টনসিলের ব্যথার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারে করণীয়

HelloBanglaWorld - Know Everything in Banglaস্বাস্থ্যটনসিলের ব্যথার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারে করণীয়

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকে ঠাণ্ডাজনিত অসুখ-বিসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই ঠাণ্ডা-কাশি, জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ গলা ব্যথা, টনসিলের ব্যাথাসহ (Tonsillitis) এ সংক্রান্ত সমস্যাতেও ভূগছেন। সাধারণত সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাসগুলোই টনসিলের সংক্রমণ বাড়ায়।

টনসিলের ব্যথার কারণ

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টনসিলাইটিস হয়ে থাকে কমন কোল্ড বা অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণের কারণে।
  • ১৫-২০ ভাগ টনসিলাইটিসের কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়াকে।
  • স্ট্রেপ্টোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার (Streptococcal bacteria) কারণে স্ট্রেপ্টো থ্রোট নামক রোগ হয়। এই রোগের লক্ষণকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

টনসিলের লক্ষণসমূহ

টনসিলাইটিসের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে, টনসিল ফুলে যাওয়া এবং ঢোক গিলতে ব্যাথা হওয়া, কখনও কখনও আপনার মুখের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া কঠিন করে তোলে। অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ২ দিনের বেশি সময় গলায় ব্যাথা থাকে এবং খাবার গিলতে ব্যাথা হয়।
  • গলা ফুলে যায় এবং মাঝে মাঝে গলা ফুলে পুঁজ হয়েছে মনে হয়।
  • গলার স্বরে পরিবর্তন আসে।
  • স্ট্রেপ্টোকক্কাল টন্সিলাইটিসের ক্ষেত্রে শিশুদের জ্বর, মাথা ব্যাথা, পেটে ব্যাথা হয়।
  • খাবারে অরুচি দেখা দেয়।
  • মাথা ব্যাথা
  • জ্বর এবং সর্দি
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

টনসিলের ব্যাথায় কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যায় । তবে যদি নিজ থেকে ঠিক না হয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। ৩-৪ দিনের বেশি সময় ধরে গলা ব্যাথা থাকলে, জ্বর আসলে এবং গিলতে ব্যাথা করতে থাকলে সমস্যা মারাত্মক হয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিলে এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে থাকলে টন্সিলাইটিস ভালো হয়ে যাবে।

তবে কেউ যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহন না করে এবং চিকিৎসকের উপদেশ মেনে না চলে তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ হয়ে থাকে, যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রে Chronic tonsillitis বলে।

এই দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন যদি বছরে চার-পাঁচবার করে পরপর দুই বছর হয়, তবে অসুস্থ টনসিল অপারেশন করিয়ে নেয়াই ভালো।

টনসিলের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি

১. লবন পানি দিয়ে কুলিকুচি করা

গলা ব্যথা শুরু হলে অনেকেই হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলিকুচি করে। এটি টনসিলের সংক্রমণ রোধ করে ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। শুধু তাই নয়, গরম পানি ও লবণ মিশিয়ে কুলিকুচি করলে গলায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কাও কমে যায়।

২. গ্রিন টি ও মধু

দেড় কাপ পানিতে আধা চামচ গ্রিন টিয়ের পাতা আর এক চামচ মধু দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এ বার ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে ওই চা পান করুন। গ্রিন টি’তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সব রকম ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ পরিমাণে এ মধু-চা পান করলে উপকার পাবেন।

৩. আদা কুচি দিয়ে চা পান

দেড় কাপ পানিতে এক চামচ আদা কুচি আর চা পাতা দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার এটি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরী উপাদান সংক্রমণ ছড়াতে বাঁধা দেয়। সেই সঙ্গে গলা ব্যথাও কমায়।

৪. গরম দুধে হলুদ গুড়া পানিয়

এক কাপ গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিন। ছাগলের দুধে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান টনসিলের ব্যথা দূর করতে বেশ কার্যকরী। অবশ্য গরুর দুধেও সামান্য হলুদ মিশিয়ে গরম করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া হলুদে থাকা অ্যান্টিইনফ্লামেটরী, অ্যান্টিব্যায়টিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান গলা ব্যথা দূর করে টনসিলের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

৫. উষ্ণ পানিতে লেবুর রস, মধু ও লবণ পানিয়

২০০ মিলিগ্রাম উষ্ণ পানিতে এক চামচ পাতিলেবুর রস, এক চামচ মধু, আধা চামচ লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। যত দিন গলা ব্যথা ভালো না হয়, তত দিন পর্যন্ত এ মিশ্রণটি সেবন করলে উপকার পাবেন।


গবেষণা সহায়তায় জি নিউজ, mytonic, webmd

ক্যাটাগরিঃ স্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.