চুলের যত্নে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaসাজসজ্জাচুলের যত্নে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান

চুল পড়া, চুল ভেঙ্গে যাওয়া, চুল ঠিকমতো বৃদ্ধি না পাওয়া সহ নানা সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। তাই চুল নিয়ে যেন আমাদের চিন্তার অন্ত নেই। এই চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি যেমন নিরাপদ তেমনি কার্যকরী। আমাদের হাতের কাছেই এমন অনেক জিনিস রয়েছে যা চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা যেতে পারে। আজ তাই তেমনই কিছু প্রাকৃতিক এবং কার্যকরী জিনিসের নাম এবং গুণাবলী নিয়ে লেখা হল।

ডিম

চুল পড়া কমিয়ে চুলকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ডিমের জুড়ি নেই। ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ, এক চা চামচ অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি সারা চুলে মাখিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এছাড়াও একটি সেদ্ধ ডিম প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন।

মেথি

চুলের যত্নে মেথি হচ্ছে আরেকটি কার্যকরী উপাদান। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমিয়ে আনে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখে। এক চা চামচ মেথি গুঁড়া, ২ চা চামচ নারিকেলের দুধ একসাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ দিন লাগান।

আলুর রস

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অনেকেই আলুর উপকারিতা সম্পর্কে জানি। এই আলুর রস চুলের বৃদ্ধিতেও সমানভাবে কার্যকরী। পরিমাণমতো আলুর রস নিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি চুল পড়া রোধ করতেও সাহায্য করে।

নারিকেলের দুধ

নারিকেলের দুধ হচ্ছে প্রোটিন, আয়রন, পটাসিয়াম এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটে সমৃদ্ধ একটি উপাদান। এটি চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে আপনাকে দিবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল, সুন্দর চুল। চুল পড়া, চুল ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে তাই ব্যবহার করতে পারেন নারিকেলের দুধ। নারিকেল কুড়িয়ে অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে এরপর সেই নারিকেল চিপে এর রস বের করে নিন। স্ক্যাল্পে এবং চুলে নারিকেলের দুধ লাগিয়ে এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রুক্ষ ভাব কমে গিয়ে চুল নরম এবং সুন্দর হবে।

জবা ফুল

চুলের যত্নে এই ফুলের উপকারিতা লিখে শেষ করা যাবে না। চুলের বিভিন্ন পণ্যে তাই এই ফুলের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। চুলের খুশকি রোধ করা থেকে শুরু করে চুলের বৃদ্ধিতে, নতুন চুল গজাতে এবং অকালে চুল পাকা রোধ করতে এই ফুলের জুড়ি নেই। একটি জবা ফুল বেটে পরিমাণ মতো নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। মুহূর্তের মধ্যেই চুল হয়ে উঠবে নরম, কোমল এবং সিল্কি।

আপেল সাইডার ভিনেগার

এই ভিনেগার স্ক্যাল্প ভালো মতো পরিষ্কার করে এবং চুলের PH ব্যালান্স ঠিক রাখে যা চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। চুল শ্যাম্পু করে ধোয়ার সময় পানির সাথে আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে শেষে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল ঝলমলে এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল থাকবে এবং চুল ঠিকমতো বেড়ে উঠবে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট যা চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। গ্রিন টি স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে এক ঘণ্টা রাখুন এবং এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও নিয়মিত গ্রিন টি পানের মাধ্যমে চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

ক্যাটাগরিঃ সাজসজ্জা
ট্যাগঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.