সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট যে ভাবে নিরাপদ রাখবেন

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট যে ভাবে নিরাপদ রাখবেন
Advertisements

বর্তমান সময়ে ব্যবসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ব্যবসার সাবলীল গতি ও নিরাপত্তার খাতিরে আপনার অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ভাবুন তো, কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্টগুলির ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে যায়? এটি নিঃসন্দেহে ধ্বংসাত্মক একটি ব্যাপার হবে এবং এটি সম্ভবত আপনার ব্যবসায়ের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কোন হ্যাকার আপনার এ্যাকাউন্টকে হস্তগত করতে পারলে কয়েকটি সম্ভাব্য ঘটনা ঘটতে পারেঃ

  • আপনার ফলোয়ারদের লিস্ট নিয়ে নিতে পারবে;
  • ফলোয়ারদের কাছে ফিসিং লিংক পাঠিয়ে তাদের এ্যাকাউন্টকে বিপদ্গ্রস্ত করে ফেলবে;
  • এমনও হতে পারে, ফলোয়ারদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে মেসেজ পাঠাতে পারে।

কিন্তু, এখন প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার অ্যাকাউন্ট কিভাবে নিরাপদ রাখতে পারবেন?

কখন বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে-

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেন, তা হলে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি নিজেও পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না।

তবে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ইমেইল বা পোস্ট যেতে থাকবে। তখন আপনি বুঝবেন আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে; সে ক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

সোশ্যাল এ্যাকাউন্ট প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় করতে করণীয়

Third-party App গুলোকে অথরাইজ করা থেকে বিরত থাকুন

আপনি যখন কোনও third-party application যেমন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শিডিউলার ব্যবহার করেন, তখন তাদের আপনার অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হবে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি কেবল অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য বৈধ অ্যাপ্লিকেশনগুলিকেই অনুমোদন দিচ্ছেন। আপনি অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনটিকে ঠিক কী অনুমোদন দিচ্ছেন তার বিশদটি অবশ্যই পড়তে ভুলবেন না।

Google request for permission oauth prompt

কিছু অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে কেবল ন্যূনতম অনুমতি দেয়ার প্রয়োজন হবে, যেমন, “Read” এবং “Post” করার ক্ষমতা, তাই অ্যাক্সেস দেওয়ার পূর্বে কি কি পারমিশন দিচ্ছেন, তা ভাল করে পড়ুন। আপনার সমস্ত সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে লগইন করা এবং আপনি বর্তমানে আপনার প্রোফাইলগুলিতে অ্যাক্সেসের জন্য কী অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে পারমিশন দিচ্ছেন, তা দেখতে ভাল বুঝে নিবেন।

Google account permissions

শক্তিশালী ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

বড় ও জটিল পাসওয়ার্ডগুলি মনে রাখা কঠিন ও ঝামেলাপূর্ণ কাজ মনে হয়। এমনকি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গও হার্ড পাসওয়ার্ডের খুব বেশি পছন্দ করেননি – যতক্ষণ না তাকে হ্যাক করা হয়েছিল।

তার টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এবং পিন্টারেস্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে হ্যাক করা হয়েছিল এবং পরে তার পাসওয়ার্ডগুলি “Dadada” হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল। Twitter এ OurMind এর প্রোফাইল থেকে Marc Zuckerberg কে উদ্দেশ্য করে টুইট করেছিল এভাবেঃ

“Hey @finkd (Mark Zuckerberg’s Twitter handle) we got access to your Twitter & Instagram & Pinterest, we are just testing your security, please dm (direct message) us.”

এটি কেবল আপনাকে দেখানোর জন্য যে, বেশিরভাগ লোক তাদের পাসওয়ার্ডের সুরক্ষাকে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে নেয় না। বেশিরভাগ লোকেরা মনে করেন, “এটি আমার সাথে কখনও হবে না।”

তবে মনে রাখবেন, এটি অবশ্যই ঘটতে পারে, তাই নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন যা ক্র্যাক করা কঠিন। How Secure Is My Password এর মতো অনলাইন টুল আপনাকে আপনার পাসওয়ার্ডের শক্তি নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, এই পাসওয়ার্ডের কথা ধরুন, “Secure100Password3!”। অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে একজন হ্যাকারের এই পাসওয়ার্ডটি ক্র্যাক করতে ৫৫২ কোয়াড্রিলিয়ন বছর সময় লাগবে!

Anti-Virus সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

অনেক Internet Service Provide বর্তমানে তাদের ইন্টারনেট পরিসেবার সাথে প্রফেশনাল অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করে তাদের ক্লায়েন্টদেরকে virus ও malware থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে, বিশেষজ্ঞগণ ডেডিকেটেড anti-virus software ব্যবহার করার জন্য জোরালে ভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একেবারে কোন anti-virus software ব্যবহার না করার চাইতে ফ্রি ভার্সন হলেও AVG ব্যবহার করা ভাল।

Two-factor authentication ব্যবহার করুন

Two-factor authentication পদ্ধতির মাধ্যমে দুটি ভিন্ন উপায়ে একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সাধারণত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং একটি নিশ্চিতকরণ কোড, যা ব্যবহারকারীর কাছে SMS বা ইমেলের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় – এই কম্বিনেশন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে।

সত্যি কথা বলতে কি, যারা এই ফিচারটি সদ্ব্যবহার করছেন না, তাদের শতভাগই হ্যাকিং এর শিকার হয়েছেন। Two-factor authentication ব্যবহার করা একটু ঝামেলা মনে হলেও আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টগুলি সুরক্ষিত করার জন্য ইন্টারনেট জগতে এর চেয়ে ভাল আর কোন বিকল্প নাই।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়ার ব্যবহার করুন

LostPass হ’ল এমন একটি প্রোগ্রাম যা আপনার সমস্ত পাসওয়ার্ড মনে রাখে, আপনাকে কেবল একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হবে। অনেকগুলো পাসওয়ার্ড মনে রাখা বেশ একটা “কঠিন” কাজ। আবার, মাঝে মধ্যে এ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার ব্যাপারও রয়েছে। LostPass ব্যবহারে আপনি নিশ্চিত ও ঝামেলামুক্তভাবে সকল সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড একই জায়গায় রাখতে পারবেন। এছাড়াও, এই সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে পাসওয়ার্ডগুলোকে সমন্বয় (synchronization) করে নিতে পারবেন।

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে করণীয়

১. তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি সেবার যে নম্বর ৯৯৯ রয়েছে সেখানে জানাতে পারেন।

২. এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কারও অ্যাকাউন্ট থেকে জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।

৩. পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো আপনি করছেন না।

যেভাবে হ্যাক হয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে একটি ‘প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহার করা হয়।

যেমন- অপরিচিত বা পরিচিত বা কৌতূহলোদ্দীপক ঠিকানা থেকে আপনার কাছে একটি ইমেইল পাঠানো হলো ।এটিকে বলে ‘ফিশিং’ ইমেইল।

সেখানে কিছু ছবি বা ফাইল থাকতে পারে বা লিংক থাকতে পারে।

আপনি সেখানে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে একাটি সফটওয়্যার ঢুকে যায় এবং আপনার কার্যক্রমগুলো মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। তাই এসব বিষয় এড়িয়ে চলুন।

পড়ার মত আরও আছে


সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় সুন্দর পিচাই কি বলেন

গুগলের প্রধান নির্বহিী সুন্দর পিচাই। / Photo Credit: Internet

সুন্দর পিচাই বলেছেন, বারবার পাসওয়ার্ড বদলান না তিনি। বরং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনই তার বেশি পছন্দ। এটি একটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতি, যেখানে একজন ব্যবহারকারীকে সফলভাবে দুইটি বা তার বেশি প্রমাণ উপস্থাপন করার পরে ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ঢুকতে দেওয়া হয়। বারবার পাসওয়ার্ড বদলানোর থেকে এটিই বেশি কার্যকরী বলে তিনি মনে করেন।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সুন্দর পিচাই বলেন, আমাকে সব সময় নতুন প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ট্রাই করে দেখতে হয়। আর সেই জন্য নিয়মিত ব্যবহার করতে হয় নতুন নতুন ফোন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কাজে তিনি ২০টি ফোন ব্যবহার করে থাকেন। তাই, তিনি সবসময় ওটিপি ব্যবহার করেন। তিনি মনে করেন নতুন প্রজন্মের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে তথ্য-প্রযুক্তি। তাই, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখার মাধ্যমে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টগুলো নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Entrepreneur এবং BBC অবলম্বনে রচিত। Featured Photo by Thought Catalog on Unsplash

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.