উইন্ডোজ পিসির গতি বাড়াতে ১২টি কার্যকরী টিপস

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaটিউটোরিয়ালউইন্ডোজ পিসির গতি বাড়াতে ১২টি কার্যকরী টিপস

উইন্ডোজ ১০ (Windows 10) মাইক্রোসফ্টের (Microsoft) ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমের পূর্ববর্তী সংস্করণগুলির তুলনায় দ্রুততর, তবে আপনি তারপরও এর কার্যকারিতা অপ্টিমাইজ করে একে আরও দ্রুততর করতে পারেন।

আমাদের আজকের এই টিউটোরিয়ালে দেখানো টিপসগুলো দিয়ে শিখে নিতে পারবেন, কিভাবে আপনার উইন্ডোজ ১০ পিসিকে আরও দ্রুততর করা যায়।

পিসি হার্ডওয়্যারের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সফ্টওয়্যারের গতিও বাড়ছে, উইন্ডোজ ১০ তার ব্যতিক্রম নয়। উইন্ডোজ ১০ এর স্টার্টআপ খুব কম – এটা খুবই স্বস্তিদায়ক। আপনি যদি Windows 7 বা তার আগের থেকে আপগ্রেড করেন, তাহলে আপনার মেশিনটি কত দ্রুত কাজ করার জন্য প্রস্তুত, তা দেখে আপনি আনন্দিত ও অবাক হবেন। উইন্ডোজের ১০ ইন্সটল করার পরে এর ডিফট সেট-আপে যে স্পীড পাওয়া যায়, উইন্ডোজের কিছু সেটিংস এদিক-ওদিক বা টুইক (tweak) করা সম্ভব। উইন্ডোজের লুকিয়ে রাখা ফিচারের মাধ্যমে এটা করা যায়, যা আপনাদেরকে এই টিউটোরিয়ালে দেখানোর চেষ্টা করব।

উইন্ডোজ স্পিডআপের অনেক গল্পের সমস্যা হল, তারা আপনাকে অপারেটিং সিস্টেমের আরও মজার কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন ভিজ্যুয়াল অ্যানিমেশন বন্ধ করতে বলে। আমাদের বেশিরভাগ টিপস আপনাকে দেখায় যে, আপনি কীভাবে আপনার উইন্ডোজ ১০ সিস্টেমের চেহারা এবং কার্যকারিতার সাথে আপস না করে গতি বাড়াতে পারেন। বেশিরভাগ টুইকই বিনামূল্যে করতে পারবেন, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফ্টওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের জন্য কিছু খরচ করতে হবে। পুরাতন, লো-কনফিগ পিসি’তে যারা গতি বাড়াতে চান, কিন্তু ইউন্ডোজ ১০ ভাল ফিচারগুলোর কথা বিবেচনায় নিতে চান না, এই টিউটোরিয়ালের শেষে কিছু টিপস দেয়া আছে যা দিয়ে পিসিতে চোখ জুড়ানো ফিচার আনতে পারবেন।

মনে রাখবেন যে, “Speed Up Your PC!” (“আপনার পিসির গতি বাড়ান!”) টাইপের কিছু বিজ্ঞাপন আছে যেগুলো দিয়ে উইন্ডোজের রেজিস্ট্রিতে পরিবর্তন করতে বলে – এগুলো হতে সাবধান। এ গুলো আপনার পিসিতে ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে দেয়! Microsoft স্পষ্টভাবে উইন্ডোজ ১০ এর জন্য রেজিস্ট্রি ক্লিনার ব্যবহার সমর্থন করে না।

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নতুন আপডেট চলে আসলে তৎক্ষনাৎ ইন্সটল করে নিতে সুপারিশ করে মাইক্রোসফট। তাই, নতুন কোন আপডেট আসলে নিয়মিত বিরতিতে চেক করে দেখা উচিত। আসলে, এটা একটা অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। এ জন্য, উইন্ডোজের Settings এ গিয়ে Update সেকশনে যান এবং দেখুন যে, নতুন কোন আপডেট আছে কিনা। কারণ, কোন কোন আপডেটে পিসির হার্ডওয়্যার ড্রাইভারের নতুন আপডেট থাকতে যাবে, যা পিসির স্পীডকে অকল্পনীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুন আপডেট আসার পরও আপনি এই আপডেটকে বিলম্বে ইন্সটল করতে পারেন। আর, এটিও Settings থেকে সম্পন্ন করা যায়।

১.
টিউনিং উইটিলিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা

Windows - Run a Tune-Up Utility

উইন্ডোজ ১০ এর জন্য থার্ড-পার্টি ইউটিলিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভাল পাওয়া যায়। তবে, ইউটিলিটি সফটওয়্যার বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কেননা, টিউট-আপ অ্যাপগুলোর মধ্যে কিছু কিছু অ্যাপ আপনার পিসিতে ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে থাকে। যদিও এই অ্যাপগুলো পিসির স্পীড ও পারফরমেন্স ভাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।

Iolo System Mechanic, AVG TuneUp, Ashampoo WinOptimizer এর মত অ্যাপগুলো উইন্ডোজ ১০ পিসির পারফরমেন্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত।

২.
অকেজো অ্যাপ আনইন্সটল করুন

Windows - Limit Startup Processes

আমাদের দেশে সাধারণতঃ যে প্রতিষ্ঠান থেকে পিসি ক্রয় করা হয়, সেখান থেকে উইন্ডোজের সাথে আরও অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইন্সটল করে দেয়া হয়। এর পরিবার ৪/৫ থেকে শুরু করে ২০/২৫টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই অ্যাপগুলোর কিছু আবার পপ-আপ নোটিফিকেশন দেখায়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন রুটিন কাজে বিরক্তির সৃষ্টি করে।

আপনি স্টার্ট মেনু থেকে যেকোন অবাঞ্ছিত অ্যাপ’র আইকনে রাইট-ক্লিক করে আনইনস্টল বাটনে ক্লিক করে অ্যাপটি ডিলিট করে দিতে পারেন। এছাড়া, স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে টাইপ করুন “Programs and Features”, অথবা, Cortana সার্চ বক্সে শুধু “Programs” লিখে সার্চ দিয়েও অ্যাপ আনইন্সটল সেকশনে যেতে পারেন।

৩.
স্টার্টআপ প্রসেসগুলোকে যতদূর সম্ভব কমিয়ে রাখা

windows 10 - limit startup processes

পূর্বের পয়েন্টে উল্লেখ করেছি যে, উইন্ডোজে ইন্সটল হওয়ার সময় কিছু অ্যাপ সাইড প্রসেস ইনস্টল করে যা প্রতিবার আপনার পিসি চালু করার সময় চালু হয়। এগুলোর কোন কোনটা কোন কাজে আসে না। উইন্ডোজ ৭ (Windows 7) এ সিস্টেমে এর উইটিলিটি MSCONFIG ব্যবহার করে এগুলোকে প্রয়োজন মত চালু বা বন্ধ করে নেয়া যায়। Windows 10 (এবং এর আগে Windows 8.x) এ স্টার্টআপে কি থাকবে বা না থাকবে, তা টাস্ক ম্যানেজার থেকে সেরে নেয়া যায়।

টাস্ক ম্যানেজার চালু করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল Ctrl-Shift-Esc চাপ দেয়া। Startup ট্যাবে স্যুইচ করুন, এবং আপনি উইন্ডোজ স্টার্টআপে লোড হওয়া সমস্ত প্রোগ্রাম দেখতে পাবেন। ডায়ালগ বক্সে এমনকি একটি কলাম রয়েছে যা আপনাকে প্রতিটি অ্যাপ কখন লোড হয়, সেটাও দেখায়।

Status কলামে দেখায় যে প্রোগ্রামটি স্টার্টআপে চালু হওয়ার জন্য Enabled করা আছে কিনা। এই স্ক্রিন থেকে যে কোন অ্যাপের প্রোপার্টি পরিবর্তন করতে পারবেন। স্টার্টআপে চালু না করতে চাইলে, অ্যাপের নামের পাশে যে কোন জায়গায় right-click করতে পারেন এবং কনটেক্সট মেনু থেকে Disable অপশনে ক্লিক করুন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনও আইটিউনস ব্যবহার না করেন, তাহলে আপনি iTunesHelper অ্যাপটিকে স্টার্টআপে চালু না হওয়ার জন্য Disable করে দিতে পারেন।

৪.
ডিস্কগুলোর স্পেস ফাঁকা রাখুন, যত দূর সম্ভব

স্টার্ট মেনু থেকে Disk Cleanup টাইপ করুন। ডিস্ক ক্লিনআপ ইউটিলিটি উইন্ডোজের একটি উপকারী উইটিলি অ্যাপ। এটি আগের বেশ কয়েকটি প্রজন্ম থেকে উইন্ডোজের অংশ। ডিস্ক ক্লিনআপ আপনার পিসিতে অস্থায়ী ফাইল, অফলাইন ওয়েব পেজ এবং ইনস্টলার ফাইলের মতো অবাঞ্ছিত ফাইল খুঁজে পায় এবং সেগুলি একবারে মুছে ফেলার জন্য সাজেশন দেয়। আপনার ড্রাইভে ফ্রি স্পেস কমে গেলে সাধারণত কম্পিউটারের স্পিডের উপরে একটি লক্ষণীয় প্রভাব ফেলে।

যদি আপনার ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টেশন নিয়মিতভাবে নির্ধারিত না থাকে, তাহলে সেটিকে Optimize Drives টুলে সেট আপ করুন, যা আপনি Start বোতামের পাশে Cortana অনুসন্ধান বাক্সে এর নাম টাইপ করে খুঁজে পেতে পারেন। মনে রাখবেন যে, আপনার প্রধান ডিস্ক যদি SSD হয়, তাহলে আপনার ডিফ্র্যাগিং নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না, যেহেতু ডিস্কটিতে HDD এর মত কোন চলমান অংশ নেই।

আপনার ডিস্কের স্টোরেজ কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার উপরে নজর রাখার আরও একটি নতুন উপায় হল Storage Sense অপশন সক্রিয় করা (উপরের ছবিটি দেখুন)। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্থায়ী ফাইল এবং রিসাইকেল বিন আইটেমগুলি সরিয়ে স্থান খালি করে।

৫.
বেশী র‍্যাম লাগান

Add more RAM

Windows 10 অপারেটিং সিস্টেম এর আগের সংস্করণগুলির তুলনায় মেমরিকে আরও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে, তবে আরও বেশি মেমরি (RAM) পিসি’র অপারেশনগুলিকে দ্রুততর করতে পারে। আজকের অনেক উইন্ডোজ ডিভাইসের জন্য, যেমন সারফেস প্রো ট্যাবলেটে অতিরিক্ত র‍্যাম যুক্ত করার কোন অপশন নাই। গেমিং এবং বিজনেস ল্যাপটপগুলি প্রায়শই অতিরিক্ত র‍্যাম লাগানোর সুবিধা থাকে, তবে র‍্যামের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এটি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। নতুন, পাতলা আল্ট্রাবুক এবং রূপান্তরযোগ্য ডিভাইসগুলো সাধারণত ফিক্সড র‍্যাম লাগানো থাকে। নতুন র‍্যাম লাগাতে চাইলে দেশীয় পিসি রিটেইলারদের ওয়েবসাইট থেকে আপনার পিসি’র উপযোগী র‍্যাম ও তার দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

যদি র‍্যাম লাগানো ব্যয়বহুল হয়, এবং আপনার কম্পিউটারটি খুব পুরানো হয়, পিসি’র সাথে SSD এর পরিবর্তে হার্ড ড্রাইভ থাকে, এবং আবার র‍্যামও কম, তবে, আপনি একটি USB স্টিক দিয়ে ReadyBoost ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন। এটি পোর্টেবল স্টোরেজ ডিভাইসের স্টোরেজের মেমরি অ্যাক্সেসের গতি বাড়ানোর জন্য ডেটা ক্যাশ করে, যা সাধারণত: স্পিনিং হার্ড ড্রাইভের ক্ষেত্রে ধীরে কাজ করে।

ফাইল এক্সপ্লোরার থেকে USB ড্রাইভ এন্ট্রিতে যান, Properties খুলতে রাইট-ক্লিক করুন এবং ReadyBoost ট্যাব সিলেক্ট করুন

তবে, নতুন পিসি’র ক্ষেত্রে ReadyBoost ব্যবহার করে ভাল পারফরমেন্স পাওয়া যাবে না।

৬.
SSD থেকে সিস্টেম বুট করা

Install an SSD Startup Drive

অ্যাডোব ফটোশপের মতো বড় অ্যাপ্লিকেশনগুলি লোড করা এবং ব্যবহার করার ক্ষেত্রে SSD ব্যবহার করলে দ্রুত কাজ করা যায়। শুধু তাই নয় এটি উইন্ডোজ স্টার্টআপকে অভূতপূর্ব দ্রুততা এনে দেয়। Setting থেকে Apps and Features পেজের মাধ্যমে Windows Store অ্যাপগুলোকে HDD থেকে দ্রুততার সাথে SSD তে স্থানান্তর করে নেয়া যায়।

সিস্টেমকে দ্রুততর করতে পিসিতে যদি হার্ডডিস্ক লাগানো থাকে, তবে তার পরিবর্তে চোখ বন্ধ করে SSD লাগানো উচিত। আর, ল্যাপটপের জন্যও একই পরামর্শ দেয়া হয়। যে সব অ্যাপ ইন্সটল করা ও চালানোর জন্য প্রচুর স্টোরেজের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে USB 3.0 কানেকশনযুক্ত এক্সটারনাল SSD নিলে সুবিধা পাওয়া যাবে।

৭.
পিসি থেকে ভাইরাস ও স্পাইওয়্যার দূর করা

Check for Virus and Spyware

উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে ডিফল্ট ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যানার হিসেবে Windows Defender ইন্সটল করা থাকে। এ কাজে থার্ড-পার্টি অ্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। PCMag এর সিকিউরিটি গুরু Neil Rubenking পছন্দ করেন Malwarebytes Anti-Malware – এটা বিনামূল্যে ডাউনলোড করে চালাতে পারবেন। কিন্তু চলমান অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার সুরক্ষা ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

ডিফেন্ডার চালু থাকা অবস্থায় থার্ড-পার্টি AV চালাতে উইন্ডোজ স্লো হবে না, কারণ, এরা সিস্টেমের কম রিসোর্স ব্যবহার করে – এভাবে তৈরী করা হয়েছে।

অবশ্য, রুবেনকিং Bitdefender এবং Kaspersky এর AV সফ্টওয়্যারকেও ৪.৫ স্টার-রেটেড এডিটরস চয়েস প্রদান করেন।

৮.
Power Settings কে High Performance থেকে Optimize Speed এ পরিবর্তন করা

Change Power Settings to High Performance to Optimize Speed

আপনি যদি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চান তবে এটি একটি ভাল অপশন না, তবে এটি আপনার পিসির কম্পিউটিং গতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। Settings অ্যাপের Sytem > Power & Sleep অপশনে যান এবং তারপরে Additional power settings লিঙ্কে ক্লিক করুন। এখান থেকে, Show additional plans টি ক্লিক করুন, ডান দিকের ড্রপডাউন তীরটিতে ক্লিক করুন এবং তারপরে High Performance ক্লিক করুন৷

৯.
মাঝে মাঝে ট্রাবলসুটার চালান

Run Troubleshooters

Settings অ্যাপ খুলে troubleshoot টাইপ করে সার্চ দিন। উইন্ডোজ ট্রাবলসুটিং ইউটিলিজের একটা লিস্ট দেখাবে যেগুলোকে থেকে পছন্দের একটি ট্রাবলসুটার অ্যাপকে আপনি অটোমেটিক্যালি বা ম্যানুয়ালি রান করাতে পারেন। ভাল হয়, এর সাথে Search and Indexing, Hardware and Devices এবং Windows Store Apps নামের অন্যান্য ট্রাবলসুটারগুলোও রান করান।

এছাড়াও পুরাতন-স্টাইলের Control Panel থেকে Sytem এ গিয়ে Security > Security and Maintenance পেজে যান (অথবা, Start মেনু সার্চ বক্স থেকে shudhu maintenance টাইপ করতে পারেন), Maintenance এ ক্লিক করুন, এবং Start Maintenance এ হিট করুন।

কাজের সুবিধার জন্য, এই ট্রাবলসুটারগুলো আপনার পছন্দমাফিক সময়ে সিডিউলার দিয়ে অটোমেটিক্যালি চালু করতে পারেন।

১০.
Performance Options এর বহিরাবরণ (Appearance) পরিবর্তন করুন

Change Appearance in Performance Options

খুব তাড়াতাড়ি Performance Options এ যেতে চাইলে Start মেনু’র সার্চ বক্স এ appearance লিখে সার্চ করুন। যে ডায়ালগ আসবে, সেখানে উপরের দিকে Adjust for best performance লেখা রেডিও বাটন সিলেক্ট করতে পারেন, অথবা, এই রেডিও বাটনের নীচে থাকা অনেকগুলো চেকবক্সবিশিষ্ট অপশন পাবেন – সেগুলোর মধ্যে আপনার যেগুলো না হলেই না শুধুমাত্র সেগুলো সিলেক্ট করতে পারেন।

আপনি যদি best-performance বাটনটি বেছে নেন, তবে আপনি সমস্ত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টগুলো হারাবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটা উইন্ডোকে drag করেন, তবে শুধু এর বাউন্ডারী বক্সকে দেখতে পাবেন – এর ভিতরের যাই থাকুক না কেন, তা আর দেখতে পাবেন না।

আমার মনে হয়, সব চেয়ে ভাল হয়, চেকবক্স থেকে মিনিমাম যে ইফেক্টগুলো না হলেই না শুধুমাত্র সেগুলো বেছে নেয়াটা উত্তম পলিসি হতে পারে।

উইন্ডোজে এই টুলটির পেজ সহজে খুলতে হলে নতুন Settings app থেকে maintenance বা performance লিখে সার্চ দিন।

১১.
সার্চ ইন্ডেক্সিং (Search Indexing) বন্ধ রাখা

Turn of Search Indexing

যে সব পিসিগুলি দূর্বল কনফিগারেশনের, সেগুলোতে সার্চ ইনডেক্সিং সিস্টেম উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সব রিসোর্স খেয়ে ফেলতে পারে। আপনি যদি অনেক বেশি সার্চ করেন, তবে এটি আপনার কাছে তেমন কিছুই মনে হবে না, তবে কিছু সার্চের ক্ষেত্রে ধীর মনে হবে৷ সার্চ ইন্ডেক্সিং বন্ধ করতে হলে, Indexing Options Control Panel উইন্ডো খুলুন (স্টার্ট বাটনের সার্চ বক্সে indexing লিখে সার্চ দিলে সার্চ লিস্টের উপরের দিকে Indexing Options দেখতে পাবেন)। Modify এ ক্লিক করুন এবং আপনি ইনডেক্স করতে চান না এমন সব ড্রাইভ বা লোকেশনগুলোকে আনচেক করে দিন। এছাড়াও, Advanced এ ক্লিক করে আপনি এর ডায়ালগ বক্স থেকে যে সব ফাইল টাইপ সার্চ এ অন্তর্ভূক্ত করতে চান বা চান না, সেটিও সিলেক্ট করে দিতে পারবেন।

ইন্ডেক্সিং চান থাকা অবস্থায় যদি পিসির পারফরমেন্সকে স্লো মনে হয়, তবে সাময়িকভাবে ইন্ডেক্সিং প্রসেসটা বন্ধ রাখতে চাইতে পারেন। ডেক্সটপে থাকা This PC তে রাইট-ক্লিক করুন (অথবা, Search বক্সে এসে Computer টাইপ করতে পারেন), এবং Manage সিলেক্ট করুন। এবার, Services and Applications এ ডাবল-ক্লিক করুন, এবং Services এ ক্লিক করুন।

Windows Search খুঁজে বের করুন, এবং এর উপরে ক্লিক দিন। Properties ডায়ালগ বক্সটা পাবেন। এখান থেকে Startup টাইপ হিসেবে Manual অথবা Disabled সিলেক্ট করুন। মাইক্রোসফট তাদের ডকুমেন্টেশনে বলছে যে, Automatic startup টাইপের চাইতে Automatic (Delayed Start) startup টাইপ সিলেক্ট করাটা অপেক্ষাকৃত ভাল, কারণ, এই অপশনটা সিস্টেমের বুট পারফরমেন্সের জন্য সামগ্রিকভাবে ভাল রেজাল্ট দেয়। আর, এই অপশনটা ডিফল্ট হিসেবে চালু রাখাটাই উত্তম হবে।

পরিশেষ, ডান-দিকের প্যানেলে More options এ যাব, এবং Stop এ ক্লিক করব। অবশ্য, এই Stop বাটন কিন্তু, আগের পেজেও পাবেন, মাঝে উপরের দিকে।

সার্চ ইন্ডেক্সিং বন্ধ করে দেয়ার পর পুনরায় দ্রুততার সাথে সার্চ করার প্রয়োজন পড়লে, এই অপশনটিকে পুনরায় চালু করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু।

১২. টিপ্স এবং নোটিফিকেশন (Tips and Notifications) বন্ধ রাখা

Turn off tips and notifications

উইন্ডোজ ১০ এর Tips ফিচারটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিলে আপনি হয়ত ভাবছেন, আমি খুব ভাব নিচ্ছি কিনা! বিশ্বাস করেন, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের কোন অংশে ইউজার রয়েছে, সে অনুযায়ী কনটেক্সট বুঝে টিপ্স দিতে উইন্ডোজকে যথেষ্ট রিসোর্স ব্যয় করতে হয়। Notifications এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই ফিচারটি বন্ধ রাখলে, পিসির পারফরমেন্স ভাল পাবেন। নোটিফিকেশন ফিচার ব্যবহার করে এমন যত বেশি অ্যাপ উইন্ডোজে ইন্সটল করা হবে, ইউজারের সামনে নোটিফিকেশন প্রদর্শন করতে তত বেশি কম্পিউটিং পাওয়ার খরচ করতে হবে।

সহজ হিসাব, তাই না। নোটিফিকেশন সেটিং পরিবর্তন করতে হলে Settings অ্যাপের Notifications & actions page পেজ খুলুন। যে সব অ্যাপ নোটিফিকেশন ফিচার ব্যবহার করতে পারে – এখানে এমন একটা লিস্ট পাবেন। যে অ্যাপগুলো থেকে নোটিফিকেশন দেখতে চান না সেগুলো আনচেক করে দিন।

নোটিফিকেশন বন্ধ করার একটি সহজ উপায় হল Action Center এ “Focus Assist” বোতামে ট্যাপ করা। নোটিফিকেশন পুনরায় চালু করতে চাইলে এই বাটনে চাপ দিন, চালু হয়ে যাবে।

ক্যাটাগরিঃ টিউটোরিয়াল
ট্যাগঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.