শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ইফতারে রাখুন এই ৫ খাবার

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaইসলামশক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য ইফতারে রাখুন এই ৫ খাবার

বিশ্ব মুসলিমবাসীর কাছে ইবাদতের জন্য রমজান মাস অন্যতম। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র এই মাসে মুসলিমরা ধৈর্য, আত্ম-সংযম ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিবেদন করে থাকে। সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত না খেয়ে রোজা পালন করে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় ইফতার করা হয়।

এদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। করোনার মধ্যেই আবারও চলে এসেছে আরও একটি রমজান মাস। রমজান মাসে সারাদিন রোজা থাকার পর সন্ধ্যায় ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা উচিত। এসময় এমন কিছু খাবার খাওয়া উচিত যে খাবারগুলো শরীরের জন্য পুষ্টিকর এবং শরীরের ঘাটতি চাহিদাগুলো পূরণ করবে; শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে।

ইফতারের পর ডিম, পুষ্টিকর স্যুপ, পনির, সবুজ শাক-সবজি, শসা, টমেটো ও বিভিন্ন রঙের ফলমূল হতে পারে আদর্শ খাবার। এছাড়া ওটমিল প্রেমীরাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন এই আদর্শ খাবারগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে সারাদিন রোজা থাকার জন্য দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় হজম বন্ধ থাকে। নির্দিষ্ট এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ আরও সক্রিয় করতে শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, দুগ্ধ বা বিকল্প এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

স্যুপ বা সালাদ

ইফতারের পর তাৎক্ষণিক শক্তি যোগানো সহজ ব্যাপার নয়। তবে ইফতারের তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগানো অসম্ভব কিছু নয়। ইফতার করার পর সঙ্গে সঙ্গে স্যুপ খেয়ে ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিলে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যায়। ঠিক একইভাবে ইফতারে বা ইফতারের পর সালাদ খাওয়া যেতে পারে। দুটোই শরীরকে চাঙা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সালাদে শাক-সবজি রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। ইফতারের পর পরিপূর্ণ খাওয়ার আগে সালাদ খেতে পারেন। সালাদ খাওয়ার ফলে শরীর যে পরিমাণ ফাইবার পাবে তা অন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।

রঙিন ফলমূল

রমজানে খাদ্য তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন। রঙিন ফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরের কোষের ক্ষতি রোধে সহায়তা করবে। এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাই সেহরি ও ইফতারে নাস্তা হিসেবে ফল খাওয়ার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

এ জাতীয় ফলগুলোয় ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা সহজ করে তোলে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোর উন্নতিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেশি থাকার অর্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া।

এছাড়া মিষ্টিজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে ফল রাখা উত্তম বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।

পানি পান করা

সারাদিন রোজা থাকার পর শরীর কিছুটা হলেও ক্লান্তি অনুভব করে। রোজাদার ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে তোলার জন্য পানির ভূমিকা অপরিসীম। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করা, কোষে পুষ্টি পরিবহন ও সংক্রমণকে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে পানি।

চা, কফি বা অন্যান্য ক্যাফিনেটেড পানীয় পান করাকে পানির বিকল্প বা পানি হিসেবে মূল্যায়ন করা কখনোই ঠিক নয়। এসব পানীয় পানের ফলে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হবে। তাই বিকল্প বা শুধু পানি হিসেবে অন্তত দেড় লিটার পানি পান করা উচিত।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

ক্যাটাগরিঃ ইসলামস্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.