক এবং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার মাত্রা কমে আসতে পারে। পরিষ্কার কিছু আলু পিষে এর রস সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা রেখে শুকিয়ে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

নারকেলের দুধ

ফ্যাট এবং প্রোটিন চুলের পুনর্গঠন করে, এবং চুল পাতলা হওয়া এবং চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। নারকেলের দুধে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট ও প্রোটিন পাওয়া যায়। নারকেলের দুধ মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।

নিম

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় নিম খুশকি দূর করার জন্য খুবই উপযোগী। এটি স্ক্যাল্পের নিচের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায়। ফলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে এবং চুল লম্বা হয়। একটি পাত্রে পানি নিয়ে তার মধ্যে কিছু নিম পাতা দিয়ে ফুটান। পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে গেলে পাত্রটি নামিয়ে রেখে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঠাণ্ডা হলে এই মিশ্রণটি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

আমলকি

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় আমলকি চুলকে শক্ত ও মজবুত করে। ভিটামিন সি কোলাজেন প্রস্তুত করতে সাহায্য করে যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে যা চুলকে শক্ত ও মজবুত রাখে এবং চুল পড়া রোধে সহায়তা করে। কয়েকটি শুকনা আমলকি নারকেল তেলের মধ্যে দিয়ে গরম করুন। তেলের রং কাল হয়ে আসলে তেলটি নামিয়ে ঠাণ্ডা করে মাথায় মাসাজ করুন। ২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের যত্নে হেয়ারপ্যাক

যদি খুব বেশি চুল পড়তে থাকে তাহলে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘৃতকুমারী, আমলকী, শিকাকাই, নিমের গুঁড়ো একই পরিমাণে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দিতে হবে। সপ্তাহে একবার এটির ব্যবহার চুল পড়া কমাবে। এ ছাড়া ডিম, মেথির গুঁড়ো ও টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দেওয়া যেতে পারে। সপ্তাহে দুদিন এই প্যাক ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হয়। প্যাক ধুতে সহনীয় হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।

চুলের শল্য চিকিৎসা

হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারী (Hair transplant surgery)

স্থায়ী চুল পড়া রোগের সচরাচর বংশগতির একটা জোড়ালো যোগসংযোগ রয়েছে – যার ফলে মাথার সামনের চুল আগে পড়ে যায়। এই ধরণের পরিস্থিতিতে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Hair transplant) বা রেস্টোরেশন সার্জারী (restoration surgery) করার মাধ্যমে হারানো চুলের বেশির ভাগ ফিরে পাওয়া যায়।

Photo: IQHair

হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রক্রিয়ায় একজন ডার্মাটোলজিস্ট অথবা কসমেটিক সার্জন রোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে চুলসহ ত্বক তুলে আনেন এবং মাথার চুলবিহীন ত্বকের প্রতিস্থাপন করে দেন। প্রয়োজন ভেদে কখনও কখনও বেশ বড় আকারেই ত্বক ও চুল নেয়া হয়ে থাকে। চুল প্রতিস্থাপনের সময় টাক আক্রান্ত স্থানের লোমকূপের মধ্যে তুলে আনা চুলগুলো স্থাপন করা হয়।

সার্জারী হয়ে যাওয়ার পরে ডাক্তারগণ রোগীকে মিনোক্সিডিল স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে প্রতিস্থাপিত চুল ঝড়ে যাওয়ার হার কম থাকে। মাথায় টাক আক্রান্ত স্থানের ব্যাপকতার উপরে ভিত্তি করে একাধিকবার এই সার্জারী করার প্রয়োজন হয়। যাদের ক্ষেত্রে চুল ঝড়ে যাবার পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই সার্জারী সাময়িক স্বস্তি দিলেও নতুন করে লাগানো চুল বেশি দিন স্থায়ী হয় না।

চুল প্রতিস্থাপনের সার্জারী এখনও সাধারণের নাগালের বাহিরে এবং এতে ব্যাথা অনুভব হয়। লোকাল ইনেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হলেও এই সার্জারীতে সামান্য রক্তপাত হয় ও ত্বকে স্থায়ী দাগ থেকে যায়।

লেজার থেরাপী (Laser therapy)

সার্জারীতে যাবার আগে নতুন করে চুল গজানোর জন্য অনেক সময় নীচু-মাত্রার লেজার থেরাপী দেয়ার একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। পুরুষ ও নারী – উভয়ের ক্ষেত্রেই এই লেজার থেরাপী প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে যাদের বংশক্রমিক চুল হারানো রোগ রয়েছে, তারাও উপকার পেয়ে থাকেন।

ছোট একটা জরিপে দেখা যায়, লেজার থেরাপীতে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, এই পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য আরও গবেষণা ও জরিপ চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চুলের যত্নে কি কি পরিহার করতে হবে

  • কোনো ধরনের গরম বাতাস বা হিট চুলে নেওয়া যাবে না। এটি চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
  • অতিরিক্ত ধূমপান পরিহার করুন
  • মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করুন
  • রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার একবারে পরিহার করুন

লেখার সূত্রঃ ওয়েবএমডি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস / ছবিঃ GettyImage


পড়ার মত আরও আছে

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.