যে ভাবে হৃত্বিক রোশন পেটের মেদ কমালেন

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaব্যক্তিযে ভাবে হৃত্বিক রোশন পেটের মেদ কমালেন

হৃত্বিক রোশন বলিউডের সবচেয়ে ডাকসাইটে অভিনেতা হলেও তার ডিসিপ্লিনড অভিনেতা হিসেবে সুনাম রয়েছে। তিনি কিভাবে পেলেন এমন সুঠাম দেহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিট থাকার কৌশলগুলি তিনি মাঝে মাঝে শেয়ার করেন ভক্তদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য। আপনিও পেতে পারেন হৃত্বিকের মতো সুঠাম শরীর৷

ওয়ার্ক আউট

ওয়ার্ক আউটেই বেশি সময় দিতে হয় তাঁকে। বলিউড অভিনেতার মতে, আপনি যদি অনুশীলনের আগে বাপরে পেশীগুলি স্ট্রেট না করেন তবে ওয়ার্ক আউট করার কোনও অর্থ নেই। আপনি যখন ওয়ার্ক আউট করবেন তখন পেশীগুলি উষ্ণ হয়ে ওঠে। অনুশীলনের পরও শীতল করতে হবে।

ওজনে ভয় নয়

দিনে মাত্র তিনবার খেতে হবে এটা মেনে চলেন না হৃত্বিক। অনেক স্টারেরাই রয়েছেন, যাঁরা মনে করেন তিন বেলা খাবারটাই শ্রেয়। ছোট ছোট মিলেই ভরপুর হৃত্বিকের ডায়েট। খিদে পাওয়া মাত্রই খেয়ে থাকেন তিনি। লাঞ্চ ও ডিনারের জন্য অপেক্ষা করা নয়। ব্রেকফাস্টে এগ হোয়াইট থাকতেই হবে। প্রতিদিন এই আইটেমটা চাই-ই চাই। প্রোটিনের ব্যালন্স নিয়ে সচেতন তিনি। প্রোটিন শেক খেয়ে থাকেন ওয়ার্ক আউটের আগে খেয়ে থাকেন তিনি। সারাদিনে ফলও খেয়ে থাকেন যথেষ্ট পরিমাণে। ব্রাউন রাইস, সুইট পোটাটো থাকে তাঁর লাঞ্চে। ফলে পোটাটো খেলেই যে ফিট থাকা যায় না, এই ধারনা ভুল। সিদ্ধ সবজির সঙ্গে স্যুপ চিকেন পছন্দ করেন হৃত্বিক, ফলে প্রতিদিনের লাঞ্চে তা রাখতেই হয়। এছাড়াও সবজিও খান তিনি।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কী কী খান তিনি?

ব্রেকফাস্ট: একটি প্রোটিন শেক, মাল্টিভিটামিন (বড়ি) এর সাথে চারটি ডিম সাদা অংশ ও ব্রাউন ব্রেড।

লাঞ্চ: ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্ট সেদ্ধ ও সঙ্গে ভেজিটেবল। তিনি বিশেষত ব্রোকলিকে ভালবাসেন। সারা দিন ধরে ৮ থেকে ১০টি ডিমের সাদা অংশ খান, প্রতিটি খাবারের মধ্যে দু’ঘন্টার ব্যবধান থাকে।

রাতের খাবার: ৬০ থেকে ১৭ গ্রাম ভাজা মাছ বা চিকেন ব্রেস্ট , সঙ্গে ভাজা শাকসবজি। এই খাবারগুলির মধ্যে বেশিরভাগই প্রোটিন ভিত্তিক। তবে, প্রতিটি ওয়ার্কআউটের পরে তার একটি প্রোটিন শেক নিয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন:  খুশকি সমস্যা দূর করার ৭টি সহজ উপায়

সৌন্দর্যের জন্য পুষ্টিকর খাবার

চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সেই পথেই হাঁটেন বলিউডের এই গ্রিক গড। সুপার ফুড ও স্বাস্থ্যকর ডায়েটেই থাকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার মূলমন্ত্র। ভিতর থেকে গ্লো আনতে তাউ ডায়েট হতে হবে স্বাস্থ্যকর।

স্কিনকেয়ার রুটিন

পর্দায় বা অফ-স্ক্রিন, উভয় ক্ষেত্রেই হৃত্বিক রোশনকে সমানভাবে সুন্দর দেখতে লাহে। ক্লিনিং ছাড়াও তিনি বাইরে বের হন না। ত্বকের সুস্থতার জন্য দিনে দুবার ক্লিনিং ও ময়েশ্চারাইজ করেন।

বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম

হৃতিক প্রতিদিন কঠিন ‘ওয়ার্কআউট’ করেন। তবে সপ্তাহে সাত দিনের বদলে চার বা পাঁচ দিন ব্যায়াম করেন তিনি। সকাল আর বিকেল—দিনে দুই বেলা শরীরচর্চা করেন তিনি। নিজের শরীরকে অ্যাথলেটিক লুক দেওয়ার জন্য তিনি রোজ কার্ডিও, স্ট্রেচিং আর পাওয়ার ওয়ার্কআউট করেন। এই বলিউড তারকা প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট কার্ডিও এক্সারসাইজ করেন।
একেক দিন একেক ব্যায়াম

হৃতিক সপ্তাহের প্রথম দিন বুকের এক্সারসাইজ করেন। পরের দিন তিনি করেন পায়ের এক্সারসাইজ। তৃতীয় দিন বিশ্রাম নেন। চতুর্থ দিন তিনি বাহু আর পেশির এক্সারসাইজ করেন। পঞ্চম দিন তিনি কাঁধের ব্যায়াম করেন।

সার্কিট ট্রেনিং

সার্কিট ট্রেনিং ওয়ার্কআউটে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়। এর মাধ্যমে দ্রুত পেশি গঠন করা যায়। শরীরের যথাযথ কাঠামো দেওয়ার জন্য সার্কিট ট্রেনিং খুবই জরুরি। হৃতিক বিকেলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সার্কিট ট্রেনিং নেন বলে জানিয়েছেন।

আর্মস এক্সারসাইজ

বাহুর যথাযথ শেপ ধরে রাখার জন্য, পেশির সমতা বজায় রাখার জন্য হৃতিক আর্মস এক্সারসাইজ করেন। এর মধ্যে আছে ডবল পুলওভার, স্ট্রেট আর্ম পুলডাউন আর কনসেন্ট্রেটেড কার্লস।

সহজ উপায়ে পেটের মেদ কমানোর কৌশল

১. সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানির মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে এক গ্লাস পানি পান করুন। প্রাকৃতি উপায়ে মেদ কমানোর সবচেয়ে ভাল ও সহক কৌশল এটি।

আরও পড়ুন:  দীর্ঘক্ষণ হেডফোন/এয়ারফোন ব্যবহারে যেসব ক্ষতি

২. সাদা ভাত কমিয়ে সবজি ও রুটি খেতে পারেন। দুই মাস নিয়মিত সকালে ও রাতে এমন খাবার অভ্যাস করলে দেখতে পাবেন মেদ কমে স্লিম হয়ে গেছেন।

৩. চিনি জাতীয় খাবার কম খাবেন। চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনী কম খাবেন।

৪. তেল জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন। কোল্ড ড্রিঙ্কসগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। এসব খাদ্য থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।

৫. খাদ্য তালিকা থেকে মাছ, মাংস কমিয়ে ফেলুন। তবে মাছের চামড়া ছাড়া খেতে পারেন। ঝাল খাবার খেতে পারেন।

৬. নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিনি খাবার খান। খাবে অনিয়ম হলে পেটের মেদ বাড়ে।

৭. তেল, মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার অভ্যাস কমিয়ে ফেলুন। দিনে দু–তিন বার চিনি ছাড়া কালো চা বা কফি খান। কফির ক্যাফেইনের প্রভাবে ৫–৮ শতাংশের মতো বিপাক ক্রিয়া বাড়ে। ৯৮–১৭৪ ক্যালোরি বেশি খরচ হয়। চায়ে বিপাক ক্রিয়া বাড়ে প্রায় ১২ শতাংশ। গ্রিন টি আরও ভাল। ওজন নিয়ে ব্যায়াম করার সঙ্গে খেলে চর্বি বেশি পোড়ে।

৮. দিনে ৩ রকম ফল ও নানা রকম শাক–সবজি খান। অন্যান্য পুষ্টির পাশাপাশি ২৫–৩০ গ্রামের মতো ফাইবার পাবেন। আর তাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো চর্বি কমবে।

৯. নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ, চর্বি ছেটে ফেলা মাংস, বিনস, আয়রন ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, পালং ইত্যাদি খেলে শরীরে আয়রন থাকে পর্যাপ্ত। চর্বি বেশি হয়।

সূত্র: ভারতীয় সংবাদ পোর্টাল

ক্যাটাগরিঃ ব্যক্তিস্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.