শিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর সহজ কৌশল

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaকিডসশিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর সহজ কৌশল
Advertisements

যখন ৬ বছরের পা দিবে, তখন আপনার শিশুকে তার স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস রপ্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে। এ সময়ে তাকে অবশ্যই একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া উচিত। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ শোনা যায়, শিশুর পড়ার আগ্রহ কম। তবে জেনে রাখা ভালো এ বয়সে শিশুরা কিন্তু খেলতে বেশি পছন্দ করে। তাই তাকে খেলার ছলে পড়াতে হবে। খেলার সময় তাকে কবিতা শোনাতে পারেন। এ সময় শিশুরা শুনে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে।

আপনার শিশুর মধ্যে হয়তো সৃজনশীল অনেক মেধা লুকিয়ে আছে। সন্তানের সৃজনশীল মেধাকে বিকাশিত করার জন্য এই অভিভাবকদের সৃজনশীল বিভিন্ন কৌশল খুঁজে বের করতে হয়। শিশুর পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য প্রথম ধাপেই তার সঙ্গী পেনসিল, খাতা, রাবার, স্কেল, ব্যাগ ও পড়ার টেবিল গুছিয়ে ফেলতে হবে।

শিশুর পড়ালেখার জন্য আগ্রহের একটি কেন্দ্রবিন্দু থাকে তার পড়ার টেবিল। তাই পড়ার টেবিলটির প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। শিশুর পড়ার টেবিলটি সাজিয়ে দিন।

আসুন জেনে নেই শিশুর লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে কী কবরেন?

রঙিন ব্যাগ, খাতা ও নতুন রং পেনসিল বক্স

শিশুরা সাধারণ বিভিন্ন জিনিস আকতে ও রং করতে পছন্দ করে। শিশুদের কাছে স্কুলে যাওয়া-আসা ও পড়ায় মনোযোগ বাড়তে নতুন ও রঙিন সব নতুন ব্যাগ, খাতা আর নতুন রং পেনসিল বক্স উপহার দিন। তাকে বিভিন্ন জিনিস এঁকে দিন এ রং করতে সাহায্য করুন।

পড়ার টেবিল

Child reading on table

শিশুর পড়ার টেবিল ঘুছিয়ে রাখুন। পড়ার টেবিলে একটি ফুলদানি, বইগুলো গুছিয়ে রাখা, একটি পানির পট, রং পেনসিল ও পুতুল ও খেলনা রাখতে পারেন। এতে শিশুর মেধা বিকাশ ও কোমল মনে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি করে। এছাড়া পাখির আকৃতির কিংবা মাছের আকৃতির ব্যাগ শিশুকে আকৃষ্ট করে স্কুলে যাওয়ার জন্য।

ছবি আঁকা

Child drawing picture

শিশুকে নিজের মতো করে ছবি আঁকতে দিন। কখনো ভাববেন না, সময় নষ্ট হচ্ছে। ছবি আঁকা শিশুর মেধা বিকাশে সাহায্য করে।

খেলাধুলা ও ভ্রমণ

Child playing with toys

শিশুরা ঘুরতে ও খেলাধুলা করতে পছন্দ করে। তাই বিকালবেলা তাকে খেলার জন্য সময় বের করে দিন। এছাড়া সময় পেলে তাকে নিয়ে শিশুপার্ক বা পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন।

ছোট নির্দেশ

লেখার সময়ে ওকে ছোট ছোট নির্দেশ দিন। প্রথমে তিনটা দিয়ে শুরু- যেমন ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ‘পয়েন্টগুলোকে জুড়ে দাও, রং দিয়ে আউটলাইন টানো, ভিতরটা রং করো।’ আস্তে আস্তে নির্দেশের সংখ্যা বাড়াতে থাকুন আর দেখুন ও কতটা মনে রাখতে পারছে। বাড়িতে নির্দেশ মতো ঠিকঠাক কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুললে স্কুলেও শিক্ষকদের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না।

শিশুর পছন্দের জিনিসগুলো কোথায় পাবেন

যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, বায়তুল মোকাররম, মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন মার্কেটে শিশুর পছন্দের জিনিসগুলো কিনতে পারবেন।

গল্প বলা

শোয়ার আগে কিছুটা সময় থাক গল্প বলার জন্য। অভিনয় করে গল্প বললে ওরা আগ্রহী হবে। গল্পের মাঝেই ওকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। এতে খুদে শ্রোতাটির ধৈর্য ধরে শোনার প্রবণতাও তৈরি হয়। মনোযোগ বাড়াতে গল্প শোনানোর ভূমিকা বিরাট।

সাথে বসে নিজেও পড়ুন

শিশুদের পড়াতে গেলে দেখা যায়, তাদের পড়ে পড়ে পড়াতে হচ্ছে। তা না করে, নিজে বরং অন্যকিছু অর্থাৎ ভাল ভাল ও প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারন করে ধর্মীয় বা সামাজিক বিষয়ের বই পড়ুন। আপনার পড়া দেখে শিশুটিও তার পড়া পড়তে উৎসাহ বোধ করবে। আর তার নিজের পড়াটা নিজের করাই উত্তম।

মা-বাবার দায়িত্ব

বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন। আর ওর কথা মন দিয়ে শুনুন। মা-বাবা ধীরস্থির হয়ে, মন দিয়ে বাচ্চার কথা শুনলে স্বভাবতই ওর অতিরিক্ত ছটফটে ভাব কমে আসবে। ওর হোমওয়র্ক ওকেই করতে দিন। স্কুলে বকুনি খাওয়ার ভয়ে নিজেরা করে দেবেন না। এতে ও পড়ার গুরুত্ব বুঝতে পারবে।

বাচ্চাদের সামনে টেনশন করবেন না, আতঙ্কে ভুগবেন না। ওর সামনে অন্তত মনের ভাব চেপে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন। না হলে ওর মধ্যেও এক ধরনের অস্থিরতা জন্ম নেবে। বাড়ির পরিবেশ যদি শান্ত স্বচ্ছন্দ থাকে, বাচ্চার স্বভাবেও তার প্রভাব পড়ে।

ক্যাটাগরিঃ কিডস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.