BTS এর প্রতি ভালবাসা মুসলিমকে নিয়ে যেতে পারে কুফরির গণ্ডি পর্যন্ত

HelloBanglaWorld - Know Everything in BanglaইসলামBTS এর প্রতি ভালবাসা মুসলিমকে নিয়ে যেতে পারে কুফরির গণ্ডি পর্যন্ত
Advertisements

Bangtan Boys (BTS) দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। এটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু, BTS ২০১৩-১৫ এর দিকে অধিক পরিচিতি লাভ করে। দেশ-বিদেশে তাদের অসংখ্য ফ্যানবেজ তারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে; যাদের অধিকাংশই নারী!

দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বিটিএস (BTS) এর প্রতি অত্যাধিক ভালবাসা একজন মুসলিমকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে কুফরির গণ্ডি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। ইসলামের সাথে বিটিএস এর সাংঘর্ষিকতার বেশ কিছু কারণ ইনশাআল্লাহ তুলে ধরার চেষ্টা করব। আল্লাহর নিকট তৌফিক কামনা করছি।

১। গান

BTS কিংবা অন্য যে কেউ গান গেয়ে থাকুক, এমনকি কোন মসজিদের ইমামও যদি গান গেয়ে ভিডিও আপলোড দেয়, তবুও কিয়ামত পর্যন্ত গান হারাম থাকবে; কোন পরিবর্তন হবে না। কারণ, ইসলামের হালাল-হারামের বিধান প্রয়োগের উৎস আল-কুরআন ও হাদিসগ্রন্থসমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে:

“আমার উম্মাতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও ‘বাদ্যযন্ত্রকে’ হালাল জ্ঞান করবে।”

[বুখারী- ৫৫৯০]

এই হাদিসের বাস্তবতা আজ আমাদের চোখের সামনে। অধিকাংশ মানুষই আজ গানকে হালাল মনে করেই গান শুনে; অথচ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সময়ে গানকে হালাল মনে করত, এমন কোন লোকের অস্তিত্ব ছিল না। বরং, ভবিষ্যতে একদল লোকের উদ্ভব হবে, যারা গানকে হালাল মনে করবে – এমনটাই তিঁনি আশংকা করেছিলেন। নবিজীর জীবনী পড়লেও জানা যায় যে, মক্কার কাফিররা কুরআনের মন্ত্রমুগ্ধ তিলাওয়াতের প্রতি অনীহা সৃষ্টির জন্যই গান-বাজনা ও নর্তকী খরিদ করে এনেছিল।এজন্যই হাদিসে এসেছে, “গান-বাজনা মানুষের অন্তরে কপটতা (মুনাফিকী) উৎপাদন করে, যেভাবে পানি শস্য উৎপাদন করে।”[মিশকাতুল মাসাবিহ- ৪৮১০]

এছাড়াও, হাদিসে এসেছে, “কিয়ামতের আগ মুহূর্তে একদল লোক বাদ্যযন্ত্রে লিপ্ত থাকবে। আর আল্লাহ তাআলা এদেরকে মাটির নিচে (ভূমিকম্পের মাধ্যমে) ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শুকরে রুপান্তরিত করবেন।” [আবু দাউদ- ৩৬৮৮]

আরও পড়ুন:  কোন কোন সময় মহানবী (সা.)-এর উপর দরুদ পড়তে হয়

আল্লাহ মাফ করুন, এমন গযব কাদের ওপর আসতে চলেছে তা মহান আল্লাহই ভাল জানেন। আল্লাহ আমাদের এমন গযব হতে হিফাজত করুন।

২। সমকামীতা

বিটিএস এর আচরণে ইতোমধ্যে অনেকেই সমকামীতার প্রভাব লক্ষ্য করার অভিযোগ তুলেছেন। অথচ আল্লাহ তায়া’লা লূত আলাইহিস সালামের জাতিকে এই অপরাধের কারণেই ধ্বংস করেছিলেন। আর, হাদিস থেকে জানা যায়, নবিজি নিজেও তাঁর উম্মতের জন্য এই অপরাধের আশংকা করেছিলেন।

তিঁনি বলেছেন,”আমি আমার কওমের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আশঙ্কা করি সেটা হল লুতের কওম যা করত সেটা যদি কেউ করে”[সুনানে তিরমিজি]

৩। পর্দা

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দা করা ফরয। সূরা নূর এ আল্লাহ তায়া’লা পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দানের পর একই বিধান নারীদের বেলায়ও আরোপ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে।” [সূরা নুর-৩১]

আল্লাহ জানেন, কেবলমাত্র মুমিন নারীরা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর আদেশকে আমলে নিবে না। তাই কাফির-মুশরিকদের বাদ দিয়ে আল্লাহ কেবল মুমিন নারীদেরকেই সম্বোধন করেছেন। যে কোন নারী যদি জানতে চায়, সে মুমিন কিনা, তবে এই আয়াতের বিধানের ছাপ তার জীবনে রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৪। ভালবাসা

বিটিএস’রা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খ্রিষ্টান। আর, আল্লাহ খ্রিষ্টানদের বিষয়ে আল কুরআনে বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর, তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করলে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।(সূরা মায়িদা-৫১)

ইহুদি-খ্রিস্টানরা আল্লাহর প্রতি সন্তান গ্রহনের অপবাদ আরোপের পর নূন্যতম ঈমানের দাবিদার কোন মুসলিম কি তাদের প্রতি ভালবাসা রাখতে পারে? আমরা তাদের হিদায়ত চাই,এটাও চাই যে তারা সত্য খুঁজে পাক।

আরও পড়ুন:  কোরবানির মাংস সংরক্ষণ: সঠিক উপায়

এজন্য, অবশ্যই তাদের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে এবং আল্লাহর নিকট তাদের হিদায়তের দু’আ প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু, এসব না করে, যদি আমরা উলটো তাদেরকেই নিজেদের অনুসরণের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ফেলি, তাদের লাইফস্টাইলকেই ভালবাসার জায়গায় স্হান করে দিই – তবে, তা মূর্খতা বৈ কি হতে পারে?

আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তুমি যাদেরকে ভালোবাসো তাদের দলভুক্ত হবে।” [আবু দাউদ- ৫১২৬]

অর্থাৎ, যেকেউ মুসলিমদের চেয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের প্রতি বেশি ভালবাসা রাখবে – যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে – তবে সে তাদেরই দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। হাশরের মাঠে আল্লাহ তাদের সাথেই উত্থিত করবেন, যাদেরকে তারা ভালবাসে।

কিন্তু, দুনিয়াতে যাদের অনুসরণ করা হত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বাদ দিয়ে সেই তারা হাশরের মাঠে তাদের অনুসারীদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

এরপর অনুসরণকারীরা কোন পথ না পেয়ে আফসোস করে বলতে থাকবে, “যদি কোন প্রকারে (দুনিয়ায়) আমাদের আবারও ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরাও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, যেমনিভাবে তারা আজ সম্পর্ক ছিন্ন করলো। এভাবে মহান আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজগুলো দেখাবেন আক্ষেপরূপে এবং জাহান্নাম থেকে তারা বের হতে পারবে না। (সূরা বাকারা-১৬৬-১৬৭)

কিন্তু, সেখানে আক্ষেপ কারো জন্য কোন উপকারে আসবে না। কারণ মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার কাউকে দুনিয়াতে আসার সুযোগ দেয়া হবে না।জীবন একটাই; তাই এখনই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত আমি জীবনটাকে কোন পথে ব্যয় করব, সময়গুলোকে কোন কাজে লাগাব। এই জীবন নিঃশেষ হয়ে গেলে, প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেলে হাহুতাশ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

তাই, সবসময় একজন মুসলিমের জন্য যে কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে, সর্বপ্রথম ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিটা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কেউ যদি ইসলামিক বিধানের বিরুধী কোন কাজ না জেনে করে, তবে সেটা ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে ক্ষমা চাইলে অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ মাফ করে দিবেন। কিন্তু জেনেশুনে ভুল করা মানুষকে কুফরির দরজা পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হয়।

আরও পড়ুন:  হযরত আলী (রা): একজন প্রকৃত বীরের জীবনী

মানুষ তখন গুনাহকে হালাল মনে করেই এতে লিপ্ত হয়, এতেই সে আনন্দ লাভ করে, কুরআন-হাদিসের বাণী তার অন্তরে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে, গুনাহকে হালাল প্রমাণের জন্য সে নানা যুক্তি-কুযুক্তি দাঁড় করায়, গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পরও তার মাঝে নূন্যতম অপরাধবোধ কাজ করে না – এভাবে একসময় সে ইসলামের গন্ডি থেকে বেরিয়ে কুফরের গন্ডিতে প্রবেশ করে।

ইসলাম গ্রহনের পর কুফরে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে কঠোর সর্তকতা আরোপ করে মহান আল্লাহ বলেছেন,

“আর কেউ ঈমানের পর(অথবা সাথে) কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

[সূরা মায়িদাহ -৫]

এ যাবতকাল পর্যন্ত সালাত, সিয়াম, যিকির-আযকার, দান-সদকা, ভাল কথা, ভাল পরামর্শ, সৃষ্টিজীবের সেবা, হক আদায়ের সওয়াবসহ যাবতীয় সকল আমল এক মুহূর্তে বিনষ্ট হয়ে যাবে। এগুলোর সওয়াব পরপারে কোন উপকারেই আসবে না; যেমনটা কাফিরদের দান-সদকা কিয়ামতের দিন কুফরির শাস্তি হতে রক্ষার বিপরীতে কোন কাজে আসবে না!

সূত্র: হিলফুল ফুযুল ফেসবুক পেজ

ক্যাটাগরিঃ ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.