যেভাবে মাংস সংরক্ষণ করলে ভালো থাকবে দীর্ঘদিন

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaটিপস ও ট্রিক্সযেভাবে মাংস সংরক্ষণ করলে ভালো থাকবে দীর্ঘদিন
Advertisements

কুরবানীর ঈদে একসঙ্গে অনেক কেজি মাংস বা গোস্ত হাতে আসে। এত মাংস কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়, এটা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। মাংস বিভিন্ন উপায়ে সংরক্ষণ করা যায়।

তবে টাটকা মাংস সংরক্ষণের ভুলে দীর্ঘদিন তা ভালো নাও থাকতে পারে। তবে, এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে সবাই রেফ্রিজারেটরেই মাংস সংরক্ষণ করতে পছন্দ করেন। অনেকেই মনে করেন, পলিথিন বা যেকেনো ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে মাংস রেখে দিলেই তা মাসের পর মাস ভালো থাকে। আসলে সঠিক পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা না হলে, মাংসের পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। যা হয়তো আপনি বুঝতে পারবেন না। এমনকি ভুল উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করা হলে তা শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

যেভাবে মাংস সংরক্ষণ করলে ভালো থাকবে দীর্ঘদিন

হতে পারে বিষক্রিয়া

মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে, পরবর্তীতে ওই খাবার খেয়ে আপনি যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) নির্দেশিকা অনুসারে, রেফ্রিজারেশন করা খাবারে দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে। এক, রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু। এই জীবাণুগুলো খুবই বিপজ্জনক। কারণ খাবারে বাসা বাঁধা এই জীবাণু খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণ। কাঁচা বা অপরিশোধিত খাবারে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এই জীবাণু।

দুই, স্পাইলেজ ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া খাবার নষ্ট করে দেয়। এর ফলে খাবারের স্বাদ, চেহারা এবং গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আপনার অসুস্থ করার সম্ভাবনা অনেক কম। তাই নিয়ম অনুযায়ী খাবার বা মাছ-মাংস সংরক্ষণ করা না হলে ফ্রিজে রাখলেও তাতে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।

মাংস কীভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন?

শুধু গরু বা খাসি নয় মুরগির মাংসও আপনি রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে পারেন। হিমশীতল এবং খাদ্য সুরক্ষার বিষয়ে ইউএসডি’র নির্দেশিকা হলো, মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন, শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) এ জমাট বাঁধে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া, ইস্টসহ ক্ষতিকর জীবাণুগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পাশাপাশি খাবার নষ্ট করে যেসব এনজাইম, সেগুলোর কার্যক্রমও ধীর হয়ে যায়।

প্রচলিত পদ্ধতিগুলো হলো

১. একসঙ্গে অনেক মাংস রান্নার পরে প্রতিদিন জ্বাল দিয়ে রাখা।

২. কাঁচা মাংস প্যাকেট করে ফ্রিজে ভরে রাখা।

৩. কড়া রোদে মাংস শুকিয়ে আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলা। এটাকে মাংসের শুঁটকি বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশে।

৪. মাংসে লবণ, ভিনেগার, মসলা মাখিয়ে রেফ্রিজারেটরে রাখলে ভালো থাকে।

মাংস ফ্রিজে কতদিন রাখবেন?

মাংসে সাধারণত জীবাণু দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তাই মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১. মাংস রান্না করে রাখলে প্রতিদিনই জ্বাল দিতে হবে। এক্ষেত্রে গরম কালে মাংস ১২ ঘন্টা পর একবার এবং শীত কালে ২৪ ঘন্টা পর একবার জ্বাল দিলেই মাংস ভালো থাকবে।

২. ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচে কাঁচা মাংস ৪ থেকে ৬ দিন রাখা যায়।

৩. জিরো ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার নিচে রাখলে গরুর কাঁচা মাংস ১২ মাস ভালো থাকবে।

৪. মাংস ফ্রিজে রাখার আগে প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখে রাখুন। এতে মাংসগুলো কতদিন সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটা সহজেই বোঝা যাবে।


শুধু ফ্রিজে রেখে নয়, আরও যেসব উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করতে পারবেন-

ড্রাইং পদ্ধতি

অতীতে যখন ফ্রিজের ব্যবহার ছিলো না; তখন পুরোনো এই পদ্ধতিতে মাংস রোদে বা চুলায় জ্বাল দিয়ে ৭০-৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে নিতে হয়। এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ খুবই কম খরচে করা যায়। এক্ষেত্রে মাংসের চর্বি ফেলে দিয়ে পাতলা করে কেটে ভ্যাকিউম-সিল্ড করে ফ্রিজে ১ বছর পর্যন্ত রাখা যায়।

স্মোকিং পদ্ধতি

এটিও একটি পুরোনো পদ্ধতি। যেখানে হট স্মোকিং অর্থাৎ ৩০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মাংস পোড়ানো হয়। আর কোল্ড স্মোকিং পদ্ধতিতে ১২-২৪ ঘণ্টা স্মোকিং আগুনে ৮৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় পোড়াতে হয়। এর ফলে তাপের ধোঁয়ায় মাংসের মাইক্রোবসগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এই পদ্ধতি সাধারণত মাংস ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে থাকেন।

সল্টিং বা লবণ পদ্ধতি

এই পদ্ধতিতে লবণ, কিউরিং লবণ, মসলা এবং ব্রাউন চিনি অথবা খাবার লবণ, সোডিয়াম নাইট্রেট ও সোডিয়াম ল্যাকটেট দিয়ে মাংস মেখে ২৪ ঘণ্টা রেখে ফ্রিজে ১ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই পদ্ধতি টিএফডিএ অনুমোদিত। সল্টিং পদ্ধতিতে মাংস সবচেয়ে বেশি টাটকা এবং পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়ে থাকে। মাংসের অক্সিডেটিভ ও মাইক্রোবিয়াল পচন প্রতিরোধ এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভালো হয়।

ক্যানিং পদ্ধতি

মাংস সংরক্ষণের আরও এক পদ্ধতিকে থার্মাল স্টেরিলাইজেশন বলে। এক্ষেত্রে মাংস প্রায় ২৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ড্রাই করে ঠান্ডা করা হয়। এরপর কাচের জার বা বয়ামের মুখ আটকে তাতে এই মাংস প্রায় এক বছর রাখা যায়। এই পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মাংস কাটা, রান্নার আগে সিমিং, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ঠান্ডা করা ইত্যাদি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সূত্র: হেলথলাইন

ক্যাটাগরিঃ টিপস ও ট্রিক্স

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.